January 26, 2016 1:56 pm A- A A+

মাদ্রাসার পাঠদান ফাঁকি দিয়ে শিক্ষক টিকিট মাস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনকারী ছিল ২২ জন। কিন্তু ১৭ জনকেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ও সময় জানানো হয়নি। মাত্র ৫ জন দ্বারা সাজানো পরীক্ষার কথা চাউর হয়ে গেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এবং জনতার কারণে এক পর্যায়ে শুরু হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে হয়। এ ঘটনা ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোরব মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে। মজার কথা হলো ঐ পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও রহস্যজনক কারনে সহকারী মৌলভী হিসেবে নিয়োগ পান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মজিবর মাঝির ভায়রা ছেলে জিয়াউল হাসান ওরফে সোহাগ মাঝি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাত্র আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয় সোহাগ মাঝিকে। যার সমস্ত সার্টিফিকেট জাল। এমনকি নিয়োগ পাওয়ার পূর্বে সোহাগ মাঝি ঐ প্রতিষ্ঠানেরই ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিল। অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মত নিয়োগ বানিজ্য, অব্যবস্থাপনা ও জালিয়াতি করে চলে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের নাম উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দালিখ মাদ্রাসা। নলছিটি থানার দপদপিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত এই মাদ্রাসাটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ১৭ জন। কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন ২০ জন। ঐ ২০ জন শিক্ষকের মধ্যে অন্যতম হলেন সোহাগ মাঝি! সরকারি বিধান মতে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তিনি অন্যকোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু সোহাগ মাঝি’র কাছে এই আইন হাস্যকর। তার যখন মাদ্রাসায় থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কথা তখন তিনি থাকেন বরিশাল নগরীর রূপাতলীর বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে কোন শিক্ষার্থীদের আলাদা ভাবে পড়ান না। টিকিট কাউন্টারে “টিকিট মাস্টার হিসেবে” কাজ করেন তিনি। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসলেও হাতে নাতে ধরা পড়ছিলনা সোহাগ মাঝি। জানা যায় বাস কাউন্টারে দুই শিফ্টে কাজ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ১৫ দিন সকালের ডিউটি এবং বাকি ১৫ দিন বিকেলের ডিউটি। গতকাল সোহাগ মাঝি হাতে নাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশ বাণীর ক্যামেরায়, তখন দুপুর ১টা ছুঁই ছুঁই। নির্দিষ্ট তথ্যে ভিত্তিতে রূপাতলী বাস কাউন্টারে উপস্থিত হলে দেখা যায় নলছিটির উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী সোহাগ মাঝি বসে আছেন মঠবাড়িয়া কাউন্টারে। তার সামনে বান্ডিল বান্ডিল টিকিট, যাত্রীরা আসছেন তার কাছ থেকেই টিকিট সংগ্রহ করে নিচ্ছেন। কথা হয় আমতলী বাস কাউন্টারের টিকিট মাস্টার কালামের সাথে। তিনি জানান, সোহাগ মাঝি যে কোন মাদ্রাসার শিক্ষক তা আমি জানি না, তিনিতো এ কাউন্টারে দীর্ঘদিন ধরে টিকিট মাস্টার হিসেবে কাজ করে আসছে। ঐ একই সময়ে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হয় উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন সোহাগ মাঝিতো এখন ক্লাসে আছেন। ক্লাস বাদদিয়ে সোহাগ মাঝি বাস কাউন্টারে কাজ করে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যমূলক দাবী করে শহিদুল ইসলাম বলেন এই মাত্র তিনি ক্লাসে চলে গেছেন। বস্তুত তখনো সোহাগ মাঝি নির্দিধায় রূপাতলীর মঠবাড়িয়া কাউন্টারে বসে টিকিট বিক্রি করে যাচ্ছেন। কথা হয় সোহাগ মাঝির সাথে। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে ফোনে কথা হয় বরিশাল মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপনের সাথে তিনি বলেন, বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা আমার কাছে নেই। সোহাগ মাঝি নামে কোন মাদ্রাসার শিক্ষক কাউন্টারে কাজ করছে কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। নিশ্চিত হয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো। তবে বাস টার্মিনালের নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত কর্মচারীর তালিকায় রয়েছে সোহাগ মাঝির নাম। এমনকি রোটেশন পদ্ধতিতে সকাল-বিকেল শিফ্ট করে লেখা নামের তালিকায়ও রয়েছে সোহাগ মাঝি। এ ব্যাপারে ফোনে কথা হয় সহকারী সুপার শহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আজ (গতকাল ২৫ জানুয়ারী) মাদ্রাসা থেকে ১ দিনের ছুটি নিয়ে গেছে সোহাগ মাঝি। সে যে অন্য কোথায় কাজ করে তা আমি জানি না। যদি কোথায় কাজ করে থাকে সে ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 911 বার