January 17, 2017 3:21 pm A- A A+

মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ জাহাঙ্গীর

আনোয়ার হোসেন
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) মেয়র আহসান হাবীব কামালের নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধাবাদী অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। অথচ চর্তুমূখী চাপে কোনঠাসা মেয়র নিজেই জানেনা তার এহেন দশার সূত্রপাত কোথায়। ক্ষমতার অর্ধৈকটা সময় পার করলেও অভিযোগ পিছু ছাড়ছেনা তার। বিসিসি’র একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম না প্রকাশের শর্তে জানায়, রোড ইন্সপেক্টর (আরআই) জাহাঙ্গীর হোসেন পৌরসভা থাকাকালীন মেয়র কামালের রাজনীতি করার সুবাদে চাকুরী পায়। মেয়র কামালের পকেটের লোক হওয়ায় তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাম ভাঙ্গিয়ে দিনে দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। পৌরসভা থাকাকালীনও জাহাঙ্গীরের কথাই ছিল শেষ কথা। পরবর্তীতে সিটি হওয়ার পর সাবেক মেয়র এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং প্রায়ত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আমলে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেনা এমন ভূমিকায় থাকেন তিনি। এদিকে তৃতীয় সিটি নির্বাচনে ২০১৩ সালে বিএনপি পন্থী মেয়র হিসেবে আহসান হাবীব কামাল নির্বাচন করলে তাকে জয়ী করার জন্য অনেক শ্রম মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় জাহাঙ্গীর থাকায় পকেটের লোক বনে যায়। মেয়র হিসেবে বিসিসিতে ক্ষমতা বুঝে নেবার পর থেকেই জাহাঙ্গীর একের পর এক দূর্ণীতি, অনিয়ম এবং তার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, জাহাঙ্গীর মেয়রের আস্থাভাজন হওয়ায় মেয়র ক্ষমতায় বসা থেকেই শ্রমিক পদে নিয়োগ দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা করে হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও গত বছর বিসিসি’র সম্পত্তি শাখার ড্রাপ্স ম্যান প্রদিপ কুমার দাসের ভগ্নিপতি পুলিশ কনস্টেবল থেকে সাব ইন্সপেক্টরে (এসআই) পদোন্নতি দেবার কথা বলে ২ লক্ষ টাকা নেয়। পরবর্তীতে পদোন্নতি না দিতে পারায় এবং টাকা দিতে অস্বীকার করার ফলে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর হোসেনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে ধাপে ধাপে বলেও জানায়। এছাড়াও বিএনপি দলের রাজনীতি করা এবং মেয়র কামালের আস্থাভাজন হবার ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিয়েও কটুক্তি করে পার পেয়ে যায় আরআই জাহাঙ্গীর। এ বিষয়ে তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্বাক্ষীদের নানান ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষ্য ঘুরিয়ে দেবার জন্য স্বাক্ষীদের কিনলেও স্বাক্ষীরা তার শিখানো কথা না বলায় মেয়রের ক্ষমতা বলে ৮ জন আরআই শাখার দৈনিক মজুরীর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য শাখায় বদলী করে। অপর দিকে সম্প্রতি আরআই শাখার ৬জন চাকুরীচ্যুত হওয়ার রহস্যও খোলশা হয়ে গেছে। সম্প্রতি মেয়র আরআই শাখার দৈনিক মজুরীর ৬ জন শ্রমিককে চাকুরীচ্যুত করার পর। চাকুরীচুত্যদের মধ্যে নাম না প্রকাশের শর্তে দু’জন শ্রমিক জানায়, আরআই জাহাঙ্গীর চাকুরী দেবার কথা বলে বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে টাকা নেয়ায় তার খোঁজে বিসিসিতে তাদের শাখায় আসে এবং জাহাঙ্গীরকে না পেয়ে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। ভূক্তভোগীরা তাদের সাথে প্রতারণার ঘটনা বললে এবং তা শ্রমিকরা মেয়রকে অবহিত করবে বলে জাহাঙ্গীরকে জানালে পাঁচ কান হওয়ার পূর্বেই মেয়রের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়রকে দিয়েই দরিদ্র ৬জন শ্রমিককে চাকুরীচ্যুত করে। এদিকে বিসিসি’র সকল কার্যক্রম ঠিকঠাক চলে আসলেও রোড ইন্সপেক্টর আরআই শাখায় প্রায় প্রতিদিনই ভীড় করে প্রতারণার স্বীকার ভূক্তভোগীরা। ফলে জাহাঙ্গীর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই হয়ে যায় লাপাত্তা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসহ বিভিন্ন শাখায় কর্তব্যরতরা পরেছে মহা বিপাকে। একাধিক ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করলেও ভূক্তভোগীদের কান্না আর কষ্টের জমানো টাকার ইতিহাস শুনতে শুনতেই বিরক্ত হয়ে উঠেছে নিক কর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। এ বিষয়ে ভূক্তভোগীরা মেয়র বরাবর যাবার সিদ্ধান্ত নিলে ছলে বলে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয় অন্যত্র। তবে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, এমন প্রতারণার যথাযথ শাস্তি প্রদান না করা হলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তারা আরো জানায়, আগামীকাল মানে আজ বিসিসি মেয়র বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিবেন সুরাহা পেতে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1854 বার