May 31, 2016 10:06 am A- A A+

পিটিয়ে শিশু রবিউল হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

বরগুনার তালতলী উপজেলায় মাছ চুরির অভিযোগে ১১ বছরের শিশু রবিউলকে পিটিয়ে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি মিরাজ হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সাথে ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের অণ্য একটি ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মে) বেলা ১২ টায় বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু তাহের আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আক্তারুজ্জামান বাহাদুর আদালত বলেন, একই সঙ্গে দুইটি রায় কার্যকর হবে। মিরাজের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে এই জরিমানার টাকা রবিউলের বাবা দুলাল মৃধাকে পরিশোধ করবে।

নিহত শিশু রবিউল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে চলতি মাসের ২৬ মে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। পরে তা আজ (৩১ মে) নির্ধারণ
করেন।

এদিকে আলোচিত এই শিশুহত্যা মামলার রায় ঘোষণা করার হবে—এমন খবরে সকাল থেকে বরগুনা জেলা জজ আদালতের সামনে বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ জড়ো হয়। আদালতের বাইরে নেওয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।

মামলার নথি সূত্রে জানাগেছে, গত বছরের ৩ আগস্ট রাতে মাছ চুরির অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের ১১ বছরের শিশু রবিউলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে তার মরদেহ স্থানীয় লকরার খালে ফেলে রাখা হয়। পরের দিন ৪ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় লকরার খাল থেকে পুলিশ রবিউলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ৫ আগস্ট শিশু রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা বাদী হয়ে তালতলী থানায় অভিযুক্ত মিরাজসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই মিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

৬ আগস্ট বরগুনার আমতলী উপজেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি মিরাজ। এরপর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি আক্তারুজ্জামান বাহাদুর বলেন, আমরা এই রায়ে খুশি। আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে এই রায় বহাল থাকবে বলে আশা করছি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রহমান নান্টু বলেন, কোনও সাক্ষীই আদালতে প্রমাণ করতে পারেনি যে তাকে হত্যা করতে দেখেছে। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1060 বার