May 9, 2016 7:45 am A- A A+

বনমালী গাঙ্গুলীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

বরিশাল সরকারী বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রনিবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, কক্ষ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রনিবাসে এঘটনা ঘটে। পরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও কলেজ অধ্যক্ষ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।রবিবার রাতে এই ঘটনার চারজন ছাত্রী আহত এবং দু’জনকে আটক করে পুলিশ। তবে এদের নাম না জানা গেলেও আটকৃত দু’জনকে রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও দুই ছাত্রীকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষ।সূত্র মতে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বিএম কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী ঝুমুর ও জান্নাতের সাথে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ চলে আসছিল সন্ত্রাস  নাহিদ সেরনিয়াবাতের অনুসারী ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী ও বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রী নাইমা ও মনিরার। যার জের ধরে রবিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীনিবাসের ক্যান্টিনে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এ দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাইমা ও মনিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে ঝুমুরের কক্ষে যায়। সেখানে বসেই ঝুমুর এবং জান্নাতকে মারধর নাইমা গ্রুপ। মারধর শেষে কক্ষের বিছানাপত্র বাইরে ফেলে দিয়ে কক্ষে অগ্নিসংযোগ করে। কিছুক্ষন পর ছাত্রলীগ নেত্রী হেনা আক্তার বিষয়টি টের পেলে সে ঝুমুরকে উদ্ধার করে । একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।পরে ছাত্রীনিবাসের সহকারী সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি মিটিয়ে দিলেও আবার পৌনে ১০টার দিকে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি বাঁধে।একপর্যায়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম ও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম জানান,  ঘটনা তেমন কিছুই হয়নি। পূর্বে যা ঘটে এসেছে তাই পূণরায় ঘটেছে। হোস্টেলের এক জুনিয়র ছাত্রী অপর এক সিনিয়র ছাত্রীর গায়ে হাত দিয়েছে। এ নিয়ে তাদের মাঝে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমরা শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এসে মহিলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করেছি। কিন্তু কোন ছাত্রীকে আটকের ঘটনা ঘটেনি।তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা হোস্টেলের ভেতরে আলোচনায় বসেছি। আলোচনার মাধ্যমে দোষি ছাত্রীদের বিচার করা হবে।কলেজ উপাধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল বলেন, ছাত্রীনিবাসে দুই গ্রুপ ছাত্রলীগনেত্রীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি। অধ্যক্ষ স্যার ভিতরে আছেন বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই গ্রুপের মধ্যে মীমাংসা চলাকালীন সময়ও হট্রগোল চলছিল বলে ছাত্রীনিবাসের একাধিক ছাত্রী জানিয়েছেন।এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আজাদ রহমান জানান, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে ঝামেলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠানো হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।এদিকে বনমালী গাঙ্গলী ছাত্রী নিবাসের একাধিক সূত্র জানায়, সন্ত্রাস নাহিদ সেরনিয়াবাত সমর্থক নাঈমা ও মনিরার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে প্রায় সময় উৎশৃঙ্খল এই দুই ছাত্রলীগ নেত্রীর মাঝে সংঘর্ষ এবং চুল ছেড়া ছিড়ির ঘটনা ঘটে আসছে। তবে  ছাত্রলীগ নেত্রী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1164 বার