April 9, 2017 3:54 am A- A A+

মেয়র হিরনের আত্মার অস্তিত্ব আছে সর্বত্রই

হেনরী স্বপন
মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুদিন ! দিনটি হতে পারে বরিশালবাসীর জন্য আনন্দ- বেদনার দ্বিমিশ্রিত গোধুলীর মতন। আজ আমাদের কাছে, মানুষ হিসেবে আছে- শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুমুহুর্তের ট্রাজেডি…যা কেবল প্রতিনিয়ত আমাদের শহর আইকনের মৃত্যুর সঙ্গেও জড়িত। তাই শুধু মৃত্যুর নয় আমরা যেনো বেঁচে থাকারও ক্রীতদাস। এ কারণেই বিবেকানন্দ মানুষের আত্মশক্তি জাগ্রত করার জন্য গভীর প্রত্যয়ে বলতেন, ‘জন্মেছিস যখন একটা দাগ রেখে যা…।’ জন্ম ও মৃত্যুর মাঝখানে এই দাগ-ই স্রোতের বাইরে কোনও মানুষকে আলাদাভাবে চিহ্নিত হওয়ার স্মারক করে তোলে। অতএব, স্বতন্ত্র অবদানের মাধ্যমে যারা এই ‘দাগ’ রেখে যেতে পেরেছেন, তারাই দেশ ও সময়ের আবহমান জীবনধারায় অনন্য এই একেকজন প্রতিকীমানুষ রূপে চিহ্নিত হয়ে যান। কেননা, শওকত হোসেন হিরনের অসময়োচিত তার মৃত্যুর পর বরিশালবাসী প্রতিনিয়ত এই মানুষটিকে স্মরণ করছেন না কী ? তাহলে, আমরা আজ তার সমস্ত কৃতীত্বের জন্য যদি সেইসব স্মরণীয়দের তালিকায় মেয়র শওকত হোসেন হিরনের নাম সংযোজিত করতে চাই, তাতে কেউ কি খুব আপত্তি করবেন ? হয়তো কেউ কেউ সেটা করবেনও। অবশ্য তাদের আপত্তির কারণগুলিও হয়তো বিনা দ্বিধায় উপেক্ষা করার মতোনও নয়। কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই যখোন এরশাদের জাতীয় পার্টির মাধ্যমে রাজনীতিজীবন শুরু। জীবন-যাপনের এই স্তর থেকে উঠে এসে, পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে দীক্ষিত ছিলেন না তখনও, তবু সেখানেই নিজেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারপর এই জীবন আরও বিস্তৃত হয়েছে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর মাধ্যমে আওয়ামী রাজনীতির বৃহৎ পরিসরে এসে। এবং তখন থেকেই তার নিবেদিত নেতৃত্বের মাধ্যমে, আমাদের প্রাণের শহর বরিশালের মেয়র নির্বাচিত হয়ে, বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নিরলস কাজ করে গেছেন। তা ইতিহাসের সর্ব-অর্থেই এক দুশ্চর অভিযাত্রা। যে অভিযাত্রায় তিনি একই সঙ্গে অধিকজনের কাছে অভিনন্দিত ও কিছু নিন্দুকের কাছে সমালোচিতও ছিলেন বটে। তবে, তার অজস্র উন্নয়ন কাজের গতির পাশে ছায়ার মতো আজও আমাদের কাঙ্খিত রয়েছে-‘বরিশাল মডেল’ গড়ে তোলার সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন। যদিও দ্বিতীয় পর্যায়ে বরিশালবাসী তাকে নির্বাচিত করেন নি। সেটিই হয়তো আমাদের ভুল সিদ্ধান্তের অন্ধকার-আতঙ্ক। কেননা, আমাদের সেই ভুলের চারপাশে আজ অজ¯্র ময়লার স্তুপ জমে উঠছে। দুর্গন্ধে দুবর্সিহ শহরবাসী পথচারীর পেটের কৃমি নাক ও কানের ফোকর গলিয়ে বেড়িয়ে আসছে। পথের পাশের সবুজ বেষ্টিত গাছগুলি মরে যাচ্ছে। ফুল ও ফলের বাগানগুলো সঠিক পরিচর্যার অভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার পুকুর সংরক্ষণের মাধ্যমে যে ওয়ার্কিংওয়ে তৈরি করা হয়েছিলো, সেগুলোও ধ্বংসের শেষ পর্যায়। তাই, আমরা যে প্রশস্থ রাস্তাঘাট- পার্ক- পথের পাশের বাগানে সজ্জিত- এই আইকন শহরের এতোসব সৌন্দর্যের মাঝে দু’দ- দাঁড়ালেই, যে বনলতার অপরূপ-রূপ খুঁজে পাচ্ছিলাম। এমন কি এই শহরের রাজনীতিক প্রতিহিংসা মুক্ত যে সহ-অবস্থান, সুস্থ্য রাজনৈতিক পরিবেশ করেরেখে গেছেন। এই এতোসব কৃতিত্বের দাবীদার হিসেবে, আজও আমরা মেয়র শওকত হোসেন হিরনের অবদানকেই আকপটে স্বীকৃতি দিয়ে, তার মহানুভবতার কথা নানাভাবেই স্মরণ করতে পারি। তাই, কর্মই জীবন, এটা সকলেই জানেন যে, অন্তত এতাবৎকাল, কোনও খাপেই জীবনের পুরোটা লুকানো সম্ভব নয়। মেয়র হিরনকে একজন সফল মানুষ মনে করে নিতে গেলেই, তার নেতৃত্বের অসামান্য সাফল্যগুলো, তার- অন্যান্য ব্যর্থতার তুলনায় একটু বেশীই প্রতিভাত হয়ে ওঠে না কি ? আমরা তো, এও উপলব্ধি করি যে, মেয়র শওকত হোসেন হিরনের স্বপ্নেই- বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ এখনও উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বপ্ন দেখে। তাই, মৃত্যু শুধু একজন মানুষের নয়, এই মৃত্যু একটি গল্পেরও। কিন্তু গল্পতো মরে না, আগামী গল্পের জন্মের প্রয়োজনে অতীত গল্পকে বেঁচে থাকতে হয়। তাহলে, যদি বলি, আজ শওকত হোসেন হিরনের যে মৃত্যুদিন পালিত হবে, সেখানে উচ্ছ্বাস, আবেগ, স্মরণালাপ সবই হবে, কেবল সেখানে আপনার সরব উপস্থিতি কিছুতেই সম্ভব হবে না। কিন্তু মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মতো সফলপ্রাণ মানুষের এই গল্প শুনে, বরিশালবাসী বর্তমানেও কাঁদবে- ভবিষ্যতেও কাঁদবে…!

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 369 বার