January 26, 2016 1:43 pm A- A A+

বরিশালে আড়াই কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিলো কথিত সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বরিশালে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর (ফ্যাসিলিটি)’র ৩ কোটি টাকার কাজ এবার ছাত্রলীগের সাথে ভাগিয়ে নিয়েছে কথিত ফটো সাংবাদিক কর্মীরা। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বান্দরোডে অবস্থিত সরকারি ওই দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। তবে অফিস কর্তৃপক্ষের দাবী টেন্ডার গুছ প্রক্রিয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর পুরাতন আসবাবপত্র (ফার্নিচার) বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা নির্ধারিত রাখা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ (লাইসেন্স) দিয়ে তার সমর্থক সাজ্জাদ, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনের লাইসেন্সে ২২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি রনি ও বিএম কলেজ বাকসুর ভিপি মঈন তুষার এর মেসার্স অদিতি এন্টারপ্রাইজ সহ ৬০ গ্র“পে টেন্ডার পত্র কিনেন। গতকাল (সোমবার) এই টেন্ডার সিডিউল জমা দেয়ার সময় নির্ধারিত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের ওই ৩ কর্ণধার ঘটনাস্থল ফ্যাসিলিটিজ এর কার্যালয়ে উপস্থিত না থেকে তাদের সহযোগিদের পাঠিয়ে দেয়। সকাল ১০ টায় বাক্সে টেন্ডার জমা দিতে যায় রাজ্জাক, জসিম এবং মঈন তুষারের পক্ষে শতাধিক নেতাকর্মীরা। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করে। তাদের এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পত্রিকার কথিত ফটো সাংবাদিক খান রাসেলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সংগে টেন্ডার পত্র জমা দেয়। সংবাদকর্মী হয়ে টেন্ডার দাখিল করায় ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আর এনিয়ে তাদের ভিতরে মারমুখি ভূমিকায় অবতির্ণ হয়। বিষয়টি অফিস কর্মকর্তারা লক্ষ্য করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হতে পারে সেজন্য পুলিশ, র‌্যাব ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে নিয়োজিত রাখেন। জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক সমর্থনকারী সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছে তিনি কোন টেন্ডার দাখিল করেননি। তবে তার দলের ছোট ভাইরা টেন্ডারে অংশ নেন বলেন। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনের সহযোগী রনির কাছে জানার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে জানা গেছে জসিমের লাইসেন্স দিয়ে রনি ১৫নং টেন্ডার পত্র দাখিল করেছে। এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাকসুর ভিপি মেসার্স অদিতি এন্টারপ্রাইজ স্বত্ত্বাধিকারী মঈন তুষার বলেন, লাইসেন্স নিয়ে তারই ছাত্রলীগ কর্মীরা টেন্ডারপত্র দাখিল করে। কিন্তু পরবর্তীতে তা ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়। এব্যাপারে শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, টেন্ডার নিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়নি। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় সাড়ে ৩শ টেন্ডার পত্র জমা পড়েছে। কোন গুছ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নেই। অরপর একটি সূত্রে জানা গেছে, কথিত ফটো সংবাদকর্মী খান রাসেল টেন্ডার বাক্সে নিজেই পত্র জমা দিয়েছে। সে ছবি তার অন্যান্য খোটবাজ সহকর্মীদের মাধ্যমে ফটোসেশন করে। পরে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা তোলা উঠান। সেই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পরে তারা। এ অভিযোগের বিষয়ে খান রাসেল বলেন, তিনি কোন টেন্ডার পত্র জমা দেননি এমনকি সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেনও না। টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কোন দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়নি বলে জানান।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1316 বার