October 31, 2017 7:04 pm A- A A+

বরিশালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত টিন বিতরণের নামে কোটি টাকা ভাগ–বাঁটোয়ারা

বাণী ডেস্ক
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া বরাদ্দের ১ কোটি টাকা ভুয়া তালিকা জমা দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, ভুয়া মাস্টাররোল দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতারা ওই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। অনেক স্থানেতালিকায় দেখানো ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব লুৎফুন নাহারের সই করা চিঠিতে দেখা যায়, অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের জন্য গত ১১ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের অনুকূলে সাতটি ইউনিয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নগদ নয়, এ টাকা দিয়ে টিন কিনে বিতরণ করতে হবে।উপজেলা প্রকৌশলী ফজল আহম্মেদ বলেন, সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানকে ৪ লাখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ৪ লাখ এবং উপজেলা পর্যায়ের একাধিক নেতাকে ১৬ লাখ করে মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দলীয় পদ থাকায় বাটাজোর ও বার্থী ইউপির চেয়ারম্যানরা ৮ লাখ করে টাকা পান। ২২ জুন তাঁরা বিল তুলে নেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। বরাদ্দের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার পর ভুয়া মাস্টাররোল জমা দেওয়া হয়েছে।বাটাজোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদারের জমা দেওয়া মাস্টাররোলে দেখা যায়, দেওপাড়া গ্রামের এবরাহিম হাওলাদারকে দুই বান্ডিল টিন দেওয়া হয়েছে। তবে এলাকায় গিয়ে এ নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। মাস্টাররোল অনুযায়ী দুই বান্ডিল টিন পেয়েছেন সিংগা গ্রামের শামীম সিকদার। তিনি বলেন, ‘আমি টিন পাই নাই।’প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ হয়এ বিষয়ে আবদুর রব হাওলাদার বলেন, অভিযোগের সত্যতা নেই। কিছু টিন স্কুল, কলেজ, মন্দির, মসজিদে দেওয়া হয়েছে।সরিকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকন মেজবা উদ্দিনের জমা দেওয়া মাস্টাররোলে দেখা যায়, দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কালাম মাতুব্বর, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রতন ব্যাপারী, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন ও সদস্য কাওছার হোসেনকে দুই বান্ডিল করে টিন দেওয়া হয়েছে।ওই চারজন বলেন, তাঁরা টিন পাননি এবং মাস্টাররোলে সইও করেননি। তবে আকন মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘টিন বিতরণ করেছি।’ভুয়া মাস্টাররোল দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতারা ওই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেনমাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর কবিরাজ, সাধারণ সম্পাদক কালাম মৃধা ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহের জমা দেওয়া মাস্টাররোলে দেখা যায়, শরিফাবাদ গ্রামের জুলহাস মৃধা সই করে দুই বান্ডিল টিন নিয়েছেন।জুলহাস বলেন, ‘আমি টিন পাই নাই। মাস্টাররোলে স্বাক্ষরও করি নাই।’ তবে কালাম মৃধা বলেন, টিনের বদলে নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া অফিস খরচের নামে উপজেলা প্রকৌশলীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে।এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ফজল আহম্মেদ বলেন, সরকারি নীতিমালা-বহির্ভূত কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁরাই এ অভিযোগ করেছেন।এসব বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার কথা বলতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা আক্তার বলেন, ‘আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। তাই এ সম্পর্কে জানি না।’

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 275 বার