November 29, 2016 4:36 pm A- A A+

আস্থা হাড়িয়ে ঘুরে দাড়ালেন জেবুন্নেছা আফরোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেউ কথা রাখে, কেউ রাখেনা। সেই আক্ষেপে কবি সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় লিখলেন, তেত্রিশ বছর কাটলো তবু কেউ কথা রাখেনি। বরিশাল সদর আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ আওয়ামী লীগের অন্যতম অভিভাবকের কাছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদটি চাইলেন নিজের জন্য নয়, বরং সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে। এমনকি তিনি এও বললেন যে, অন্তত ইউনিয়ন পর্যায়ে তার প্রস্তাবিত পদগুলো যেন বিবেচনা করা হয়। এজন্য তৃণমূল আ’লীগ থেকে আসা তিনজন চেয়রম্যান পদপ্রাথী দেয়ার কথা। কিন্তু কিশের বিনিময়ে ঐ নেতাদের যে প্রার্থী দেয়া হলোনা আমি বুঝতে পারিনি। একজন পৃতিসমতুল্য রাজনৈতিক ব্যাক্তি রাজনীতিতে কোন ছাড় কিংবা আপোষ নেই তা কিন্তু আমার বরিশালের জেলা আ’লীগ এর সভাপতি দেখিয়ে দিলেন। তারপরও বরিশাল আ’লীগের বিভাজন যাহাতে না হয় আমি বারবার তার কাছে গিয়ে পরামর্শ করি এবং তার কথামত মহানগর আ’লীগ নতুন কমিটি নিয়ে যে অবস্থার তৈরী হয়েছে তা আমাকে রীতিমত অবাক করেছে। বরিশাল মহানগর আ’লীগ কমিটি নিয়ে আমার জন্য বরিশাল মহানগর আ’লীগের সভাপতি পদ নেয়ার জন্য তার কাছ থেকে বারবার অনুরোধ আসে। আমি বরিশালের হিরণের রেখে যাওয়া সবার সহযোগিতায় বরিশাল মহানগর আ’লীগকে শক্তিশালী করার জন্য তৃণমূল আ’লীগ কর্মীদের যোগ্যতা অনুসারে যেভাবে সাজিয়ে রেখে ছিল তা আমি ধরে রাখার জন্যই হাসানাত সাহেবের কথায় মহানগর আ’লীগের নতুন কমিটি নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেইনি। হিরন অনুসারি আ’লীগ নেতা কর্মীরা কোন কথা বলেনি। তার প্রতিদান হিসেবে পরিক্ষিত রাজপথের কর্মী যারা হিরনকে ভালবেসে ছিল তাদেরকে বরিশাল মহানগর আ’লীগের কোন পদে রাখে নাই। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং বাংলাদেশ আ’লীগের কর্মী হিসেবে বরিশাল মহানগর আ’লীগের সাধারণ কর্মীদের পাশে আছি এবং থাকবো। অথচ জননেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ কথা রাখেননি। যতদুর ধারনা করি হাসনাত ভাই কথা দিলে তা রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু কথা না রেখে তিনি কি আওয়ামীল রাজনীতির বিভাজন জিইয়ে রাখলেন না ? শহরের বিজ্ঞমহলের মতে, নারী জাগরন, নারী উন্নয়ন নিয়ে যত কথা বলা হচ্ছে কার্যতঃ তা তেমন লক্ষ্যে পৌছতে পারেনা। কারন নারী নেতৃত্ব তৈরী না হলে, নারী জাগরন অর্থহীন। বিহারের মূখ্যমন্ত্রী রাবড়ী দেবী হেশেল থেকে এসেছেন, রাজনৈতিক পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই। অথচ তিনি দক্ষ হাতে বিহারের মত গোলযোগপূর্ন রাজ্য সামলাচ্ছেন। জেবুন্নেছা আফরোজের সামাজিক কর্মকান্ডের যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গঠনমূলক বক্তব্য দিতে পারেন। অভিজ্ঞতা অবশ্যই একটা ব্যাপার। বড় ব্যাপার। কিন্তু সৎ এবং আদর্শ বিচ্যুত না থাকাটা তার চেয়েও বড় অভিজ্ঞতা। দুইটি প্রবাদ বাক্য আছে, রোম একদিনে গড়ে ওঠেনি এবং রোমে বাস করতে হলে রোমান হতে হয়। সেজন্য বার্নার্ড শ বলেছেন, আশা হচ্ছে জেগে দেখা স্বপ্ন। ২য়তঃ শহরে এমন বেশ হাইব্রীড আওয়ামী লীগার আছেন যারা রোমে বাস করেন অথচ রোমান নন। এ বিষয়ে বরিশাল- ৫ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন, সুস্থ ধারার রাজনীতিতো ওষুধ কোম্পানীর চাকুরী নয় যে পূর্ব অভিজ্ঞতা জরুরী। বরং আন্তরিকভাবে আদর্শকে বুঝে, তা ধারন করে যে কেউই রাজনীতিতে অন্তর্ভূক্ত হতে পারে। আর একটি বিষয়, রাজনীতিতে উত্থান পতন এবং পদমর্যাদার বিষয় রয়েছে। তবে সেসবের দিকে তাকিয়ে যেহেতু আমি রাজনীতি করিনা সেহেতু আমি বরাবরই ঘুরে দাড়াতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 26046 বার