July 22, 2016 12:55 pm A- A A+

ইমানুল-সরোয়ার গোপন বৈঠকের ছবি ফাঁস ॥ তীব্র সমালোচনা

সৈয়দ মেহেদী হাসান:
সরকারী ব্রজমোহন কলেজের বির্তকিত অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিমের গোপন চরিত্র ফাঁস হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে। মুখে স্বাধীনতার স্বপক্ষের তথাকথিত দাবী করে বিভিন্ন সময়ে আ’লীগ সরকারের কাছ থেকে ফায়দা লুটলেও বরিশাল বিএনপির একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বেকায়দায় পরে গেলেন তিনি। এই ছবিটিই তার গোমড় ফাঁস করে দিয়েছে এবং তার প্রকৃত চরিত্র সামনে নিয়ে এসেছে বলে মতামত অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের। একই সাথে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও চলছে সমালোচনার ঝড়। বিশিষ্ট এই আবৃত্তি শিল্পির এমন গোপন চরিত্র ফাঁস হওয়ায় অনেকেই বলছেন, বস্তুত স.ম ইমানুল হাকিম প্রগতীর কোন মানুষ নন। এই ঘরানার মাঝে ঘাপটি মেরে থেকে গতিবিধি লক্ষ এবং গোপন তথ্য আদান প্রদান করে গেছেন এতদিন। বস্তুত তিনি জামায়াত-বিএনপির বুদ্ধিজীবী।

যদিও বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন কুমার পাল মনে করেন, এটা এক ধরনের রাজনৈতিক নোংরামি। যেখানে ষড়যন্ত্র করে তাকে জড়ানো হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন এর পিছনের রহস্য একদিন বের হবে।

আবার অনেকেই মনে করছেন, বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান তপন একটি ছবি ব্যবহার করে ইমানুল হাকিমকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এমন কাজ করেছেন। তবে এ ব্যপারে আবদুর রহমান তপনের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২২ জুলাই রাত বারোটার পরে তপন তার ফেসবুক ওয়ালে ইমানুল হাকিম ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যড. মজিবর রহমান সরোয়ার এর খোশ মেজাজে গল্প করার একটি ছবি পোস্ট করেন। তপন লেখেন, ‘বাকশাল ছেড়ে দলেই ফিরেছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ স.ম. ইমানুল হাকিম। অতীতের ন্যায় বরিশাল বিএনপির কান্ডারী আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে থাকার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেছেন তিনি।’

যদিও সরোয়ারের সাথে স.ম ইমানুল হাকিমের বসা বা গল্প করার কোন নিষেধাজ্ঞা কেউ দেয়নি। তবুও এর পরপরই অলোচনা সমালোচনার ঝড় শুরু হয় নগরীতে। সমালোচনায় অনেকেই বএিনপি নয় এর মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতের সাথে কানেকশনের কথা টেনে আনেন।

সমালোচনাকারীরা বলেন, স.ম ইমানুল হাকিম বিভিন্ন সভা সেমিনারে বিএনপি জামায়াতের সমালোচনা করে নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের লোক দাবী করলেও ভেতরে ভেতরে বিএনপির মাধম্যে জামায়াতের সাথে আতাত করে চলছেন। যেটা প্রকাশ্য শত্র“ জামায়াতের চেয়েও ভয়াবহ ক্ষতিকর।
এদিকে এমন ছবি ভাইরাল হবার পরপরই সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়। বেশ কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী তাদের ফেসবুক ওয়ালে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

সংস্কৃতিকর্মী স্নেহাংশু বিশ্বাস লেখেন, এই পুরণো বিষয়টি যারা এখন নতুন করে জানতে চান তারা আসলে না জানার ভান করেন। স্যার লেখক শিবির-বদরুদ্দিন ওমরের আদর্শিক লোক। স্যারকে আওয়ামীলীগ-শিল্পমন্ত্রীর মত লোকেরাই ব্রজমোহন কলেজের মত জায়গায় অধ্যক্ষ বানিয়ে সম্মানিত করেন এবং নিজেরাও সম্মানিত বোধ করেন। এসব তো কোন ঘটনাই না, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি সরকারের আনুগত্যে প্রতিনিয়ত প্রোভাইড হচ্ছে। স্যার কিন্তু শুধু খেয়ালী গ্র“প থিয়েটারের সভাপতিই নন-তথাকথিত সংস্কৃতিজনদের কাছে তিনি সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব।

 

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠা বরিশাল জেলা সংসদের সহ-সাধারন সম্পাদক জুবায়ের হোসেন লেখেন, খেয়ালী গ্র“প থিয়েটারের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম স্যার; এই খবর যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজের) অধ্যক্ষ’র পদ থেকে সড়ে দাড়ানোর আহবাান জানাচ্ছি। মুখে বলে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আর পিছনে পিছনে আতাঁত করেন অন্যদের সাথে এটা গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। এক লোক কোন ভাবেই দু’নৌকায় ভর করে চলতে পারেনা। তাকে যে কোন একটাতে চড়তে হবে। আপনি আতাঁত করে যেমন বিএম কলেজের অধ্যক্ষের চেয়ারকে কলুসিত করেছেন তেমনি খেয়ালী গ্র“প থিয়েটারের সভাপতির আসনকেও কলুসিত করেছেন। যা আপনার কাছে কাম্য নয়। আমরা হতবাক, স্তম্ভিত, ব্যথিত।

 

উল্লেখ্য বরিশালে দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ প্রফেসর স.ম ইমানুল হাকিম ও টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন এর বিরুদ্ধে জামায়াত কানেকশনের অভিযোগ উঠে আসছিল। এ ব্যপারে বরাবরই তারা অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ বাণী পত্রিকায় পিস স্কুল এন্ড কলেজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। যে স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন। পিস স্কুল ইনভাইট পিস নামক একটি কোম্পানী পরিচালনা করে। যে কোম্পানীর পরিচালক শিবিরের ১১ তম সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। সংবাদ প্রকাশের পরপরই পিস স্কুল থেকে পদত্যাগ করেন প্রফেসর মোয়াজ্জেম। তারপরই প্রকাশ হয়েছিল, ইমানুল হাকিমের জামায়াত কানেকশনের একটি সংবাদ। সেই সংবাদের কয়েকদিন পরই ভাইরালে ছড়িয়ে পরল স.ম ইমানুল হাকিমের এমন ছবি। যা নিয়ে নগরীতে বির্তকের জন্ম দিয়েছে।

এ ব্যপারে স.ম ইমানুল হাকিম বলেন, আসলে এই ছবির বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই। তবে এর পিছনে ভিন্ন কারন থাকতে পারে। অধ্যক্ষ বলেন বিএম কলেজের নৃপেন্দ্র ছাত্রীনিবাসের জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মামলা চলে আসছিল। মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছিল কিছু বিএনপির লোক। কিন্তু তাতে আমি বাধা দেয়ায় এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক কিছু ছবি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু কেন এবং কোন সময়ে তিনি সরোয়ারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন সে ব্যপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1656 বার