May 11, 2016 2:53 pm A- A A+

বনমালী গাঙ্গুলী ছাএী নিবাসে নাঈমা ও মনিরা আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল বি.এম কলেজ ছাত্রী হোষ্টেল এর সাধারন ছাএীদের মধ্যে নাঈমা ও মনিরা আতংক বিরাজ করছে। এই দুই ছাত্রী নামধারী দেহ ও ইয়াবা ব্যাবসায়ীর যন্ত্রণায় অতিষ্ট গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসীরা। সুত্রে জানা যায়, নাঈমা ও মনিরা ছাত্রলীগ নামধারী এক নেতার ছত্র ছায়ায় ছাত্রলীগ পদে আসীন হয়। ওই নেতার শেল্টারে হোস্টেলে থাকা গ্রাম্য সাধারণ ছাত্রীদের দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ সহ নানান অপরাধের সাথে যুক্ত করতো ওরা। অনেক সময় তাদের কথা না শুনলে ওই সকল ছাত্রীদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে তাদের উপর চালানো হতো নির্যাতন। এ ধরণের ভূক্তভোগী অনেক ছাত্রী রয়েছে ওই নিবাসে। কিন্তু নাঈমা ও মনিরার দাপটের কাছে সবসময় তারা অসহায় থাকতো। গত কয়েকমাস পূর্বে নাঈমা ও মনিরার আশ্রয়দাতা ছাত্রলীগ নেতা ঢাকায় অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। এতে কিছুদিন নাঈমা ও মনিরার ক্ষমতা কিছুটা নি¯েপ্রাভ হয়। সম্প্রতি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও সাধারণ ছাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে উঠে তারা। এর ন্যায় গত রবিবার মধ্যরাতে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক নিরহ ছাত্রীদের মারধর ও হোস্টেলের বিভিন্ন কক্ষ ভাংচুর করে নাঈমা ও মনিরা বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসে থাকা একাধিক ছাত্রী জানায়, নাঈমা ও মনিরা বিএম কলেজে পড়াশুনা করতে আসলেও তারা শুধু দেহ ব্যবসার পাশাপাশি ইয়াবা সাপ্লাইতে ব্যস্ত থাকে। রাতের আধারে কর্লগার্ল হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। সকাল হলে ফিরে আসে ছাত্রী নিবাসে। তাদের এহেন অসামাজিক কর্মকান্ড ছাত্রীনিবাসের অন্যান্য ছাত্রীরা অবগত থাকলেও তাদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায়না তারা। গত কয়েক দিন পূর্বে ওই হোস্টেলের থাকা নদী, মিম, মিষ্টি, নিশি নামের ছাত্রীদের অসমাজিক কাজ করার জন্য তাদের প্রলোভন দেখায় নাঈমা। এতে ওই ছাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নাঈমাকে মারধর পর্যন্ত করে। এছাড়া ছাত্রী নির্যাতন তাদের হাতে অহরহ ঘটে চলছে। গত কয়েকমাস পূর্বে এক ছাত্রীর বই চুলায় দিয়ে আগুন জ্বালায় নাঈমা। এ নিয়ে অন্যান্য ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও নাঈমার ক্যাডার মুন্নার ভয়ে চুপষে থাকে ভূক্তভোগী ওই ছাত্রী। তারা আরও বলেন, সাধারন ছাএীদের উপর অত্যাচার, মিছিল সহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম নিতে বাধ্য করতো নাঈমা ও মনিরা। এর বিনিময়ে টাকা কামিয়ে নিত। অনেক সময় পরিক্ষার মধ্যে তাদের সাথে মিছিলে যেতে হত। তাদের এই অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন আরো বাড়িয়ে দেয় কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস রাখে না। এদিকে জানা গেছে কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাঈমা, বিএম কলেজের ছাত্রী থাকাকালীন সময়ে সোহাগ নামের এক প্রবাসীকে বিয়ে করে। কিন্তু স্বামীর অজান্তে সে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে যায়। এ কারণে সোহাগ তাকে ছেড়ে দেয়। অপরদিকে মনিরার বাড়ী পটুয়াখালী। এই মনিরা বিএম কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি দাড়োয়ান রাশিদার বাসায় বিভিন্ন ছেলেদের সাথে টাকার বিনিময়ে রাত কাটায়। কখনো বোরখা, জিন্স প্যান্ড, জামা পড়ে বাহিরে বের হয়ে রাত যাপনও করে সে। পাশাপাশি ছাত্রলীগের তকমা লাগিয়ে এ ব্যবসার পাশে মরণ ব্যাধী বিভিন্ন মাদক বিক্রিতে স্থান করে নেয় তারা। এ ব্যাপারে বনমালি গাঙ্গুলীর হোস্টেল সুপার বিপ্লবের কাছে নাঈমা ও মনিরার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তার কাছে এ ধরণের কোন তথ্য নেই। তবে রবিবারের ভাংচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগের এক কর্মীকে সাময়িক বহিস্কার করলে তার ব্যবহারিক বিভিন্ন বই ছিনিয়ে নেয় নাঈমা ও মনিরা। গতকাল পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে ওই বই উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হয়।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 9007 বার