November 8, 2016 3:53 am A- A A+

বরিশাল মহানগর আ’লীগের কমিটি পূর্ণগঠনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট এ.কে.এম জাহাঙ্গীরকে সাধারণ সম্পাদক করে স্থানীয়ভাবে ঘোষিত মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি কোনভাবেই মানতে পারছেন না নগর আওয়ামী লীগের বৃহত একটি অংশ। সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন এর ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে সাজানো মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এ কমিটি। তাই দলটির সাংগঠনিক অবস্থা যাতে ভেঙে না পরে সেলক্ষ্যে সাধারণ নেতাকর্মীদের মনের কথা জানাতে ঢাকায় ছুটে যান হিরন অনুসারী নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন তারা। নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজালুল করিম জানান, স্থানীয়ভাবে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনার পর নেতাকর্মীদের মনোভাব ও পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং কমিটি পর্ণগঠনের আশ্বাস দেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী যোগ্য নেতাদের তালিকা দ্রুত পৌছে দেয়ার জন্যও নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে সাক্ষাতকারী নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান তিনি। বিগত ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হন শওকত হোসেন হিরণ। দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর নগরী ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেন তিনি। প্রথমেই সন্ত্রাস মুক্ত করেন বরিশাল নগরী। কঠোর হস্তে দমন করেন বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এভাবে শুধু নগর উন্নয়ন ও সন্ত্রাসমুক্তই নয়, বরিশাল আওয়ামী লীগকে জঞ্জাল মুক্তও করেন হিরন। একদিকে নগর উন্নয়ন অপরদিকে দলকে ঢেলে সাজানোই ছিল তার বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি তার চ্যালেঞ্জে বিজয়ীও হয়েছেন। বিএনপির ভোট ব্যাংক খ্যাত বরিশালে হিরনের কর্মকান্ডে আওয়ামী লীগের ভোট ও জনসমর্থন ক্রমেই বাড়তে থাকে। এতে ঈর্শান্বিত হয়ে পরে আওয়ামী লীগের ভেতরকার একটি মহল। তারপরেও থেমে ছিলেন না হিরন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি নগর উন্নয়নের পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। জন¯্রুতি রয়েছে, স্বাধীনতার পরে নগরীর এতো উন্নয়ন হিরন ব্যাতিত কেউ করতে পারেনি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও সুসংগঠিত করতে পারেনি কেউ। এভাবে সাংগঠনিক দক্ষতা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারনে ক্রমেই প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন হিরন। এরপর ২০১৩ সালের ১৫ জুন পুনরায় অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটি অংশ গোপনে বিরোধীতা করায় বিজয় লাভ করতে পারেনি হিরন। বিজয়ী হতে না পারলেও ভোট পেয়েছিলেন দ্বিগুনেরও বেশী। এরপর জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় হিরনকে। নির্বাচিত হন তিনি। আবারও দল গোছানোর পাশাপাশি সদর আসনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে নেমে পরেন তিনি। বছর যেতে না যেতেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান হিরন। থমকে যায় সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা। পরিস্থিতি উত্তরনে দলের হাল ধরে তার সহধর্মিনী জেবুন্নেছা আফরোজ ও অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম। পাশাপাশি শুরু হয় মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিকক সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিল। এ কাউন্সিলকে সামনে রেখে অনেকটা তরিঘড়ি করে দলের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে কোন প্রকার সমন্বয় ছাড়া স্থানীয়ভাবে ঘোষনা করা হয় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। এ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল সার্বক্ষনিক ঢাকায় অবস্থান করেন। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ.কে.এম জাহাঙ্গীর জনবিচ্ছিন্ন নেতা বলে জানান দলের একাধীক নেতা। স্থানীয়ভাব্ েএই কমিটি ঘোষনার পর পরই সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধীক নেতাকর্মীরা জানান, এলাকার বাইরে অবস্থান করা ও গৃহপালিত নেতাদের দিয়ে দল ও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলতে পারে না। যাদের সাথে সাধারণ নেতাকর্মীদের কোন সম্পর্ক নেই তারা কিভাবে দল পরিচালনা করবেন। তারা বলেন, দলকে সুসংগঠিত করতে হলে যে সকল নেতাদের সাথে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্পর্ক রয়েছে তাদেরকে দিয়ে কমিটি গঠন করা হলেই কেবল সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা সম্ভব। ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা আরও জানায়, যারা ওয়ান ইলেভেন ও হাসিনামুক্ত আন্দোলনে গা ডাকা দিয়েছিলো আর যাই হোক তাদেরকে মেনে নেয়া যায় না। কমিটি ঘোষনার সপ্তাহ খানেক পর প্রথম সভা আহবান করা হয়। ঐ সভায় উল্লেখযোগ্য কোন নেতা অংশগ্রহন করেনি। বিশেষ করে সভায় পরিনপন্থি কোন নেতা যোগ দেননি। এক কথায় নতুন কমিটি ঘোষনায় দলটির মহানগরের সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পরে। কোনঠাসা হয়ে পরে নগর আওয়ামী লীগ ও উন্নয়নের রূপকার শওকত হোনের হিরনের অনুসারীরা। নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজালুল করিম জানান, পরিস্থিতি উত্তরনে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার লক্ষ্যে বঞ্চিত নেতারা ঢাকায় যান। গত রোববার রাত ৮টায় গণভবনে প্রধান মন্ত্রীর সাথে দেখা করেন তারা। এসময় গৃহপালিত নেতাদের দিয়ে স্ব-ঘোষিত কমিটি ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন নেতারা। প্রধানমন্ত্রী তাদের সকল কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং কমিটি পর্ণগঠনের আশ্বাস দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী যোগ্য নেতাদের তালিকা দ্রুত পৌছে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে সাক্ষাতকারী নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান আফজালুল করিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মহানগর আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম, যুবলীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান অন্যতম। এব্যাপারে লে:কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সবার মত আমিও শুনেছি। কিন্তু কেন্দ্রের স্বাক্ষরিত কমিটি ঘোষনা করলে তা প্রথমেই মিডিয়ায় আসে। আমি এরকম কিছুই দেখতে পাই নাই। তবে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সে কমিটি দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ পরিচালনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 3335 বার