December 7, 2016 9:36 am A- A A+

মহারাজা নারায়ন রায় এবং গাজী সাইফুজ্জামান

অনেককাল কাল পরে কথা হবে
১. ভোর হবার পূর্বে উত্তরÑপূর্ব কোনে হাতিটা থামালেন মহারাজা (কন্দর্প)নারায়ন রায়। অগ্নিগর্ভ চন্দ্রদ্বীপ( আজকের বরিশাল)। গত কৃষ্ণপক্ষে পূর্বতন মহারাজ দনুজমর্দন দেবের নামে একটা বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে খবর আসে, সেনাপতি মানসিংএর ফৌজীরা কচা নদীর (মোড়েলগঞ্জের) দিকে অবস্থান করছ। এবং সন্দ্বীপে মগÑহার্মাদ জলদস্যূদের। কিছু ঘাঁটি দখল করে অসংখ্য নৌকা এবং বজরা সহযোগে চন্দ্রদ্বীপের সীমান্তে প্রবেশ করে সেনাপতি মানসিংএর মুঘল ফৌজীরা। ( বীর ঈশা খান বাংলা স্বাধীন করতে সশস্ত্র হয়েছেন। অন্যতমভাবে তাকে স্বসৈন্য সমর্থন করেছেন মহারাজ নারায়ন রায়) চন্দ্রদ্বীপের খাল মুঘলরা দখলে নিতে পারেনি। তা বরাবর নারায়ন রায়ের অনুগত স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের দখলেই ছিলো.
২. ব্রটিশদের খুব সম্ভব রেমিংটন কোম্পানীর ভারী স্টীমার (ওগুলোতো এুিতেই ভারী। সেরকম ভারী নয়), ডেকে দাড়িয়ে আছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। নদীর তীরে সারি সারি ঝাউগাছ আর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা খাল দেখে মুগ্ধ কবি..
৩. নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষ বর্তমান
৪. বরিশা ্রশাসক ড. গাজী মোহাম্মদ সাইফুজ্জামানের একটা আলাদা অনুভূতি আছে। তিনি বাংলা সাহিত্যে এ বিষয়ের উপর গবেষনা করে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। অতএব অনুভূতির দিক থেকে তাকে ধান, নদী ,খালের মানুষ বলা যেতে পারে। হাজার বছর পরে নারায়ন রায় মহাশয়ের সেই খালগুলান খালতো নয় যেন বিরাটকায় নর্দমা। গাজী সাহেব ডাক দিলেন সচেতন হাজারো মানুষ কন্ঠ মিলালেন। রাতারাতি শহরের খালগুলো নর্দমামুক্ত হোল। অনেকে বলাবলি করছে, ডিসি স্যারে না থাকলে খালও কি আর থাকবে..?
বি;দ্র; ক্রুসেড তথা রক্তাক্ত ধর্মযুদ্ধের পূর্ব মূহুর্তে ভেনিস দখলের সিদ্ধান্ত নেয় সার্দিনিয়ার সম্রাট সীজার বোর্গিয়া। এক শুক্লপক্ষ অর্থাৎ পূর্নিমা রাতে ভেনিস শহরের সীমান্তে স্বসৈন্য অবস্থান নেয় সম্রাট। ভেনিসের খালে ডেউয়ের তোড়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে চাঁদ। মুগ্ধ সীজার টের পেলোনা রাত গড়িয়ে সকাল। যুদ্ধ আর করা হলোনা সে যাত্রায়। অনেক বছর পর, কোন এক পূর্নিমার রাতে বরিশাল শহরবাসীগন যখন দেখবে ভেঙ্গে
ভেঙ্গে পড়ছে চাঁদ নথুল¬াবাদ কিংবা ভাটার খালের পানিতে তখন গাজী সাহেবের কথা খুব মনে পড়বে..

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1247 বার