November 19, 2016 4:54 pm A- A A+

ওরা দখলবাজ, ভাঙ্গছে পার, ডুবছে বসতভিটা

হুমায়ুন কবির রোকন
নগরীর রূপাতলী কালিজিরা নদী ড্রেজার ব্যবসায়ীর দখলে। অবাধে নদী থেকে বালু উত্তলোন করে চলছে দখলবাজরা ফলে নদীটির দু-কূল ভাঙ্গছে প্রতিনিয়ত। ভোগান্তিতে পড়ছে সড়ক থেকে চলাচলরত হাজারও মানুষ। প্রতিদিন এহেন মানুষগুলোর দূর্ভোগের চিত্র দখলবাজদের চোঁধে ধরা পরে। কিন্তু ক্ষমতা আর অর্থের বাহুবলে অসহায়দের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে কার্যক্রম চালিয়ে যায় তারা। গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে এমনি চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজনের ভাই-আত্মীয় স্বজন নদীর পাশ্ববর্তী জমি দখল করে ব্যবসা বানিজ্য গড়ে তুলেছে। তারাই কালিজিরা নদীতে অবৈধ ড্রেজার পাইপ লাগিয়ে বালু উত্তোলন করে নদীর পারের আশ-পাশের জমিতে মজুদ করে রেখেছে। ধীরে ধীরে সেই বালু বিক্রি করেন তারা। বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত শতশত ট্রাক ব্যবহার করা হয়। একদিকে ট্রাকের আশা-যাওয়া অন্যদিকে নদী দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে নদীর পার ভেঙ্গে যেমনি ছোট হচ্ছে নদী তেমনি যাতায়াতগামী রাস্তাটি ভেঙ্গে নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এসকল ব্যবসায়ীদের জোর জুলুমের কারণে শিশু থেকে শুরু হয়ে বয়স্ক কিংবা জীবিকা নির্বাহকারী ভ্যান, অটোচালক লোকজন মারাত্মক দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয় নিয়ে বার বার তাদের জানালে কোন উপকার পাচ্ছেনা। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে টাকা কামানোর ধান্দায় ব্যস্ত দখলকারীরা বলেন তারা। অপরদিকে ভূক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয় মানতে নারাজ একাশং। তাদের মতে জমির মালিকদের টাকা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেক্ষেত্রে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে সড়কের ক্ষতি তা দেখার ইচ্ছা নেই। টাকা দিয়ে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালাচ্ছি। সকল সমস্যা মোকাবিলা করবেন জমির মালিকগণ। জানা গেছে, মেসার্স শুকরিয়া ট্রেডার্স খুলে মোস্তফা কামাল, জাগুয়া এন্টারপ্রাইজ মোনাব্বর নামে এক ঠিকাদার কালিজিরা নদী সংলগ্ন স্থানে ইট, বালুর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। সূত্রানুযায়ী জানা যায়, এসকল ব্যবসায়ীরা অর্থে-বৃত্তে বলিয়ান। এ কারণে আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেনা তারা। শুধু তাই নয় জনপ্রতিনিধির ধার ধারেনা। ক্ষমতাধর এই ব্যক্তিদের বিপক্ষে প্রকাশ্যে কিছু বলতে হয়নি ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন। তিনি সাধারণ জনগণের কথা না ভেবে একথায় দখলকারীদের পক্ষে সাফাই গাইলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বাংলাদেশ বাণীকে বলেন, কালিজিরা নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়না। নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এটি প্রতিবছর ভেঙ্গে যায়। এখানে কেউ অবৈধ বালুর ব্যবসা করছেনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৪ নভেম্বর) কীর্ত্তনখোলা’র কালিজিরা নদীর আকষ্মিক ভাঙ্গনে প্রায় ৭টি দোকান ও বসতঘর তলিয়ে যায়। ১৬ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিসিসি মেয়র আহসান হাবীব কামাল। সে সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ সহ ভাঙ্গন রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেন। নগর পিতার এমন পদক্ষেপটি সাধুবাদ জানিয়েছে ভূক্তভোগীরা। তবে নদীতে অবাধে ড্রেজার ব্যবসা ও দখল বাজদের উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দূর্ভোগ হতে রেহাই পাবে বলেন তারা। এদিনে গতকাল পর্যন্ত কালিজিরা নদীর ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হুমকীর মুখে রয়েছে একটি মাধ্যমিক, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক পরিবার।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 772 বার