July 17, 2016 1:57 pm A- A A+

মোরা গরীব, বিচার চাইলেও পুলিশ খুনীগো ধরবেনা…

বাবা মোর গরীব হেয়ার লইগ্যা মোড়া বিচার চাইলেও পুলিশ খুনীগো ধরবেনা। মোগো তো আমু ভাই বা মেম্বার-চেহারম্যান কেউ নাই, কিন্তু খুনীগো পক্ষে মেম্বার-চেহারম্যান আছে। যেয়ার লইগ্যা প্রকাশ্য রাস্তায় অনেক মানষের সামনে মোড় একমাত্র পোলাডারে পিডাইয়া মারছে দুইমাস পুলিশ কেউরে ধরলে না। এমনকি মোড় পোলা খুনীগো বিচার চাইয়া কিছু পোষ্টা লাগান অইছেলে কিন্তু খুনীগো দলের লোকেরা হেইগুলা চিইর‌্যা হালাইয়া দেছে…।

একমাত্র পুত্র জাহিদ হত্যার বিচার চেয়ে ঝালকাঠি পৌরসভা সংলগ্ন গাবখান ব্রীজে ইজারাদারের নিযুক্ত টোলকর্মী মোঃ জাহিদ হোসেনের বৃদ্ধ পিতা ও তার মাতা একথা বলেন। স্থানীয় সকলের কাছে প্রিয় মুখ টোলকর্মী জাহিদ হত্যার দু’মাসেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও গ্রেপ্তার হয়নি এজাহারনামীয় খুনীরা। রবিবার গাবখান ব্রীজে ইজারাদারের কার্যালয় এলাকার মানুষ ও নিহত জাহিদের শোকাহত পিতার ফারুক হোসেনের সাথে আলাপকালে এসব কথা তুলে ধরেন।। কান্না জড়িত কন্ঠে নিহত জাহিদের পিতা ফারুক হোসেন জানায়, জাহিদের হত্যার পর প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। জাহিদের হত্যার পর ঝালকাঠি থানায় সে বাদি হয়ে দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই গৌতমের সাথে আলাপ করলে আসামীরা পালতক বলে জানালেও তাদের পরিবারের লোকজন কাউকে জিজ্ঞানাবাদ বা হত্যার কোন আলমত সংগ্রহের উদ্দোগ নেয়নি। তাছাড়া বর্তমানে প্রযুক্তির মাধ্যমে সামান্য মোবাইল চোর, বিকাশের টাকা চোর ধরে ফেলা হয়। সেখানে খুনীরা তাদের স্ত্রী-পরিবার ও ভাইদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ সহ টাকা পয়সা আদান-প্রদান করলেও পুলিশ বলে খুনীরা বিভিন্ন স্থানে সরে যাওয়ায় ধরতে পারছেনা। আসলে আমরা গরীব বলে পুলিশকে কাড়িকাড়ি টাকা দিতে পারিনা, কিন্তু খুনীদের পক্ষে প্রভাবশালী মহল তদবীরও করে, টাকা-পয়সাও দেয়। তাই আমাদের খুন করলে বা ইজ্জত লুন্ঠন করলেও পুলিশ আসামী গ্রেফতার করেনা বা আদালতেও বিচার হয়না। জাহিদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই গৌতম জানায়, জাহিদ হত্যা মামলার মামলায় এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলেছে। তবে খুনিরা ঘটনার পর থেকেই এলাকার বাইরে সটকে পরেছে। তিনি আরো বলেন, খুনিরা যুবক বয়সী হওয়ায় একস্থানে বেশিক্ষন অবস্থান করছেনা না যে কারনে ইতিমধ্যে যশোর, খুলনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১০মে সন্ধ্যা ৭টায় ঝালকাঠির গাবখান ব্রীজের টোল আদায়কর্মী তার পুত্র জাহিদ স্থানীয় ট্রলি মালিক মিজানের গাড়ীতে টোলের টাকা চাইলে কথার কাটাকাটির এক পর্যায় তাকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে সেদিন সন্ধ্যায় একাধিক মামলার আসামী চিহ্নিত একটি গ্রুপের সন্ত্রাসী মিজান ও মিরাজের নেতৃত্বে টোলঘরের পাশেই জাহিদকে এলোপাথারীভাবে মারধর শুরু করে ও লোহার জিআই পাইপ দিয়ে এলোপাথারি পেটালে ঘটনাস্থলে সে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পরে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে জাহিদকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ও সেখান থেকে চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়। সেখানে অচেতন অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে পরের দিন জাহিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে ৩দিন চেষ্টার পর মেডিকেলের চিকিৎসকরা তার মৃত ঘোষনা করেন।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 934 বার