July 19, 2016 11:57 am A- A A+

জঙ্গিরা ঘাটি বাঁধছে নদী বেষ্টিত দখিণায়

আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, কালেমায় জামাত, হিযবুত তাহরির, আল মারকাজুল ইসলাম, আল্লাহর দল, হরকাতুল জেহাদ, আহলে হাদিস, হিযবুত তাওহীদ নামের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা নিরাপদ এলাকা হিসেবে নদীবেষ্টিত বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে অতীত সময়ে অসংখ্যবার ঘাঁটি গেড়ে বসতে নানাতৎপরতা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এসব জঙ্গি সংগঠনের নাম ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের কার্যক্রম প্রায় একই সূতায় । ফলে চারদলীয় জোট সরকারের সময় তাবলিগ জামাতের বেশে জেএমবি’র শীর্ষ নেতা বাংলা ভাই বরিশালের একটি মসজিদে এসে তিনদিন অবস্থান করেছিলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য একটি গোয়েন্দা সূত্রমতে, জেএমবি’র বোমা বিশেষজ্ঞ আফগানফেরত যোদ্ধা হান্নান উদ্দিন, জেএমবি’র আরেক শীর্ষ নেতা (বাংলা ভাই পর্যায়ের) আত্মঘাতী দলের প্রশিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম আনসারী ও কালেমায়ে জামাত সংগঠনের আমীর আব্দুল মজিদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে হওয়ায় বিভিন্ন সময় জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় শক্ত অবস্থান নেয়ার চেষ্ঠা করে আসছে। ফলশ্র“তিতে খোঁদ বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানার ভাটিখানা এলাকার সৈকত ভিলায় অবস্থান নিয়েছিলো কালেমায় জামাত নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০ নারী ও পুরুষকে গ্রেফতার করেছিলো। সূত্রটির দাবি, প্রতিটি জঙ্গি সংগঠন পরিচালনার নেপথ্যে জামায়াতের যোগসূত্রের প্রমান পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ নজরদারিতে কৌশলে এসব জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন সময় সংঘঠিত হওয়ার চেষ্ঠা করলেও বরাবরেই তাদের পরাজিত হতে হয় দক্ষিণাঞ্চলের চৌকস আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে। জীবনবাঁজি রেখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সংগঠনের অসংখ্য জঙ্গিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করলেও আইনের ফাঁক ফোকর পেরিয়ে ওইসব জঙ্গি নেতারা জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে বিভিন্ন কৌশলে আবার জঙ্গি নেতারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আটক জঙ্গিদের জামিনে বের হওয়া প্রসঙ্গে বরগুনার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আখতারুজ্জামান বাহাদুর বলেন, আটক জঙ্গিরা যাতে বিচারিক আদালত থেকে জামিনে বের হতে না পারে সেজন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করি। কিন্তু তারা যখন বিচারিক আদালত থেকে জামিনে বের হতে না পারে তখন উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে জামিন নিয়ে আসে। তিনি আরও জানান, যেকোন ধরনের নাশকতা মোকাবেলার জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৮’র সদস্যরা এবং গোয়েন্দা পুলিশ সর্বদা মাঠে কাজ করছেন। ফলে কোন অপরাধী এ অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1016 বার