January 26, 2016 6:03 pm A- A A+

লোকমান হত্যাকারীদের বাঁচাতে একঝাঁক রাঘববোয়াল

আহমেদ কাওছার ক্ষৌণিশ ॥
লোকমান হত্যা ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য করছে নলছিটি থানা পুলিশ ও স্থানীয় একটি ফন্দিবাজ চক্র। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। হত্যা ঘটনা ভিন্ন দিকে নিয়ে খুনীদের সহিসালামতে রাখার মিশনে থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুর রহমান, ওসি তদন্ত) কামরুজ্জামান’র ঘুষ বাণিজ্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন দপদপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা, বানারীপাড়া থানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস ফকির, কহিনুর বেগম, এইচ এম শাহআলম শাহ্, মজিবর মৃধা, মো. রুজবেল হাওলাদার, সবুজ হাওলাদার। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক স্থানীয় অধিকাংশ লোকজন বলছে- এসআই ইউসুফ ফকির এবং তার পুত্র রানা ফকির এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডে জড়িত। সূত্রের দাবী ঘুষ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পিতা-পুত্র এই হত্যাকান্ডের সফল বাস্তবায়নে জোরালোভাবে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা হত্যা ঘটনার শুরু থেকে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মোবাইল ফোনে ভিডিও করেছে। একারণে বানারীপাড়া থানা থেকে ছুঁটি নিয়ে হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে বেশ কিছুদিন নিজ এলাকায় অবস্থান করেন। এছাড়া ঘটনার দিন সরেজমিনে ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামানের সাথে কানাঘুষা, হত্যা ঘটনার আলামত বিনষ্ট করাসহ রহস্যজনক আচরণ এই বর্বরতার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় লোকজন বীর নারায়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে লোকমানকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা এবং পরে নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর চৌকিদারকে মামলায় অজ্ঞাত আসামী করতে বাধ্য করায় পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। এছাড়া নিহতের লাশের খোঁজে এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহে গড়িমসি ও দায়সারা কর্মকান্ডে মনে হয়েছে ঘুষ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যেই হত্যাকন্ডের ঘটনার সৃষ্টি করা হয়েছে। এমন মন্তব্য স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের। কর্ণকাঠী এলাকার মাঈনুল ইসলাম জানান, সরেজমিনে পুলিশের রহস্যজনক আচরণ ছিলো ওপেন সিক্রেট। তারা হত্যাকারীদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। হত্যাকান্ডের ভিডিও চিত্র হাতে নিয়ে পুলিশের শরীর ঘেষে খুনীদের সানন্দে ঘুরে বেড়ানো স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের হতবাক করেছে। সূত্র আরো জানায়, ঘটনাস্থলে নিহতের পরিধেয় জামা-কাপড় পড়ে থাকলেও পুলিশ তা আলামত হিসেবে নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পুলিশের দায়সারা লাশ উদ্ধার চেষ্টার সময় আলতাফ চৌকিদারের পুত্র আরিফ চৌকিদার (৩০), রাসেল চৌকিদার ও ইসরাফিল চৌকিদারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। তারা দ্জুনই লোকামনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তারা দাবী করেন আব্দুল হামিদ হাওলাদারের কণ্যা মনিরা আক্তারকে কুপ্রস্তাব দেয়ায় লোকমানকে মারধর করা হলে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবী করেন- ভিডিও চিত্র ডিলিট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি নলছিটির বীরনারায়ন গ্রামের আলমগীর চৌকিদারের পুত্র ইসরাফিল চৌকিদার, রাসেল চৌকিদার এবং আলতাফ চৌকিদারের পুত্র আরিফ চৌকিদার একই গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌকিদারের পুত্র মানসিক বিকারগ্রস্থ লোকমান চৌকিদারকে হত্যা করে খয়রাবাদ নীদতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি শনিবার নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রকাশ্য হত্যা ঘটনায় স্থানীয় চিহ্নিত খুনীদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামী করায় জনমনে বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে বাদীকে চাপ সৃষ্টি করে খুনীদের আড়ালে রেখে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। … (চলবে)

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1127 বার