June 9, 2016 7:42 am A- A A+

বিআরটিএর ত্রাণকর্তা তিনজন উমেদার

সৈয়দ মেহেদী হাসান:

মঠবাড়িয়ার জয়নগর গ্রাম থেকে এসেছে শহিদুল ইসলাম। প্রায় ১১ মাস পূর্বে নগরীর একটি শো-রুম থেকে মটরসাইকেল কিনেছিলেন। এতদিন পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরিশাল অফিসে এসেছেন ‘কাগজ করার জন্য’। শহিদুলের নেই গাড়ি চালানোর বিশেষ অভিজ্ঞতা। গাড়ি কিনলেও তা চালিয়েছেন অন্যান্যরা। এই পুরো বিষয়টি আলোচনা করেন, বিআরটিএ’র অফিস সহকারী মেহেদী হাসানের সাথে। তিনি শুরুতেই হাতের তুড়ি দিয়ে বলেন এতো ওয়ান-টু ব্যাপার। এবং পাঠিয়েছেন জাকির ও ফারুকের কাছে। বলেন, ফারুক ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি একটু কৌতুহল উদ্দিপক মনে হয়। অফিস সহকারী অন্য কারো কাছে না পাঠিয়ে কেন জাকির বা ফারুকের কাছে পাঠালেন ? ভাব-গতিকে বোঝা গেল ফারুক ও জাকির নিশ্চয়ই কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো তথ্য পাওয়া গেল। জানা যায়, ফারুক ও জাকির বিআরটিএ’র কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়। এই তথ্য সংগ্রহের সময় তদ্বির করতে এসে হাজির হন আলাউদ্দিন নামে এক লোক। যিনিও নিজেকে বিআরটিএ’র কর্মচারী পরিচয় দেন। একই সাথে নিজেকে পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ এম.এ আউয়াল এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক শওকত মিল্টনের খালাতো ভাই। মজার কথা হল, উল্লেখিত এই তিনজনই কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়। কিন্তু পুরো বিআরটিএ’র হর্তাকর্তাই তারা। প্রত্যেকটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির স্বিকৃতি সনদ সংগ্রহ করতে দ্বারস্থ হতে হয় ফারুক, জাকির ও আলাউদ্দিনের এবং এরাই ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি ফয়সালা করে থাকেন। যে কারণে কর্মকর্তারা চড়া গলায় বলতে পারেন আমরা আমাদের হাত দিয়ে ঘুষ নেই না।

অভিযোগ রয়েছে, সঠিক পথে বা অবৈধ পথে গাড়ির স্বিকৃতি সনদ গ্রহণে দিতে হয় কর্মকর্তাদের ঘুষের রকমফের হয়ে থাকে গাড়ির অবৈধতার উপর নির্ভর করে। সরেজমিনে ৭ জুন দুপুরে বিআরটিএ কার্যালয়ে দেখা গেল, জাকির হোসেন, ফারুক ও আলাউদ্দিন বেশ কয়েকটি ফাইল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। কথা বলতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন ভাই ব্যস্ত আছি পরে কথা বলেন। জানতে চাওয়া হয় তিনি কি পদে আছেন ? জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমি যে পদেই থাকি তাতে আপনাদের কি! এক পর্যায়ে জাকির হোসেনকে নিয়ে যাওয়া হয় উপ-পরিচালক শহিদুল্লাহ কায়সারের কক্ষে।

শহিদুল্লাহ কায়সার জানায়, জাকির হোসেন বিআরটিএ’র কোন কর্মচারী নয়। একই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেল ফারুক ও আলাউদ্দিনের ব্যাপারে। তবে বাস্তবতা দেখা গেল এই তিনজন দালাল ছাড়া অচল বিআরটিএ অফিস। জানা গেছে, চালকের ড্রাইভিং পরীক্ষা, কাগজপত্র নিরীক্ষা আর ঘুষের পরিমান সমস্ত কিছুই করে এই তিনজন।

ফিরে যাওয়া যাক মঠবাড়িয়া জয়নগরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের কথায়। শহিদুল ইসলাম বলেন, ৩৬শ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি গাড়ির কাগজ করেছেন। বিআরটিএ অফিস সূত্র বলছে, দীর্ঘ ১১ মাস বিলম্ব করে কাগজ করানোয় সরকারি জরিমানা আসে ৯ হাজার ৫৪ টাকা। যে টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা। কিন্তু এই টাকা ব্যাংকে জমা দিতে না বলে ঘুষ বাবদ ৩৬শ টাকা মেহেদী হাসানকে দিতে বলেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শেষে ঘুষ দিয়ে কাজ সারেন শহিদুল ইসলাম।

এই একই পথে দৈনিক লাল লাখ টাকা রাজস্ব খুয়াচ্ছে সরকার। বদৌলতে বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা বাগিয়ে নিচ্ছেন লাখ টাকা। এ ব্যাপারে উপ-পরিচালক শহিদুল্লাহ কায়সার বলেন, বিআরটিএতে কোন ঘুষ আদান প্রদানের প্রশ্রয় দেয়া হয় না। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1743 বার