October 13, 2016 12:02 pm A- A A+

…………কত যে জল গড়ালো পদ্মা-মেঘনা-বুড়িগঙ্গা আর শেখ হাসিনার দু-চোখ বেয়ে …………….

ভিপি মোঃমঈন তুষার——14590301_1201911619867421_4780503537619041421_n14690989_1701071546878370_1933788505511184896_n

       ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তিটা সমগ্র পাক-ভারত উপমহাদেশে রাজনীতির নতুন মেরুকরনের সূচনা করে । পরবর্তীতে নয়া উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা দৃঢ়করনের দূরদর্শী চিন্তায় আঙরেজরা তাদের ডিভাইড এন্ড রুলস পলিসির অন্যতম প্রকাম ঘটায় পূর্ববাংলাকে (বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশ ) পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দিয়ে। যাইহোক, ৫০এর দশকের শুরুতে ২টি ঘটনা ঘটে – প্রথমতঃ কমিউনিষ্টরা শ্লোগান ধরে- ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায় লাখো ইনসান ভূখা হ্যায় ! ২য়তঃ হক- ভাষানী- সোহরাওয়ার্দি এক হও অর্থ্যাৎ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন যা বাংলার অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল রাজনীতির প্রথম সূচনা। ৫৪’র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়ে জোরদার সাংগঠনিক তৎপরতার অন্যতম প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান , পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও বাঙ্গলি জাতির পিতা
হক-ভাষানী- সোহরাওয়ার্দি-বঙ্গবন্ধু দুনিয়ার চারদিকের মত বাংলার এই চার অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ধর্ম থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করেন। যে রেনেসা বা নবজাগরন আমরা বিশ্বসভ্যতায় লক্ষ্য করি ইউরোপে। অর্থ্যাৎ ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করার প্রাসঙ্গিকতা। এ নিয়ে মহান পোপ গ্রেগরী বললেন -খোদার যা পাওনা তা খোদাকে দাও এবং সিজারের যা পাওনা তা সিজারকে দাও ! সিজার মানে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার …. …….
অর্থাৎ মুসলিম লীগ থেকে বের হবার পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে আওয়ামী মুসলিম লীগ , অতঃপর আওয়ামী লীগ। তাই বলা যায় , বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মধ্যযুগীয় অন্ধকার দুর করার জন্য ইউরোপের রেনেসা যে আলো জ্বেলেছিলো ৫০০-৬০০ বছর পূর্বে তার একটা স্ফূলিঙ্গ ! জন্মাবার পর থেকে আওয়ামী লীগ ২টি কাজ করে চলেছে । রাজনীতিকে সামাজিকীকরন এবং আন্দোলন , সংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদান । ৫২এর ভাষা আন্দোলন , ৬২এর শিক্ষা আন্দোলন , ৬৯এর গন অভ্যূত্থান, ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ । কিন্তু প্রতিক্রীয়াশীলরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে রক্তাক্ত আওয়ামী লীগ নতুন দিনের সূচনা করে। দুনিয়ার বিষুব রেখায় সর্বদা ভেসে বেড়ায় মৃত্যূর পূর্বে বঙ্গবন্ধুর সেই বক্তব্য -আমার অবস্থা যদি চিলির আলেন্দের মতও হয় তবু বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করবোনা!
তাই করলেন বঙ্গবন্ধু , অসংখ্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মরে পড়ে রইলেন সিড়ির গোড়ায় । শেষ গোসল করলেন কাপড় কাচা সাবান দিয়ে। তবু বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করলেননা। সাবাশ শেখ মুজিব! সাবাশ শেখ লুৎফর রহমান , এমন এক সন্তান জন্ম দেবার জন্য!
মা বাবাসহ গোটা পরিবার ধ্বংস -এ খবর শেখ হাসিনা পান ২০ দিন পরে । দেশে ফিরতে পারেন তারও কয়েক বছর পর।

ফিরে এসে হাল ধরলেন আওয়ামী লীগের নৌকার । নৌকায় তখন অসংখ্য ছিদ্র। আমু, তোফায়েল,রাজ্জাক,সুরন্জিৎ ,মতিয়ার মত যৎ সামান্য নিবেদিতপ্রান নেতৃত্ব এবং সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বেশ কিছু সংগ্রামী নেতা-কর্মীদের নিয়ে উজ্জীবিত করেন দেশরত্নো শেখ হাসিনা! অতিত, ঐতিহ্য, সংগ্রাম আর চলমান উন্নয়ন নিয়ে শুরু হলো আবার যাত্রা। ফের সেই আগষ্ট! না ১৫ না ২১ ! বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা! চোখ, কানের ক্ষতি করে গ্রেনেডের প্রানঘাতি স্-প্লিন্টারগুলো জননেত্রীর প্রানটা রেখে গেলো আল্লাহতায়ালার রহমতের জন্য। কারন প্রতিক্রীয়াশীল খুনে চক্রকে নির্মূল করে বাংলাদেশকে বিশ্বের ১ম শ্রেনীর জনকল্যানমূলক রাষ্ট্রে পৌছে দেবার গুরু দ্বায়িত্ব এখনও বাকি।
সেই আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ২২-২৩ অক্টোবার কত পানি প্রবাহিত হলো পদ্মা, মেঘনা, যমুনা আর দেশরত্নের দুচোখ দিয়ে ! অনেকে অনেক কিছু ভুলে গেছে।অনেকে ভোলেনি। দেশ ভোলেনি আওয়ামী লীগকে । সেও ভোলেনি দেশকে। দেশ ও জাতির দুর্দিনে বার বার আওয়ামী শ্লোগানগুলোই কোমর বেধেঁ দাড়াতে শেখায় -তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা , যমুনা। বাংলার হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃষ্টান আমরা সবাই বাঙ্গালী। জয় হোক আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের!

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1468 বার