June 9, 2016 5:28 pm A- A A+

অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মামা খোকন, হিরন অনুসারি তাড়াতে তান্ডব

সৈয়দ মেহেদী হাসান:
কথিত আছে ১৯৯৬ সালের দিকে শিশুরা রূপকথার গল্প শুনে ঘুমাতে না চাইলে তাদেরকে শোনানো হত আন্ডারওয়ার্ল্ড এর টপ টেররদের নাম। বরিশাল নগরীতে এই বাছাই করা টপ টেররদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল খলিফা বাহিনী। মামা খোকন, কুতুব রানা, মান্না, মোনায়েমের হাতে নিয়ন্ত্রিত সাত খলিফার সাম্রাজ্য আবারো মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। গতকাল মামা খোকনের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে শর্টগান, দেশীয় অস্ত্র আর হাত বোমার যৌথ আক্রমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে নগরীতে।

ঘটনাটি ঘটে বেলা ১২টার দিকে নগরীর জিলা স্কুল মোড়ে। এসময় নিকটস্থ রাজাবাহাদুর সড়ক, বরিশাল ক্লাবের সামনের সড়ক জর্ডন রোডে ধাওয়া করে মারধরের ঘটনা ঘটাতে থাকে। যদিও আক্রমনকারীদের হাতে শর্টগান, দেশীয় অস্ত্র ও হাত বোমা দেখেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবী করেছে। তবে এই অস্ত্রের প্রয়োগ করা হয়নি। জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা হত্যা মামলায় রাজনৈতিক ভাবে প্রথম এজাহার পুলিশ গ্রহণ না করে দ্বিতীয় এজাহারে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনকে আসামী করে মামলা গ্রহণ করে। এই মামলা গ্রহণের পর আসামীদের বিচারের দাবীতে নগরী উত্তপ্ত করে রাখে মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে জেলা ছাত্রলীগ। এমনকি রেজার প্রধান হত্যকারী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন ও সেই সব মানব বন্ধন আন্দোলন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিল।

বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসলে সাময়িক আত্মগোপনে চলে যায়।

তবে গতকাল অস্ত্রহাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে এই রাজিব হোসেনকে। হামলায় আরো অংশগ্রহণ করে সাদিক আব্দুল্লাহর ছোড়া গুলিতে পা হাড়ানো মৎস্য শ্রমিক নেতা নিরব হোসেন টুটুল, ছাত্রলীগ নেতা রইজ আহম্মেদ মান্নাসহ প্রায় অর্ধশত ক্যাডার। যাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি, রড দেখা গেছে। আর গ্রুপটিকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে এসেছেন ৯৬ আমলের সাত খলিফার নেতা আল্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রক এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকন।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুসারে দুপুর ১২ টায় জিলা স্কুল মোড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচীর আয়োজন করে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগ। সঠিক সময়ে প্রায় ২৫০ ছাত্রলীগ কর্মী রাজপথে দাড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করলে হঠাৎ করেই ২০/২৫টি মটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন মামা খোকন, মৎস্য টুটুল, রইজ আহম্মেদ মান্না, রাজীব হোসেন ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা। মটর সাইকেল থামিয়ে কোন কিছু বলার আগেই মামা খোকন অশ্লিল গালাগাল করতে করতে মানববন্ধনকারীদের উপর হামলা করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেজা হত্যার মূল হোতা রাজীব হোসেন, কাউনিয়ার সস্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা রইজ আহম্মেদ মান্না দু’জনে বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনকে ধরে জাগিয়ে নিয়ে যায় বরিশাল ক্লাবের সামনে। মামুন জানায় সেখানে আরো ৮/১০ জন মিলে তাকে শর্টগান, রড এবং বাঁশ দিয়ে বেধরক পেটাতে থাকে।

এদিকে মানব বন্ধনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য কর্মীদের রাস্তায় ফেলেই বেরিকেট সৃষ্টি করে মারধর করতে থাকে মামা খোকনের বাহিনী। এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে তাদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা প্রদান করে। একই সাথে মামা খোকন হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলে, এই ছবি ছাঁপলে তোর সম্পাদককে গুম করে ফেলবো। ঘটনার আকর্স্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে চারদিকে। স্থানীয় বাসিন্দারা দিক বিদিক সরে যেতে থাকে। কারণ তারা জানতে পেরেছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে মামা খোকন বাহিনী। পরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হয় কোতয়ালী থানা পুলিশ।

আর এই পুলিশের আগমন বার্তা জানতে পেরে সটকে পরে মামা খোকন বাহিনী। এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আতাউর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে জিলা স্কুল মোড়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা পালিয়ে যায়। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি বলে জানায় পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বরিশাল নগরীতে ৮জন টপ টেরর, ১২টি সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং ৩৫টি উপ-গ্রুপের কাছে তখন ছিল কমকরে হলের ৪৯৩টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর পরবর্তী সময়ে ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত নগরীতে ৭শ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এর মধ্যে আওয়ামী শাসনামলে ওই ৪৯৩টি অস্ত্রের মালিক ছিলেন রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকন। পরবর্তী সময়ে যে ৭শ অস্ত্র ঢুকেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে যে তথ্য ছিল তার হদিস কেউ পায়নি। এই দুই আমলের প্রায় ১২শ আগ্নেয়াস্ত্র কোন সময়ই উদ্ধার হয়নি বা সরকারের কাছে কেউ জমাও দেয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে এই পুরনো অস্ত্র নতুন করে ব্যবহার করছে মামা খোকন বাহিনী। আর একই সাথে মামা খোকন একটি রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে ফের মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। ওদিকে আহত ছাত্রলীগ নেতা মামুনকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 8471 বার