May 30, 2016 6:20 pm A- A A+

বরিশালে জমে উঠেছে লাশের রাজনীতি

সৈয়দ মেহেদী হাসান:
ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যাকান্ড নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বরিশাল। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারনে দিন দিন ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে নগরীতে। যার মূল কেন্দ্রে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম কে টেনে আনার মিশন ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। গতকাল দুই দফায় জসিমের পক্ষে-বিপক্ষে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে ছাত্রলীগ। এসময়ে নগরীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।

নগরবাসী বলাবলি করতে শুরু করে, যে রাজনীতি শুরু হয়েছে রেজা হত্যা কান্ডের মাধ্যমে সেখানেই শেষ নয়। আরো কয়েকটি লাশ পরার আশঙ্কা করছেন শান্ত এই জনপদের বাসিন্দারা। আসলেই কি বরিশাল রাজনীতিতে কোন লাশের প্রয়োজন কারো ছিল ? এমন প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে। নগরবাসীর এই আশঙ্কা একেবারেই যে মিথ্যে তা বলা মুশকিল। কারণ রেজা হত্যাকান্ড নিয়ে দিন যত এগুচ্ছে ধোয়াশা ও অন্ধকারের সম্ভাবনা ততই বাড়ছে। অনুসন্ধানেও বেড়িয়ে এলো তেমন তথ্য। শুধুমাত্র রেজা হত্যার মামলা দায়ের নিয়ে পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের যে নাটকীয় দৃশ্য পটের অবতারনা হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে কেবল রেজা খুন’ই কারো টার্গেট ছিলনা।

বরংছ রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে খোদ আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে লাশের কামনা করে আসছিল। আর যখনই তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দল নিয়ে খুন হলো রেজাউল করিম রেজা তখনই লাশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো বরিশাল। জানা গেছে, রেজা হত্যায় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ ১৪ জনকে আসামী করে ২৯ মে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে নিহতের বড় ভাই মো. রিয়াজ উদ্দিন।

এই মামলাটি নিতে নাটকীয় অবস্থানে ছিল কোতয়ালী থানা পুলিশ। সর্বশেষ ওই রাত সাড়ে ৯ টায়ও মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ। তার আগেই গ্রেফতার হয় হত্যাকান্ডের পরিকল্পক মেহেদী ওরফে গলাকাটা মেহেদী। যিনি ১৯৯৬ সালের আওয়ামীলীগের ত্রাসের শাসনের সময় সন্ত্রাসের গডফাদার রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকনের জল্লাদ হিসেবে ছিলেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে মেহেদী গ্রেফতার হবার পরও কে আসামী হবে আর কাকে বাদ দেয়া হবে তা নিয়ে যথারীতি কোতয়ালী থানায় দেন দরবার চলতেছিল। তারও আগের খবর হলো ২৯ মে যে এজাহারটি কোতয়ালী থানা গ্রহণ করে সেই এজাহারটি রেজার পরিবার থেকে প্রদান করা নয়। নিহতের বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছে ২৮ মে ১০জনকে আসামী করে একটি এজাহার দাখিল করেছিল কোতয়ালী থানায়। কিন্তু সেই এজাহারটি গ্রহণ করা হবেনা মর্মে সাফ জানিয়ে দেন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

রিয়াজ জানায়, পরের এজাহারে আরো ৪ জনের নাম ঢুকনো হয় যাদের সে নিজেই চেনেনা বা নিহতের বন্ধুদের মুখ থেকেও শোনেনি। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক তাহলে এই ৪ জনার নাম এলো কোথা থেকে। অনুসন্ধানি সূত্রগুলো বলছে, ২৮ মে যে এজাহারটি থানায় দাখিল করা হয়েছিল সেই সংবাদ জানতে পেরে বরিশালের এক রাজনৈতিক নেতা রুষ্টহন এবং ওই এজাহারটি না গ্রহণ করার জন্য পুলিশকে বাধ্য করেন। এরপর থানা থেকে সেই এজাহার ওই রাজনৈতিক নেতার বাসায় যায়।

সেখানে নির্ধারণ করা হয় সে আসামী হবে আর কাকে বাদ দেয়া হবে। রিয়াজের প্রথম দাখিল করা এজাহারের এককপি এসে পৌছে প্রতিবেদকের হাতে। সেখানে দেখা যায়, ১ নম্বর আসামী ছিল মেহেদী এবং ২ নম্বর আসামী ছিল রাজীব হোসেন। এর পূর্বে বাংলাদেশ বাণীসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল রেজা হত্যাকান্ডের পিছনে মূল নায়ক রাজ্জাক এবং প্রথম এজাহারে ২ নম্বর আসামী এই রাজীব হোসেনের নাম। মূলতঃ রেজা হত্যায় কোন্দল চলতেছিল রাজীবের সাথে রেজার।

কিন্তু একদিন পরেই সেই প্রথম এজাহারের সমস্ত অভিযোগ পাল্টে ফেলা হয় ওই নেতার অঙ্গুলীহেলনে। এমনকি ঘটনার মূল হোতা রাজীবের নাম বিলকুল বাদ দিয়ে সেখানে ঢুকানো হয় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নাম। যদিও থানায় গৃহিত এজাহারে ১২ নম্বর আসামী হলো মো. জসিম উদ্দিন। আর এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে রেজা এখন কেবল মাত্র কোন হত্যাকান্ড নয়। রেজার লাশের উপর দাড়িয়ে আছে বরিশালের ভবিষ্যৎ রাজনীতি।

আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা মনে করেন, রেজা হত্যাকান্ডকে ইস্যু করে হিরন অনুসারীদের ঘর তছনছ করার মিশনে নেমেছে হিরন বিরোধী শিবির। যার পরিনামে বরিশাল আওয়ামীলীগের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়বে। মামলার ব্যাপারে কথা হয় বাদী রিয়াজ উদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, কোন রাজনীতি নয় আমি আমার ভাই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আতাউর রহমান জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 9210 বার