October 1, 2017 6:53 pm A- A A+

নাজেম’স রেস্তরার ভেজাল বিরিয়ানী খেয়ে অসুস্থ-১২

বাণী ডেস্ক
বরিশালের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরায় র্যাব-৮ এর ভেজাল বিরোধী অভিযান নিয়ে গোটা নগরী উত্তপ্ত হওয়ার রেশ কাটতেই না কাটতেই অসাধু ব্যবসায়ীদের অপকর্ম ফের প্রকাশ্য হয়েছে। এবার বরিশালের বেশ জনপ্রিয় এবং দাপুটে রেস্তরা নাজেম’স রেস্তরার বিরুদ্ধে ভেজাল খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নাজেম’স রেস্তরার বিরিয়ানী খেয়ে ডায়রিয়া রোগ নিয়ে বরিশাল সদর হাসপাতালে দু’জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে একজনের পরিবারের সবাই অসুস্থ এবং তারাসহ অন্য যে’কজন নগরীর মল্লিক রোডের একটি বাসায় আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে ওই বিরিয়ানী খেয়েছে তারা সবাই কম-বেশি অসুস্থতায় ভুগছেন।এদিকে সরেজমিনে বরিশাল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই রোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা সরাসরি নামেজ’স রেস্তরাকে দায়ী করেছেন তাদের অসুস্থতার জন্য এবং দাবি করেছেন, বরিশালে নামেজ’স রেস্তরা যেন অন্য কাউকে এমন ভেজাল খাইয়ে অসুস্থ না করে ফেলে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে। তবে নাজেম’স রেস্তরার পরিচালনাকারী মালিক-পুত্র রেজা বলেছেন, অসুস্থ ব্যক্তিরা তাদের বিরিয়ানী খেয়ে নয়, অন্য কিছু খেয়ে অসুস্থ হয়েছে।অপরদিকে বরিশালের সুশীল সমাজের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে নাজেম’স রেস্তরা খাবার সরবরাহ করায় তাদের অপকর্ম চলে দাপটের সাথে। পুলিশ-প্রশাসনের সাথে সখ্যতা রয়েছে এমনটি প্রচার করে এর মালিকপক্ষ যাচ্ছে-তাই আচরণ করে ক্রেতাদের সাথে। তাদের খাবারের মান নিয়ে কোন ক্রেতা প্রশ্ন তুললে কিংবা অভিযোগ করলে তারা গ্রাহ্যই করেন না। ক্রেতাদের সাথে তাদের ভাষ্য, আমরা প্রশাসনের এত বড় বড় যায়গায় খাবার সাপ্লাই দেই কেউ অভিযোগ করেন না। ২/১ প্যাকেট খাবার নিয়ে এত কথা শোনার সময় নাই।অসুস্থ বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মোঃ নূর উদ্দিন (৩২) বলেছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি তার পুত্রের জন্য নাজেম’স রেস্তরা থেকে ১ প্যাকেট বিরিয়ানী নেন। বাসায় নিয়ে ছেলেকে খাওয়ানো শুরু করলে একটু খেয়ে তার ছেলে ভালো লাগছেনা বলে বিরিয়ানী রেখে দিলে নূর উদ্দিন নিজেই খেয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, খাওয়ার সময়ই গন্ধ এবং স্বাদ অনেকটা পচা-বাশি লাগছিল। তাও তিনি খেয়েছেন। ওই রাত থেকেই তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করেও সুস্থ না হওয়ায় তিনি গতকাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তিনি ভর্তি হয়ে দেখেন তার পাশের বিছানায়ই শুয়ে আছেন বগুড়া রোডস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম (৫৫)। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাজুলও একই রাত থেকে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত নাজেম’র রেস্তরার বিরিয়ানী খেয়ে। তবে তাজুল ইসলাম আরো অবাক করে দিয়ে জানালেন শুধু তিনি নন। তার পরিবারের বাকী তিনজন সহ আরো ৫/৬ জন অসুস্থ হয়েছেন ওই একই বিরিয়ানী খেয়ে। তাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মল্লিক রোডের সরদার শাহীনের বাসায় তার স্বপরিবারে আমন্ত্রণ ছিল। সেখানে তিনি, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম, দুই ছেলে তাসিম ও সাদিমসহ ওই বাসায় আমন্ত্রিত ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির এবং আমন্ত্রণদাতার দুই মেয়েসহ প্রায় ৯/১০জন ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত ওই রাত থেকেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাদের সবাইকে নাজেম’স রেস্তরা থেকে বিরিয়ানী এনে খাইয়েছিলেন সরদার শাহীন। ওই বিরিয়ানী তার পরিবারসহ যে যে খেয়েছে তারা সবাই এখন ডায়রিয়ায় ভুগছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের কারণে হোটেল-রেস্তরা যে দুই দিন বন্ধ থাকায় পুরানো বাশি খাবারই এখন গরম করে বিক্রি করছে। যা খেয়ে সবাই অসুস্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে কথা বললে র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক সোহেল রানা প্রিন্স বলেন, আমাদের ভেজাল বিরোধী অভিযান নিয়মিত চলবে। কে ক্ষমতাবান কিংবা দাপুটে তা আমার দেখব না। ভেজাল কর্মকান্ড করার প্রমাণ পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1117 বার