May 30, 2016 5:50 am A- A A+

হত্যাকান্ডের মূল হোতা রাজ্জাক-রাজীব: আসামী হলেন জসিম

সৈয়দ মেহেদী হাসান:
বরিশালে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যাকান্ড নিয়ে রাজনৈতিক একটি পক্ষ তার বিরোধী শিবিরকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার মিশনে নেমে পরেছে। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ২৪ ঘন্টা পর নানামুখি নাটকিয়তার পর ১৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এটি নিহতের ভাই রিয়াজের এজাহারনামিয় আসামীদের বহাল রেখে পুলিশ মামলা গ্রহন করেছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে রেজার পরিবারের একটি সূত্র বলছে, খুন হবার পরের দিনই থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছিল।

কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সেই এজাহার গ্রহন করা হয়নি। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তাদের দেয়া আসামির অনেক ‘কাট-ছাট’ হয়ে অনেনুন আসামীও এসেছে পুলিশের গ্রহন করা এজাহারে। এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে কার নির্দেশে আসামী করা হয়েছে? তবে এ ব্যপারে এখনি খোলামেলা কোন কথা বলতে না-রাজ মামলার বাদী নিহতের ভাই মো: রিয়াজ।

জানাগেছে, ১৪ জন আসামীন মধ্যে ১২ নম্বর আসামী হল বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন। অন্য আসামীদের বিষয়ে বিশেষ কোন আপত্তি না থাকলেও জসিমকে আসামি করাকে রাজনৈতিক ঘায়েল মনে করছেন আ’লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। একই সাথে গণমাধ্যমের অনুস্ধান এবং গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েটি সূত্র জানিয়ে আসছিল, নিহত রেজার সাথে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছিল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আ: রাজ্জাক এবং রাজ্জাকের অনুসারী রাজীবে। তার সাথে যুক্ত হয় যুবলীগের নেতা মেহেদী। আর এই কোন্দল সাদিক আব্দুল্লাহর আস্থাভাজন হওয়া নিয়ে।

অপরদিকে রেজা মহানগর সভাপতি জসিমের পথেরও বিশেষ কোন প্রতিবন্ধক ছিল না। একই সাথে লক্ষনীয় বাকি আসামীরা সবাই সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারী এবং হত্যাকান্ডের নেপথ্যে রাজ্জাক ও রাজীব জড়িত মর্মে বার বার উঠে আসলেও হঠাৎ করে তাদের নাম এজাহারে না আসা এবং জসিমের নাম চলে আসায় হতবাক অনেক রাজনৈতিক কর্মীরাই।

একই সাথে মামলা গ্রহন নিয়ে রাতভর নাটকীয়তা এবং দেনদরবারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মেহেদীকে আটকের পর হঠাৎ করেই থানার সব ফটক আটকে দেয়া হয়। থানা থেকে প্রথমে বের করে দেবার পর পরে থানা চত্বর থেকে সরিয়ে দেয়া হয় গণমাধ্যমকর্মীদের। থানা সূত্রগুলো বলছে, সর্বশেষ রাত সাড়ে নয়টায়ও মামলা গ্রহন করেনি থানা পুলিশ।

কিসের জন্য কাল ক্ষেপন করে গভীর রাতে মামলা গ্রহন করেছে তা কেউ জানে না। কেবলমাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) কয়েক সেকেন্ড গণমাধ্যমে কথা বলে জানিয়েছিলেন, এখন কিছু বলতে পারবো না। পরে বলবো।

তবে জানা গেছে, নিহত রেজার বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে রোববার রাতে ১৪ জনকে এজাহারভূক্ত করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহার ভুক্ত আসামীরা হলেন, নুরুল ইসলামের পুত্র সাইদুর রহমান, জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদ হোসেন, আমির কুটির এলাকার হানিফ মিয়ার পুত্র রাকিব ও রাজিব, খোকন এর পুত্র মেহেদী, ফয়সাল ওরফে ছোট ফয়সাল, কনক, মূসা, বেল্লাল, জিতুকে আসামী করা হয়। এদের পিতার নামের স্থানে অজ্ঞাত লেখা রয়েছে। অপর অভিযুক্তরা হলো মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি সাগরদী এলাকার শুক্কুর মিয়ার ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন, আনিচুর রহমানের ছেলে মেহেদী ওরফে ছোট মেহেদী, রুহুল প্রমুখ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএমপির মূখপাত্র এসি আবু সাঈদ।

পুলিশের একটি বিশ্বস্ত’ সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পরপরই কোতয়ালী থানা পুলিশ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আসামীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাসী চলছে এবং রাতেও চলবে সারাসী অভিযান। এদিকে হত্যার ২ দিন পরে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয় বলেও পুলিশ সূত্রে জানান।

তবে পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে কতটুকো তথ্য বেড়িয়ে আসবে এটাই এখন বড় বিষয়। কারন হত্যার পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক হওয়ায় কিছুটা সিদ্ধান্তর দৈন্যদশায় কোতয়ালী পুলিশের বড় বাবুরা।

উল্লেখ্য, জানা গেছে আটককৃত যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান ৯৬’র আমলের ত্রাস নাজিরপুলের রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকনের অন্যতম সহযোগী।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 5066 বার