October 9, 2017 12:38 am A- A A+

বাংলাদেশে মরণ ঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’ আতঙ্ক : খোঁজ রাখুন প্রিয়জনদের

বাণী ডেস্ক
এবার বাংলাদেশে হানা দিলো মরণ নেশা ব্লু হোয়েল। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর এই গেমের বলি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী। গত দু’মাস ধরে ভারতজুড়ে চলছে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক।অনলাইন সুইসাইড গেম ‘ব্লু হোয়েল’। এই গেমের ৫০টি ধাপ। সর্বশেষ পরিণতি আত্মহত্যা। লেভেল ও টাস্কগুলো ভয়ঙ্কর। গেম যত এগোবে টাস্ক তত ভয়ঙ্কর হতে থাকবে।
প্রথমদিকের টাস্কগুলো মজার হওয়ায় সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা। কেউ খেলায় ইচ্ছুক হলে তার কাছে পৌঁছে যায় নির্দেশাবলি। সেইমতো নির্দেশ বা চ্যালেঞ্জগুলে একে একে পূরণ করে তার ছবি পাঠাতে হয় গেম হ্যান্ডলারকে।জানা গেছে, ২০১৩ সালে রাশিয়ায় শুরু হয় এই প্রাণঘাতী গেম। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দু’বছর পরে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, নীল তিমিরা মারা যাওয়ার আগে জল ছেড়ে ডাঙায় ওঠে যেন আত্মহত্যার জন্যই। সেই থেকেই এই গেমের নাম হয়েছে ‘ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি’।প্রথমে সাদা কাগজে তিমি মাছের ছবি এঁকে শুরু হয় খেলা। তারপর খেলোয়াড়কে নিজেরই হাতে পিন বা ধারালো কিছু ফুটিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে আকঁতে হয় সেই তিমির ছবি। একা ভূতের ছবি দেখতে হয়, আবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঘুম থেকেও উঠতে হয়। চ্যালেঞ্জের মধ্যে অতিরিক্ত মাদকসেবনও রয়েছে। গেমের লেভেল যত এগোয়, ততই ভয়ঙ্কর হতে থাকে টাস্কগুলো। এই টাস্কগুলোতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন।
‘পপকর্ন কার্নিভাল’ নামে বাংলাদেশে ছড়ানো হচ্ছে মরণঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের লিঙ্ক। +৯১৭৫৭৪৯৯৯০৯৩ নম্বর থেকে ফোন করে প্রথমে টার্গেটকৃত নম্বরটি ট্র্যাক করে এই ফাঁদে ফেলা হয় বলে দাবি করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।এমনকি ভারতের কান্ট্রি কোড ব্যবহার করে একটি নম্বর থেকে এই লিঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী। অনেকেই দাবি করেন, উপরে উল্লিখিত নম্বরটি থেকে প্রথমে ফোন করে কিংবা ‘পপকর্ন কার্নিভাল’ নামে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়। এটাই ব্লু হোয়েলের গোপন লিঙ্ক।তারা আরও দাবি করেন, ওই নম্বর থেকে কল করে কিংবা লিঙ্ক পাঠিয়ে ফোন হ্যাক করে গেমটি খেলতে বাধ্য করা হয়।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগও তাদের ফেসবুক পেজে ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে সতর্ক করে বলেছে, অনলাইনে ব্লু হোয়েলে গেম খেলা বা এই গেমের লিংক দেওয়া-নেওয়া বা সে চেষ্টা দণ্ডনীয়। যারা এগুলোর যে কোনো একটি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাইবার পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
এই মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য মনোবিজ্ঞানীরা কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন। সেগুলো হচ্ছে-
প্রথমতো আপনাকেই সচেতন হতে হবে।আপনি যাকে কখনও দেখেননি, যার পরিচয় জানেন না,তার কথায় কেন চলবেন বা তার কথামতো কেন কাজ করবেন- সেটি নিজেকেই চিন্তা করতে হবে। এরকম কোনো লিংক সামনে এলে তাকে এড়িয়ে চলতে হবে। সন্তান, ভাই-বোন বা নিকটজনকে কখনও একাকী বেশি সময় থাকতে না দেয়া এবং এসব গেমের কুফল সম্পর্কে বলা। সন্তানদের মাঝে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মানসিকতা সৃষ্টি করা। যাতে তারা আত্মহত্যা করা বা নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করা অনেক বড় পাপ- এটা বুঝতে পারে। সন্তান ও পরিবারের অন্য কোনো সদস্য যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় তাকে সঙ্গ দেয়া। কৌতূহলি মন নিয়ে এই গেমটি খেলার চেষ্টা না করা। কৌতূহল থেকে এটি নেশাতে পরিণত হয়। আর নেশাই হয়তো ডেকে আনতে পারে আপনার মৃত্যু।
এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই গেমে আসক্ত হয়ে রাজধানীতে ১৩ বছরের এক কিশোরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সারাদেশে আরও দুজন কিশোরকে এই গেমে আসক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 388 বার