October 1, 2017 6:44 pm A- A A+

অনিয়ম দুর্নীতির নায়ক বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ তরিকুল

বাণী ডেস্ক
সমালোচিত হয়ে উঠছে বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ এ এস এম তরিকুল ইসলাম। চলতি বছরের জুন মাসে বরিশালের একাধিক স্থানীয় পত্রিকায় ‘বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরই বেড়িয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি ও তার স্ত্রী যেখানেই কর্মরত ছিলেন সেখানেই রেখেছেন অনিয়ম দুর্নীতির চিহ্ন। ‘যশোর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ॥ সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এডিসির সামনেই ছাত্রদের ধমক’। ‘ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন’। ‘টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ব্যবহারিকে অনাভ্যন্তরীন শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ’ অধ্যক্ষ এ এস এম তরিকুল ইসলাম’র বিরুদ্ধে ওই সব শিরোনামে কালের কন্ঠ, কাগজ সংবাদ, ঠাকুরগাঁওয়ের খবর, উত্তর কথা, সংগ্রামী বাংলা, লোকায়ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ থাকে ‘যশোর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী একই কলেজের কম্পিউটার বিভাগের চিফ ইন্সট্রাক্টর আয়েশা চৌধুরীর বিস্তর অনিয়মের প্রতিবাদ এবং তাদের অপসারণের দাবীতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, মানবন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান করেছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক পরিদর্শনে যান যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শেফিনা বেগম। এডিসির আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা শান্ত হলেও ওই কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদান করে অধ্যক্ষ তরিকুল ও তার স্ত্রী। গত ১১/০৮/২০১১ ইং তারিখে যশোর জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ‘যশোর সদর উপজেলাধীন টেশনিক্যাল স্কুল ও কলেজে বিরাজমান ছাত্র অসন্তোষ দূরীকরণ প্রসংগে’। যার স্বারক নং- জেপ্রকায/শিক্ষা/­১৩তম-২৭/১১-৮১২(৩)। ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে তারিকুল এবং ২০১০ সালের মার্চ মাসে তার স্ত্রী আয়েশা চৌধুরী ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছিল। ২০০৯ সালে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে ফর্ম ফিলাপ করতে দেয়নি। আবার অর্থ উৎকোচের মাধ্যেমে কয়েকজনকে করতে দেয়া হয়। প্রতি ৩ ও ৬ মাস মেয়াদী কম্পিউটার শর্ট কোর্স পরীক্ষার কেন্দ্র ফি থেকে প্রাপ্ত ৮০-৯০ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জামা না দিয়ে তিনি হাতিয়ে নেয়। ২০১০ এবং ২০১১ সালে একাদশ ফাইনাল পরীক্ষায় অকৃতকার্য কয়েক শিক্ষার্থীকে টাকার বিনিময় উর্ত্তীণ করিয়ে দেয়। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ‘অধ্যক্ষ তরিকুল ও তার স্ত্রীর অপসারণ চেয়ে এক দফা এক দাবীতে হ্যান্ড লিফলেট বের করে।’ ওই লিফলেটে স্বামী-স্ত্রীর অনিয়ম দুর্নীতির নানা তথ্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা। একইভাবে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ কর্মরত অবস্থায় অধ্যক্ষ তরিকুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। যা জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করার পর তরিকুল অনিয়ম দুর্নীতির পাশাপাশি জামায়েত পন্থীর অভিযোগ এনে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাবাসীর পক্ষে আ’লীগ সমর্থক মো. শরীফ হোসেন এবং বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ শিক্ষক/কর্মচারীর পক্ষে মিজানুর রহমান নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ২০১৭ সালের ১৬ জুন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বেসিক (শর্ট কোর্স) বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মানুযায়ী সম্মানী বন্টন না করে দায় সারাভাবে সম্পন্ন করেছে। তহবিলের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মাসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার সুবাদে স্বামী তরিকুলের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী আয়েশা চৌধুরী অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে থাকেন। উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 621 বার