January 25, 2016 1:02 pm A- A A+

“আফজালকে এজাহার থেকে বাদ দিয়ে দাও। আফজাল সাদেক আবদুল্লাহর রাজনীতি করে”

ওসি কাহিনী- ১ ওসি’র কারণে মৃত্যু যাত্রায় বাপ্পী “আফজালকে এজাহার থেকে বাদ দিয়ে দাও। আফজাল সাদেক আবদুল্লাহর রাজনীতি করে” সৈয়দ মেহেদী হাসান রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকা-না থাকার প্রসংগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উঠে এলেও সেই আলোচনা বন্ধ করার বিশেষ কোন উদ্যোগ প্রশাসনিক এলাকায় চোখে পরে না। সে হিসেবে যে কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদলী বা দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের উপর এমন কথা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তেমনি অভিযোগে অভিযুক্ত একটি বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাধীন বন্দর থানা। মূল শহর থেকে পূর্ব দিকে নদী বেষ্টিত এই প্রশাসনিক এলাকায় অপরাধী এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের গলায় গলায় ভাব। যে কারনে থানাটিকে সবাই “নাম্বারী থানা” হিসেবে চেনে। আর এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলে তার যে চতুরদিকের সুযোগ সুবিধা ও স্বেচ্ছাচারীতার পোয়াবারো সেকথা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন মাহাবুবুল আলম। প্রসংগত বলে নেয়া ভাল এই কর্মকর্তার ‘ওসির ক্ষমতা’ প্রয়োগে ইতিমধ্যে তার কাছে আত্মসমর্পন করেছে বরিশাল সিটিকর্পোরেশন। কারণ নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের জিয়া সড়কের খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন বেপরোয়া ভাবে। স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে সিটিকর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা আইনগত চিঠি চালাচালি করা হলেও বেপরোয়া এই ওসির বিরুদ্ধে সুবিধা করে উঠতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন। এবার ওসি মাহাবুবুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার উদাসীনতার কারণে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন রাব্বী নামক ৩০ বছরের এক যুবক। তার অপরাধ ছিল ওসির কথামত রাব্বীদের উপরে হামলাকারীদের মামলা থেকে বাদ দেয়নি। একারণে তাদেরকে ক্রসফায়ারের হুমকী সহ বিভিন্ন মামলায় ফাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যে মূল নায়কের নির্দেশে রাব্বী আজ মৃত্যু পথযাত্রী সেই সন্ত্রাসী আফজালকে “সাদিক আবদুল্লাহর লোক” বলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ উঠিতে নিতে বলেন। তবে ওসির সাথে কথা বললে ওসি বিষয়টি প্রতিবেদককে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান। বাংলাদেশ বাণীর কাছে ওসি এবং রাব্বীর একটি মোবাইল ফোনের ওডিও রেকর্ড এসেছে যেখানে স্পষ্টতই রাব্বীকে বিভিন্ন ধরণের হুমকী দিচ্ছে বন্দর থানার ওসি মাহাবুবুল আলম। ঘটনার সূত্রপাত ১ ডিসেম্বর ২০১৫। বন্দর থানা এলাকার রাজারহাটে তথাকথিত আওয়ামীলীগ নেতা আফজাল হোসেনের বাড়ির সামনে একটি ব্রীজ নির্মাণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় দু’পক্ষের মধ্যে। জানা যায়, ২৮ লক্ষ টাকার টেন্ডারে ঐ ব্রীজটি নির্মানের দায়িত্ব পায় কহিনুর এন্টারপ্রাইজ। ব্রীজের নির্মান কাজের মাটি সাপ্লাই দেয়ার সাব কন্ট্রাক্ট নেয় চাঁদপুরা ইউনিয়নের চরপত্তনীয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বাহাদুর ও খোকন খান। আফজাল হোসেনও ঐ একই এলাকার তথাকথিত আ.লীগ নেতা। হাবিবুর রহমান বাহাদুর জানান, ১ ডিসেম্বর ২০১৫ আফজাল হোসেন আমাদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন, কারণ জানতে চাইলে তিনি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। বাহাদুরের ভাষ্যানুযায়ী ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার সাব কন্ট্রাকে এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আফজালকে চাঁদা দিতে হলে আমাদের কিছুই থাকেনা। যে কারণে বাধ্য হয়ে আফজালকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করি। এই অস্বীকারে ক্ষুদ্ধ হয়ে ঐদিনই আমার ব্যবসায়ীক পার্টনার খোকন খানকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। আমি খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোকনকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওয়ানা দেই। পথিমধ্যে আমাদের উপরও হামলা চালায় আফজাল। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাহাদুরের পায়ে জখম হয়। জানা যায় ঐ জখম নিয়ে ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর বন্দর থানায় অভিযোগ পত্র দালিখ করতে যান হাবিবুর রহমান বাহাদুর সহ তার পার্টনাররা। কিন্তু ওসি মাহাবুবুল আলম শ্রেফ জানিয়ে দেন আফজালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বন্দর থানায় গ্রহণ করা হবে না। এ ঘটনার পর পর হাবিবুর রহমান বাহাদুর নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ঘটনার ৭দিন পরে ৮ ডিসেম্বর অভিযোগপত্রটি (মামলা নং- ৪/১৬) গ্রহণ করে ওসি মাহাবুবুল আলম। মামলা গ্রহণ করলেও থানায় বসেই ঘটনার শিকার বাহাদুর ও খোকন খান সহ অন্যান্যদের শাসিয়ে দেয় এই অভিযোগ তুলে না নিলে পুলিশ তাদের ক্রসফায়ার দিতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার ৪ নম্বর আসামী সজিবকে গ্রেফতার করে বন্দর থানার পুলিশ। এই ঘটনার ৩৭ দিন পরে চাঁদপুরা ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় বন্ধুর সাথে দেখা করতে যায় বাহাদুরের ঔ মামলার ২নং স্বাক্ষী রসুলপুরের বাসিন্দা বাপ্পী। তার সংগে ছিল বাদল ফকির। এর পূর্বে বাপ্পীকে আফজাল হোসেন বেশ কয়েক মাধ্যমে স্বাক্ষী না দেয়ার হুমকী দিয়ে আসছিল। এব্যাপারেও থানায় জিডি করতে গিয়েছিল বাপ্পী। তখন জিডি নেননি ওসি, উল্টো শাসিয়ে দিয়ে বলেছে এলাকা ছেড়ে যাও। আফজাল ভাই সাদেক ভাইয়ের লোক। জানা গেছে ১৮ জানুয়ারী সন্ধ্যায় বাপ্পীর বন্ধু জুম্মান বেপারীর সাথে দেখা করতে রাজারহাটে যায় সে। এ সংবাদ পৌঁছে যায় আফজালের কাছে। আফজালের নেতৃত্বে তার স্বসস্ত্র বাহিনী বাপ্পী, বাদল ফকির এবং জুম্মান বেপারীকে উপুর্যপরি কুপিয়ে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। ঐ ঘটনায় বাদল ফকির এবং জুম্মান বেপারীর অবস্থার উন্নতি হলেও শেবাচিম হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে পূর্বের মামলার ২নং স্বাক্ষী বাপ্পী। এ ঘটনায়ও বন্দর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার ভয়াবহতা অধিক হওয়ায় এই মামলাটি সহজে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করলেও মুঠোফোনে বাপ্পীকে চলতে থাকে ওসি’র হুমকী-ধামকী। বাপ্পী যখন শেবাচিম হাসপাতালের বেডে তখন বন্দর থানার ওসি নিজেই একদিন ফোন করেন। ওসি বাপ্পীকে শুরুতেই বলেন আফজালকে এজাহার থেকে বাদ দিয়ে দাও। আফজাল সাদেক আবদুল্লাহর রাজনীতি করেন। আমি যতদূর জানি ওই দিন আফজাল বরিশালে ছিলেন। বাপ্পী ওসি’র কথার উত্তরে বলেন, আমরাও সাদিক ভাইয়ের লোক। আফজালকে বাদ দিলে আমি বিচার চাইবো কার ? এ ব্যাপারে গতকাল মুঠোফোনে কথা হয় বন্দর থানার ওসি মাহাবুবুল আলমের সাথে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ধরণের কথা বলিনি। তবে প্রতিবেদকের কাছে ঐ কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে যেখানে তিনি একজন অপরাধীর পক্ষ নিয়ে নির্যাতিত বাপ্পীর সাথে কথা বলছিলেন এমন তথ্য জানালে ওসি নির্দিধায় স্বীকার করেন আফজাল আসলেই সাদিক আবদুল্লাহর লোক। পরবর্তীতে এই ঘটনায় উভয় গ্র“পই মিমাংশার জন্য অতি শীঘ্রই বসছেন সেজন্য মামলাটি নিয়ে আমি বেশী ভূমিকা রাখছিনা। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দোহাই দিয়ে একজন অপরাধীর পক্ষে কিভাবে ওসি কথা বলে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভাই দেখেন এই বাপ্পী, বাহাদুর এরা এমনিতেই নষ্ট লোক। মাদক ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারী ও ডাকাতি সহ বাহাদুরের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা এভিডেন্স ইতিমধ্যে আমার হাতে চলে এসেছে। ও যেকোন সময়ই ক্রসফায়ারে যেতে পারে বলে আবারো প্রতিবেদকের সাথে স্বীকার করেন। ওদিকে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া বাপ্পী জানান, এই ঘটনার শুরুতে যখন ওসি’র কাছে আমরা গিয়েছিলাম তখন তিনি আইনী পদক্ষেপ নিলে আমার এই অবস্থা হতো না। উল্লেখ্য, ১৮ জানুয়ারীর ওই হামলায় বাপ্পীর ডান পায়ের সমস্ত রগ এবং মুখোমন্ডল সহ মাথায় প্রায় ১০ জায়গায় মারাত্মক জখম হয়েছে। তার মা জানিয়েছেন সব সময়ই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাপ্পী বিলাপ করেন আমি আর বাঁচবোনা। এমনকি একই কথা স্বীকার করেছেন বন্দর থানার ওসি মাহাবুবুল আলম। তিনি জানান, বাপ্পী আমাকে ফোন করে বলেছিল স্যার আমিতো বাঁচবোনা আমাকে মাফ করে দিবেন।

সৈয়দ মেহেদী হাসান:

রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকা-না থাকার প্রসংগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উঠে এলেও সেই আলোচনা বন্ধ করার বিশেষ কোন উদ্যোগ প্রশাসনিক এলাকায় চোখে পরে না। সে হিসেবে যে কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদলী বা দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের উপর এমন কথা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তেমনি অভিযোগে অভিযুক্ত একটি বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাধীন বন্দর থানা। মূল শহর থেকে পূর্ব দিকে নদী বেষ্টিত এই প্রশাসনিক এলাকায় অপরাধী এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের গলায় গলায় ভাব। যে কারনে থানাটিকে সবাই “নাম্বারী থানা” হিসেবে চেনে। আর এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলে তার যে চতুরদিকের সুযোগ সুবিধা ও স্বেচ্ছাচারীতার পোয়াবারো সেকথা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন মাহাবুবুল আলম। প্রসংগত বলে নেয়া ভাল এই কর্মকর্তার ‘ওসির ক্ষমতা’ প্রয়োগে ইতিমধ্যে তার কাছে আত্মসমর্পন করেছে বরিশাল সিটিকর্পোরেশন। কারণ নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের জিয়া সড়কের খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন বেপরোয়া ভাবে। স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে সিটিকর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা আইনগত চিঠি চালাচালি করা হলেও বেপরোয়া এই ওসির বিরুদ্ধে সুবিধা করে উঠতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন। এবার ওসি মাহাবুবুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার উদাসীনতার কারণে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন রাব্বী নামক ৩০ বছরের এক যুবক। তার অপরাধ ছিল ওসির কথামত রাব্বীদের উপরে হামলাকারীদের মামলা থেকে বাদ দেয়নি। একারণে তাদেরকে ক্রসফায়ারের হুমকী সহ বিভিন্ন মামলায় ফাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যে মূল নায়কের নির্দেশে রাব্বী আজ মৃত্যু পথযাত্রী সেই সন্ত্রাসী আফজালকে “সাদিক আবদুল্লাহর লোক” বলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ উঠিতে নিতে বলেন। তবে ওসির সাথে কথা বললে

ওসি বিষয়টি প্রতিবেদককে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান। বাংলাদেশ বাণীর কাছে ওসি এবং রাব্বীর একটি মোবাইল ফোনের ওডিও রেকর্ড এসেছে যেখানে স্পষ্টতই রাব্বীকে বিভিন্ন ধরণের হুমকী দিচ্ছে বন্দর থানার ওসি মাহাবুবুল আলম। ঘটনার সূত্রপাত ১ ডিসেম্বর ২০১৫। বন্দর থানা এলাকার রাজারহাটে তথাকথিত আওয়ামীলীগ নেতা আফজাল হোসেনের বাড়ির সামনে একটি ব্রীজ নির্মাণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় দু’পক্ষের মধ্যে। জানা যায়, ২৮ লক্ষ টাকার টেন্ডারে ঐ ব্রীজটি নির্মানের দায়িত্ব পায় কহিনুর এন্টারপ্রাইজ। ব্রীজের নির্মান কাজের মাটি সাপ্লাই দেয়ার সাব কন্ট্রাক্ট নেয় চাঁদপুরা ইউনিয়নের চরপত্তনীয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বাহাদুর ও খোকন খান। আফজাল হোসেনও ঐ একই এলাকার তথাকথিত আ.লীগ নেতা। হাবিবুর রহমান বাহাদুর জানান, ১ ডিসেম্বর ২০১৫ আফজাল হোসেন আমাদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন, কারণ জানতে চাইলে তিনি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। বাহাদুরের ভাষ্যানুযায়ী ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার সাব কন্ট্রাকে এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আফজালকে চাঁদা দিতে হলে আমাদের কিছুই থাকেনা। যে কারণে বাধ্য হয়ে আফজালকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করি। এই অস্বীকারে ক্ষুদ্ধ হয়ে ঐদিনই আমার ব্যবসায়ীক পার্টনার খোকন খানকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। আমি খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোকনকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওয়ানা দেই। পথিমধ্যে আমাদের উপরও হামলা চালায় আফজাল। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাহাদুরের পায়ে জখম হয়। জানা যায় ঐ জখম নিয়ে ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর বন্দর থানায় অভিযোগ পত্র দালিখ করতে যান হাবিবুর রহমান বাহাদুর সহ তার পার্টনাররা। কিন্তু ওসি মাহাবুবুল আলম শ্রেফ জানিয়ে দেন আফজালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বন্দর থানায় গ্রহণ করা হবে না। এ ঘটনার পর পর হাবিবুর রহমান বাহাদুর নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে ঘটনার ৭দিন পরে ৮ ডিসেম্বর অভিযোগপত্রটি (মামলা নং- ৪/১৬) গ্রহণ করে ওসি মাহাবুবুল আলম। মামলা গ্রহণ করলেও থানায় বসেই ঘটনার শিকার বাহাদুর ও খোকন খান সহ অন্যান্যদের শাসিয়ে দেয় এই অভিযোগ তুলে না নিলে পুলিশ তাদের ক্রসফায়ার দিতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার ৪ নম্বর আসামী সজিবকে গ্রেফতার করে বন্দর থানার পুলিশ। এই ঘটনার ৩৭ দিন পরে চাঁদপুরা ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকায় বন্ধুর সাথে দেখা করতে যায় বাহাদুরের ঔ মামলার ২নং স্বাক্ষী রসুলপুরের বাসিন্দা বাপ্পী। তার সংগে ছিল বাদল ফকির। এর পূর্বে বাপ্পীকে আফজাল হোসেন বেশ কয়েক মাধ্যমে স্বাক্ষী না দেয়ার হুমকী দিয়ে আসছিল। এব্যাপারেও থানায় জিডি করতে গিয়েছিল বাপ্পী। তখন জিডি নেননি ওসি, উল্টো শাসিয়ে দিয়ে বলেছে এলাকা ছেড়ে যাও। আফজাল ভাই সাদেক ভাইয়ের লোক। জানা গেছে ১৮ জানুয়ারী সন্ধ্যায় বাপ্পীর বন্ধু জুম্মান বেপারীর সাথে দেখা করতে রাজারহাটে যায় সে। এ সংবাদ পৌঁছে যায় আফজালের কাছে। আফজালের নেতৃত্বে তার স্বসস্ত্র বাহিনী বাপ্পী, বাদল ফকির এবং জুম্মান বেপারীকে উপুর্যপরি কুপিয়ে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। ঐ ঘটনায় বাদল ফকির এবং জুম্মান বেপারীর অবস্থার উন্নতি হলেও শেবাচিম হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে পূর্বের মামলার ২নং স্বাক্ষী বাপ্পী। এ ঘটনায়ও বন্দর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার ভয়াবহতা অধিক হওয়ায় এই মামলাটি সহজে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করলেও মুঠোফোনে বাপ্পীকে চলতে থাকে ওসি’র হুমকী-ধামকী। বাপ্পী যখন শেবাচিম হাসপাতালের বেডে তখন বন্দর থানার ওসি নিজেই একদিন ফোন করেন। ওসি বাপ্পীকে শুরুতেই বলেন আফজালকে এজাহার থেকে বাদ দিয়ে দাও। আফজাল সাদেক আবদুল্লাহর রাজনীতি করেন। আমি যতদূর জানি ওই দিন আফজাল বরিশালে ছিলেন। বাপ্পী ওসি’র কথার উত্তরে বলেন, আমরাও সাদিক ভাইয়ের লোক। আফজালকে বাদ দিলে আমি বিচার চাইবো কার ? এ ব্যাপারে গতকাল মুঠোফোনে কথা হয় বন্দর থানার ওসি মাহাবুবুল আলমের সাথে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ধরণের কথা বলিনি। তবে প্রতিবেদকের কাছে ঐ কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে যেখানে তিনি একজন অপরাধীর পক্ষ নিয়ে নির্যাতিত বাপ্পীর সাথে কথা বলছিলেন এমন তথ্য জানালে ওসি নির্দিধায় স্বীকার করেন আফজাল আসলেই সাদিক আবদুল্লাহর লোক। পরবর্তীতে এই ঘটনায় উভয় গ্র“পই মিমাংশার জন্য অতি শীঘ্রই বসছেন সেজন্য মামলাটি নিয়ে আমি বেশী ভূমিকা রাখছিনা। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দোহাই দিয়ে একজন অপরাধীর পক্ষে কিভাবে ওসি কথা বলে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভাই দেখেন এই বাপ্পী, বাহাদুর এরা এমনিতেই নষ্ট লোক। মাদক ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারী ও ডাকাতি সহ বাহাদুরের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা এভিডেন্স ইতিমধ্যে আমার হাতে চলে এসেছে। ও যেকোন সময়ই ক্রসফায়ারে যেতে পারে বলে আবারো প্রতিবেদকের সাথে স্বীকার করেন। ওদিকে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া বাপ্পী জানান, এই ঘটনার শুরুতে যখন ওসি’র কাছে আমরা গিয়েছিলাম তখন তিনি আইনী পদক্ষেপ নিলে আমার এই অবস্থা হতো না। উল্লেখ্য, ১৮ জানুয়ারীর ওই হামলায় বাপ্পীর ডান পায়ের সমস্ত রগ এবং মুখোমন্ডল সহ মাথায় প্রায় ১০ জায়গায় মারাত্মক জখম হয়েছে। তার মা জানিয়েছেন সব সময়ই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাপ্পী বিলাপ করেন আমি আর বাঁচবোনা। এমনকি একই কথা স্বীকার করেছেন বন্দর থানার ওসি মাহাবুবুল আলম। তিনি জানান, বাপ্পী আমাকে ফোন করে বলেছিল স্যার আমিতো বাঁচবোনা আমাকে মাফ করে দিবেন।

 

 

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 2532 বার