August 3, 2016 6:02 pm A- A A+

বরিশালে ‘টর্চার সেল’ যখন এসআইদের রুম !

সৈয়দ মেহেদী হাসান/শিকদার মাহাবুব:
প্রবাদ আছে বাঘে ছুলে ১৮ ঘা, পুলিশে ছুলে ৩৬ ঘা। যদিও পুলিশ জনগণের বন্ধু। পেছনে দাড়িয়ে পুলিশের সমালোচনায় মুখোর থাকেন অনেকেই। আবার সেই পুলিশের কথা শুনলে চুপসে যান তারা। কারন কি? আইন অনুসারে দেশের অপরাধ দমন, শান্তি বজায় রাখা আর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা গুরুত্বপূর্ণ এই বাহিনীটি। সর্বাত্মক চেষ্টাও করছেন অধিকাংশ। কিন্তু কিছু পুলিশ সদস্যর কারনে প্রায় সময়েই প্রশ্নের মুখে পরতে হচ্ছে পুরো ডিপার্টমেন্টকে। পুলিশের উধর্বতন কর্মকর্তাদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, পুলিশের কোন কর্মকর্তা একই স্থানে র্দীঘ দিন কাজ করলে সে অসৎ পথে জড়াবেন এটাই স্বাভাবিক। কারন পুলিশ আইন প্রয়োগ করেন। আইন নিজের হাতে পেলে এবং অবস্থানগত স্থিতিঅবস্থা বেশি হলে অপরাধে জড়ানোটা অস্বাভাবিক নয়। উর্ধতন এ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুসারে এগোলে দেখা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার থানাগুলোতে প্রায়ই আইন অমান্য করে আসামী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে।

এমনকি সে নির্যাতন এতটাই ভয়াবহ রুপ নেয় যে পঙ্গুত্বও বরণ করেন অনেকেই। বিশেষ করে থানার এসআইদের কক্ষে চলে এহেন নির্যাতন। দিন দিন এ অভিযোগের পরিমান বাড়তেই আছে। যদিও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক অব্যাহতির মত শাস্তি হতে শোনা যায়। কিন্তু এর বাইরে বিচারের মুখোমুখি দাড়াতে হয় না নির্যাতককে। বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকাও তার বাইরে নয়। আসামীদের থানায় এনে নির্যাতন, ঘুষ আদায় এমনকি পা ভেঙ্গে দেবার মত অভিযোগ রয়েছে।

কেস স্টাডি-১
২০১৬ সালের ২৪ জুলাই। রোববার। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি মামলার আসামী ছিল শৈশব। ঐদিন এসআই আব্দুল মান্নানসহ ৫/৬ জন পুলিশ সদস্য নগরীর মুসলিম গোরস্তান রোডের বাসা থেকে শৈশবকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানায় নিয়ে আসে। ভাইকে দেখতে শৈশবের বোন সুইটি মা ও খালাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন। এসময় তারা দেখতে পান, শৈশবকে হাজতে না রেখে দোতলায় এসআই মান্নানের রুমে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্যাতনের দৃশ্য দেখে শৈশবের মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এসআই মান্নান তাদের দেখে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থানা থেকে চলে যেতে বলে। থানা থেকে বেরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ তাদের মোবাইলে ফোন করা হয়। রিসিভ করলে শৈশবের আর্তনাদ শুনতে পায় তারা। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শৈশব বলে আপু আমাকে বাঁচাও। এসআই আমাকে মেরে ফেলবে। শৈশবের মা ও বোন পুনরায় থানায় গেলে এসআই আব্দুল মান্নান বলে আপনার ভাইকে এখনো বেশি মারি নাই, রাতে আরো মারবো। একথা শুনে তারা থানা থেকে ফিরে কিছুটা পথ আসতে না আসতেই ওই নম্বর দিয়ে কল দেয়। ফোন রিসিভ করলে শৈশবের চিৎকার শুনতে পায়। যদিও এ ঘটনায় সুইটি অভিযোগ দিলে মান্নানকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়।

কেস স্টাডি-২
২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। মঙ্গলবার। বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে নিজ ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটের বাসিন্দা মাসুদ হাওলাদার। সে ওই এলাকার হারুন হাওলাদারের ছেলে। মাসুদ জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা থেকে তিনি বরিশালের বাসায় আসেন। সকাল ১০টার দিকে ডিবি পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে। এরপর প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায়। বিষয়টি টের পেলে মাসুদ যে রুমে ঘুমিয়ে ছিল সে রুমের দরজা আটকে দেয়। ডিবি পুলিশ ওই কক্ষের দরজা ভাঙার চেষ্টা চালায় এবং দরজার ফাঁক দিয়ে মাসুদকে তাদের সঙ্গে থাকা ইয়াবার প্যাকেট দেখায়। ওই ইয়াবা দিয়ে তাকে আটকের ভয়ভীতি দেখালে মাসুদ তার কক্ষে রক্ষিত চাকু হাতে নেয়। এরপর ডিবির উদ্দেশ্যে মাসুদ বলে তাকে আটক করলে সে আত্মহত্যা করবে। মাসুদ জানায়, ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশের এসআই লোকমান তার ঘরে অভিযান চালায়। কোন কিছু না পেলেও তার অভিভাবকের সামনে বেদম মারধর করে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। স্থানীয়রা দেখে ফেলায় লোকমান তাকে ধরে নিয়ে দূরবর্তী স্থানে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে কিছুদিন বরিশালের বাইরে থাকার নির্দেশ দেন।

কেস স্টাডি-৩
২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। কোতয়ালি থানায় আটকে রেখে এক লাখ টাকা ঘুষের দাবীতে ডাকাতী মামলার আসামী সেলিমকে নির্যাতন করে এসআই দেলোয়ার। ডাকাতী মামলার আসামী সেলিম বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বলাইকাঠি গ্রামের সামসুল হক’র ছেলে। সে বানারীপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে থেকে স্থানীয় বাজারে সমন্দিদের সাথে কচা মালের ব্যবসা করত। আসামী সেলিম হাওলাদারের বড় ভাই জানায়, ঐদিন সকালে একটি ডাকাতী মামলার হাজিরা দেয়ার জন্য মোটর সাইকেল যোগে বানারীপাড়া থেকে বরিশালে আসে সেলিম। পথিমধ্যে নতুন বাজার থেকে সেলিম এবং মোটর সাইকেল চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যান মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে থানার দ্বিতীয় তলায় এসআই রুমে নিয়ে সেলিমের উপর অমানুসিক নির্যাতন চালায় দেলোয়ার। একই সাথে সেলিমকে দিয়ে তার স্ত্রী লাকি বেগমকে ফোন করিয়ে এক লক্ষ টাকা ঘুষ এনে দিতে বলে। সেলিমের ভাই আরো জানান, খবর পেয়ে তার মা এবং বোন বরিশাল মহিলা কলেজের ছাত্রী হামিদা আক্তার রাতে থানায় গিয়ে এসআই দেলোয়ারকে এক লক্ষ টাকা দেয় সেলিমকে ছাড়িয়ে আনার জন্য। কিন্তু দেলোয়ার টাকা নিলেও পরবর্তীতে সেলিমকে ছেড়ে দেয়নি। উল্টো রাতভর থানায় আটকে রেখে অমানষিক নির্যাতন চালায়।

কেস স্টাডি-৪
২০১৫ সালের ৪ মার্চ। বুধবার। বরিশাল কোতয়ালি থানা হেফাজতে এক যুবককে নির্যাতন করে পা ভেঙ্গে দেয় পুলিশ। তবে পুলিশ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তাদের থানা হেফাজতে বসে জিহাদের পা ভাঙ্গেনি। কিভাবে পা ভেঙ্গেছে তাও জানা নেই তাদের। এ অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় আমানতগঞ্জ বাসিন্দা লিটু সিকদার জিহাদ (২৮)। জিহাদ বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এ্যাভিনিউ রোডের সিদ্দিক ষ্টোর্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্টানের কর্মচারী ছিল। জিহাদের পরিবার সূত্রে জানায়, বহুল আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রুবেল সিকদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘটনের জন্য নিহতের চাচাতো ভাই জিহাদকে থানায় দেখা করার নিদের্শ দেয় কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন। পরে জিহাদ ৪ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় থানায় গেলে তাকে থানার একটি কক্ষে আটকে স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন চালানো হয়। তথ্য আদায়ের নামে লিটুকে পালাক্রমে নির্যাতন করে এক পর্যায়ে তার দুই পা পিটিয়ে থেতলে দেয়। পরে ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ মার্চ শুক্রবার ফের শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপ্যাডিক্স বিভাগের ৩ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর মাঝেই এ ব্যাপারে মুখ না খোলার জন্য বাসায় এসে জিহাদের পরিবারকে চাপ দিয়ে গেছে পুলিশ কর্তারা। জিহাদের পা মোটামুটি ঠিক হলেও বর্তমানে তাকে চলতে হয় খুড়িয়ে খুড়িয়ে। পুলিশের কথা মনে উঠলেই কান্না করে দেয়। তার দাবী অপরাধী হলেও এভাবে পিটিয়ে পা কেউ ভাঙে না।

কেস স্টাডি-৫
২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর। শুক্রবার। ৬ এনজিও কর্মীকে বরিশালে মেট্রো ডিবি কার্যালয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঐদিন দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে চলে এই লোমহর্ষক শারীরিক নির্যাতন। পরে জন প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ ও মোবাইল ফোন রেখে ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এইচআইভি প্রতিরোধ এবং ইনজেকটিভ ড্রাগ ইউজার প্রতিরোধ প্রকল্প লাইট হাউজ এনজিওর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রকল্পের এ অফিস থেকে এনজিও কর্মী রকি (৩০), মিজানুর রহমান (৩২), হাফিজ (২৬), সুপ্রকাশ বেপারী (২৫), সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসাইন (২৭) এবং মিজানকে (২৭) আটক করে নিয়ে যান মেট্রোপলিটন ডিবির এসআই আহসান কবির। নির্যাতনের শিকার লাইট এনজিওর সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসাইন জানান, ডিবির আহসান কবির কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই আমাদের ৬ জনকে জোর করে অফিস থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে দিনভর নির্যাতন চালিয়েছেন। হত্যা বা ডাকাতি মামলার আসামিদেরও এভাবে নির্যাতন করা হয় কিনা আমি জানি না। বিনা অপরাধে এভাবে মারধর করেছে। সাদ্দাম বলে, এখনো আমি সেই নির্যাতনের কথা ভুলতে পারিনি।

অতীতের ঘটনা খুজতে গেলে এভাবে অসংখ্য ঘটনা বেড়িয়ে আসে। আর এ সমস্ত ঘটনা ঘটে থাকে সাধারনত এসআইদের কক্ষে আটকে রেখে। আবার এমন অনেক ঘটনা আছে যার অভিযোগ দিতে কেউ সাহস করে না। ভুক্তভোগিরা জানে পুলিশের হাতে পরা আর বাকি জীবন বরবাদ করে দেয়া সমান কথা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী থানার এসআইদের কক্ষটি কিছু কিছু অফিসার টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে। তবে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে জানান, বাংলাদেশের অপরাধীরা অন্যান্য দেশের অপরাধীদের মত নয়। অন্যান্য দেশে কেউ অপরাধ করলেও তা সহজেই স্বিকার করে। কিন্তু এখানে অপরাধীদের রিমান্ডে নিয়েও তথ্য উদঘাটন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। তারা বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিয়ে থাকে। রিমান্ডের নামে নির্যাতনের ব্যপারে তাদের বক্তব্য হলো অপরাধীদের এ ধরনের আচরন করা না হলে তারা অপরাধ বারবার করতে থাকবে। এটাও এক ধরনের অপরাধ দমনে শিক্ষা।

অভিযোগ রয়েছে রেজা হত্যা মামলার আসামী খলিলকে গ্রেফতারের পর সবকিছু শিকার করলেও নিহত রেজার আত্মীয় এসআই তাহেরসহ ৭/৮ জন মিলে কোতয়ালি থানার দ্বিতলায় এসআইদের কক্ষে ঝুলিয়ে, হাত-পা বেধে ও চেয়ারের সাথে বেধে নির্মম নির্যাতনের। খলিলের পরিবার সূত্র জানিয়েছে, ৩০ জুলাই রাতে খলিলের বড় ভাই দক্ষিন আলেকান্দা কাজী পাড়ার বাসিন্দা রফিককে থানায় দেখ করতে মোবাইল করেন এসআই তাহের। রফিক থানায় আসলে তাকে থানায় রেখে বলা হয় তার ভাই খলিলকে এনে দেবার জন্য। রফিক সে খবর তার ভাইকে জানালে ঐ রাতে খলিল ঢাকা থেকে বরিশালে রওয়ানা করে। পরদিন সকালে খলিল নিজে থানায় উপস্থিত হলে রফিককে ছেড়ে দেয় পুলিশ। যদিও এটি পুলিশের আসামী গ্রেফতারের কৌশল তবে গণমাধ্যমে জানানো হয় খলিলকে করিম কুটির নামক স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঐদিন রাতে খলিলকে থানার এসআইদের কক্ষে রেখে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ ওঠে। রফিক জানায়, খলিল অসুস্থ হয়ে পরায় তাকে জেলখানার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে আরও জানায়, রোববার থানায় ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলে সে দেখে তার ভাইয়ের শরীরে কালো, মোটা অসংখ্য মারের দাগ। খলিলের বরাত দিয়ে রফিক জানায়, তাকে রাতে প্রায় তিন ঘন্টা বেধে নির্যাতন করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ৫ মার্চ আটক করা হয় নগরীর আলোচিত রুবেল হত্যা মামলার আসামী এলিজাকে। আটক করার পর এলিজাকে এসআইদের কক্ষে নিয়ে বেধরক মারধর করেছিল এসআই দেলোয়ার ও সাইদুল। মারধরের এক পর্যায়ে মহিলা আসামী এলিজা অজ্ঞান হয়ে পরলেও মুখমন্ডলে পানি ঢেলে আবার নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি আটক করার কথা ৫ মার্চ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলেও এলিজাকে আটক করা হয়েছিল ৪ মার্চ।

মুলাদী চরকালেখান আইডিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মিঠু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামীকেও নির্যাতন করা হয় রিমান্ডে। ঘটনাটি ঘটিয়েছিল মুলাদী থানার এসআই মিজানুর রহমান। হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে আটক করা হয় একই গ্রামের বাবুল খানের ছেলে তারেক খানকে। আটকের পর গত ২৮ জুলাই আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

পরের দিন রিমান্ডে নিয়ে আসামী তারেকের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশী ছিল যে আসামীর মাথায় মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। নির্যাতনের ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয় আদালতে। ৩১ জুলাই বিচারক অনুতোষ চন্দ্র বালা আবেদনটি জেলা জজ আদালতে মামলার মূল নথির সাথে সামিল রেখে শুনানীর জন্য দিন ধার্য রাখার নির্দেশ দেন। জুন মাসে কাউনিয়া থানার আওতাধীন বেলতলা এলাকা থেকে এক ট্রাক চালককে মারধর করে এএসআই আব্দুর রাজ্জাক। এমনকি ওই এলাকার আনোয়ার মাস্টারের বাড়ীর সামনে থেকে ডিস্ট্রিক ট্রাকটিকে আটকের পরই রাস্তার মধ্যে জনসম্মুখে চালক ও হেলপারকে মারধর করে পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এভাবে সন্দেহভাজন আসামী ধরে এনে থানায় রেখে একই উপায়ে নির্যাতন চালানো হয়ে থাকে। টার্গেটমূলক জবানবন্দিও আদায় করা হয় বলেও বিস্তর অভিযোগ। অথচ জিজ্ঞাসাবোদের প্রক্রিয়ার আইন থাকলেও তা মেনে চলেন না অধিকাংশ পুলিশ অফিসার। ফলে পুলিশি নিরাপত্তার বিপরীতে পুলিশি আতঙ্ক এখন নগরীতে। কেউ কাউকে হয়রানি করার জন্য মামলা ঠুকে দিলে মামলা তদন্তের নামে আসামী দরে এনে প্রয়োগ করা হয় একই থিওরি। যদিও এটাকে আইন ও সংবিধান সাংর্ঘষিক বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াস উদ্দিন কাবুল। তিনি বলেন, রিমান্ডে আসামিকে আইন অনুসারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে তা আইন রক্ষা নয়, আইন ভঙ্গ করা হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক লস্কর নুরুল হক জানান, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোন কাজ করার অনুমতি আইন বা রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। যে সমস্ত কর্মকর্তারা আইন ভঙ্গ করে তাদের বিধান অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত।

এ ব্যপারে সহকারী পুলিশ কমিশনার বিএমপির মুখপাত্র ফরহাদ সরদার বলেন, কোতয়ালি থানায় আসামী নির্যাতনের অভিযোগ প্রাপ্তির পর এক পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দোষি প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া এমন অপকর্মে পুলিশ কখনো উৎসাহ প্রদান করে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়।

যদিও বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্নভাবে অস্বিকার করেছেন। তিনি বলেছেন, রিমান্ডে নিয়ে আসামী নির্যাতন ও ঘুষ আদায়ের কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহন করি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার রুহুল আমিন জানান, অভিযোগ পাবার পর আমরা এসআই মান্নানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এছাড়াও আমারা পুলিশের বিরুদ্ধে যে কোন অভিযোগ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকি। তিনি আরও বলেন, আমার সময়ে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে সে পার পাবে না। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1210 বার