April 8, 2017 4:50 pm A- A A+

শওকত হোসেন হিরনের ৩য় মৃত্যূবার্ষিকী আজ

এপ্রিলের মাসে তা যেন ভাঙ্গনের শব্দ শোনায়.. ..
দেখতে না দেখতে তিনটা বছর পাড় হলো । কবি নাজিম হিকমতের ভাষায় টুটি টেপা শিশুর রক্তের মত সময় গড়িয়ে যায়। বরিশাল নগরে আবর্জনা উপচে পড়ছে, চৈত্রের খড়ায় জিন্নাত বিবির পুকুরের কোনে মেটে হাড়ির ¯ু‘প। বেচেঁ থাকলে হিরন এসবের নিস্পত্তি করতো। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে বলে, কেউ বলে আফসোসের সুরে। বিজ্ঞ মহলের মতে, একজন রাজনীতিবিদ ভালো সমাজসেবক হতে পারে তবে তা দূর্লভ। এবং একজন সমাজসেবী ভালো রাজনীতিবিদও হতে পারেন। প্রয়াত নগর পিতা শওকত হোসেন হিরন ছিলেন তিনএর সমন্বয়ে এক তেজোদ্দীপ্ত পুরুষ। দক্ষ প্রশাসক, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ।
বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসক থাকাকালীন সময়েই তিনি শহর, জনপদ, শহরতলীকে প্রত্যহ কাছ থেকে দেখতে পেয়েছেন। কর্মোপলক্ষে তার রয়েছে বৈদেশিক অভিজ্ঞতা, এসব কিছুকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন উন্নত এক নগর নির্মানে। তিনি তখন সিঙ্গাপুর । একচিলতে সিঙ্গাপুর। অথচ কত কি আছে দেখার। আদিগন্ত প্রশান্ত মহাসাগর, সিংহনিনাদ, বিখ্যাত মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল , অথচ মেয়র হিরন তখন একধরনের নিস্পৃহ। বরং পথঘাটের ছবি তুলছে , নিয়ন আলোয় উদ্ভাসিত সিঙ্গাপুরের ছবি তুলছে। তার সহধর্মিনী বর্তমান বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ বললেন, তুমি এ দিয়া কি করবা ? গম্ভীর এবং ছবি তোলা ও পর্যবেক্ষনে ব্যস্ত হিরন কোনরকমে বললেন, বরিশাল নগর উন্নয়নে কাজে লাগাবো। জেবুন্নেছা হেসেই বাচেঁনা, মনে থাকবেতো? কিছু বলেনা হিরন কটমট করে তাকায়।
দেশে এসে আবার গেলেন সৌদী আরব। গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে রাস্তাঘাটের ছবি তুললেন, লোকালয় পর্যবেক্ষন করলেন । যে কোন অভিজ্ঞ চোখ জানবে সিঙ্গাপুর, সৌদী আরব, আমেরিকা , ফ্রান্স , জার্মান কত মেগা সিটির পরিকল্পনা ছিলো হিরনের একরত্তি বরিশাল ঘিরে। অনুসন্ধিৎসু মনের শওকত হোসেন হিরন জানে বরিশাল মিউনিসিপ্যালটি মহাত্মা অশ্বিনী কুমার, খান বাহাদুর হাশেম আলি খান, হেমায়েতউদ্দিন আহমেদ প্রমুখদের স্পর্শে ধন্য। আর তাই নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতিটাকে সে মাথায়ই রাখতো। অন্তরে নগর উন্নয়ন। রাজাকারদের রাজনীতি বাদে দেশের প্রথম সারির সব রাজনীতিই তার দেখা অনুশীলনেও অধ্যয়নেও। তাই বলা যায় রাজীতিতে তিনি সম্পূর্ন এবং অতৃপ্তও । বিষয়টা পরস্পরবিরোধী হলেও প্রকৃতির এমন ব্যবস্থা। স্বয়ং আল্লাহরাব্বুল আলামিন একদা প্রফেট মুহাম্মদ ( দঃ ) এর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হে মুহাম্মদ দুনিয়ার কাউকেই আমি সম্পূর্ন করে পাঠাইনি, এমনকি তোমাকেও না। পুত্র শোক বুকে নিয়ে তোমাকে এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে। প্রফেট মুহাম্মদের কাশেম (রাঃ), আব্দুল্লাহ (রাঃ) কোন
সন্তানই দেড় দুই থেকে চার বছরের বেশী বাঁচেনি.. যাইহোক এসব হেরমেটিক জ্ঞানের সম্যক উপলদ্ধি আপাততঃ আমাদের আয়ত্বের বাইরে। তবে বলা যায় কত দেশ ঘুরলেন কত কি দেখলেন প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন কিন্তু আবু সাঈদ আইয়ূবের কবিতার মতন Ñ আরতো সময় নেই হোরেশিও তোমাকে বলার .. প্রিয় শহরটিকে বলার মত সময় আর পায়নি হিরন। কেন কে জানে।
বিঃ দ্রঃ হযরত মুহাম্মদের বড় সন্তান হযরত কাশেম যখন মারা যায় তখন বৃহত্তর এশিয়া মাইনরে চলছিলো দুনিয়া কাপাঁনো মহানবী (দঃ)’র পশ্চিম অভিযান। এক সন্ধ্যায় জনা সাতেক বেদুঈন যোদ্ধা নিয়ে নিজ বসতিতে আসেন প্রফেট। কিন্তু ভ্রু কুচকে তিনি লক্ষ্য করলেন, বসতি অন্ধকার। ঘরে খাদ্য থাকুক আর নাই থাকুক ধনী গরিব প্রত্যেক হিব্র“ বস্তিতে আলো জ্বলবে এটা হাজার বছরের ঐতিহ্য মধ্ব্য গোলার্ধ্বের। অতঃপর প্রফেটের ভেতরে পশ্চিম দরিয়ার ঝড় বয়ে গেলো। জানলেন, তার প্রিয় পুত্র কাশেম নেই। হযরত আলি(রাঃ)কে সরিয়ে একঝটকায় কাশেমের মরদেহটি নিজের কাধেঁ তুলে প্রফেট বললেন, হে আলি পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ দুনিয়ার সবথেকে ভারী বস্তুটি আমাকে বহন করতে দাও.. .. যখন দেখলাম পুত্র সাজিদের কাধেঁ পিতা শওকত হোসেন হিরনের লাশ তখন আমাদের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। সাজিদকে বলার মত কোন সংলাপ এখনও পাইনি । আমাদের পশ্চিমেতো ভূমধ্যসাগর নেই আছে নদী কীর্তনখোলা, তার ঝড়ো বাতাস আজও আমাদের অন্তরে, এপ্রিলের মাসে তা যেন ভাঙ্গনের শব্দ শোনায়..

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 3263 বার