May 13, 2016 12:25 pm A- A A+

এবার ডাচ-বাংলা সিটি ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ডাটা হ্যাকারদের হাতে

বাংলাদেশের তিনটি বেসরকারি ব্যাংকসহ দক্ষিণ এশিয়ার মোট পাঁচটি ব্যাংকের ডাটা চুরি করেছে তুরস্কের হ্যাকার গ্রুপ ‘বোজকার্টলার’। ডাটা চুরি যাওয়া বাংলাদেশের তিনটি ব্যাংক হচ্ছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক।

এছাড়া নেপালের বিজনেস ইউনিভার্সাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও সানিমা ব্যাংকের ডাটা চুরি করেছে হ্যাকার দলটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ডাটা ব্রিচ টুডে’ এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

হ্যাকার দল ‘বোজকার্টলার’ সম্প্রতি কাতার ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইনভেস্ট ব্যাংকেরও ডাটা ফাঁস করে দিয়েছে। এশিয়ার আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ডাটা হ্যাকের হুমকিও দিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে এ খবর শুনেছি। বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন জাগো নিউজকে বলেন, যেসব বিষয়ে ডাটা হ্যাকের কথা বলা হয়েছে সেগুলো আমরা নিজরোই উল্লেখ করে থাকি। সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সময় নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ রকম তথ্য ছড়ায়। এতে গ্রাহকের কোন সমস্যা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি হ্যাকিংয়ের শিকার বাংলাদেশের তিন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল ইনফরমেশন সিকিউরিটি মিডিয়া গ্রুপ। তবে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বোজকার্টলারের ওপর নজর রাখা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছে সম্প্রতি ডাটা হ্যাক হওয়ার খবর সত্যি। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কাতার ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইনভেস্ট ব্যাংকের চুরি করা ডাটার তুলনায় এই পাঁচ ব্যাংকের ডেটা চুরির পরিমাণ খুবই কম বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

চুরি করা ডাটার মধ্যে নেপালের দুই ব্যাংক বিজনেস ইউনিভার্সাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ২৫১ মেগাবাইট এবং সানিমা ব্যাংকের ৪৭ মেগাবাইট আকারের ফাইল চুরি করা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশের সিটি ব্যাংকের ১১ দশমিক ২ মেগাবাইট, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৩১২ কিলোবাইট ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ৯৫ কিলোবাইট ডাটা চুরি করা হয়েছে।

চুরি হওয়া তথ্যের পরিধি খুব ব্যাপক। তবে প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছে, প্রত্যেকটি ফাইলে অন্তত কিছু গ্রাহক অথবা কিছু অ্যাকাউন্টের তথ্য আছে।

ডাটা চুরি সম্পর্কে সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার এবং রোটেডকনের সম্মেলন সংগঠক ওমর বেনবোয়াজ্জা আইএসএমজেকে বলেছেন,  এই ডাটা চুরির বিষয়ে হ্যাকাররা সানিমা ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ওয়েবশেল আপলোড করেছে। কাতার ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছিল হ্যাকাররা।

ওয়েবশেল হলো এমন একটি কোড যা কম্পিউটার বা সার্ভারে আপলোড করে অ্যাডমিন সুবিধাসহ পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই কোডের মাধ্যমে সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্যও ব্যবহার করা যায়।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 966 বার