December 25, 2017 8:15 pm A- A A+

বরিশাল মহানগর আ’লীগের অসম্পূর্ন স্মরণসভা!

বাণী ডেস্কঃ

মঈন তুষারঃ
কোন এক কোহকাফ নগরে কোন এক রাজার আমলে সেখানের সবকিছুর সের দশটাকা। লোহার সের দশটাকা, সোনাও দশটাকা, উট,ছাগল,ঘোড়া সব দশটাকা। ঘুরতে ঘুরতে সে শহরে আসে গুরু শিষ্য। শিষ্যতো বেজায় খুশি। আহা সব কিছু এতো সস্তা।এমন দেশইতো খুজতেছিলাম। গুরুজী বললো,এখানে এক মূহুর্তও নয় বাছা। যেখানে সবকিছু একদরে সেখানে আইন থাকলেও আইনের শাসন থাকেনা। বিচার থাকলেও ন্যায় বিচার থাকেনা। শিষ্য নাছোড়বান্দা। অতঃপর গুরুজী শিষ্যকে রেখেই সে স্থান ত্যাগ করলেন। পরে শিষ্যর কি অবস্থা হয়েছিলো সেটা অনেকেই জানেন।বরিশাল জেলা এবং তৎসহ নগর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এবং নেতাধন্য হাইব্রীড কর্মীদের অবস্থা তথৈবচ মানে সব কিছুর কেজি দশট্যাহা। ফলতঃ মূল্যায়ন এবং মূল্যবোধের সমস্যার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ হাটার বদলে হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে।অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আড়ালে আবডালে বলে, আ’লীগ না হা’লীগ মানে হামাগুড়ি লীগ। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং বরিশাল আওয়ামী লীগের জন্য প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন’র অবদান কতখানি সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা এবং তা বাটখারায় পরিমাপের বিষয়ও না।অন্ততঃ জন্ম-মৃত্যূ বার্ষিকীতে তাকে খানিক সময়ের জন্য স্মরণ করা উন্নত বিবেকের পরিচায়ক। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগ কখনোই আন্তরিক বিবেচনায় এই কাজটি করেনি।কেন করেনি কারন খুঁজতে যেয়ে প্রথমে ভাবলাম বোধহয় তেনাদের বাতের ব্যাথা,নড়াচড়ায় সমস্যা আছে। কিন্তু পরক্ষনেই ভুল ভাঙ্গলো, প্রয়াত দুই মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং আনিসুল হক’র মৃত্যূতে তারা শোক ম্মরণ সব সভাই হলো কিন্তু শওকত হোসেন হিরণের বেলায় কিছু হলোনা। সদ্য প্রয়াত দুই মেয়র এবং তাদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, চিটাগাং তিলোত্তমা নগরতো আজকে থেকে নয়। শ্রদ্ধেয় মহিউদ্দিন আহমেদের পূর্ব থেকে, বৃটিশ-পাকিস্তান আমল থেকেই তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটতে থাকে।ঢাকার অনেক কিছুরই বিনির্মানের অবদান মেয়র মোহাম্মদ হানিফের জাতীয় পার্টির হাসনাত, মালেকদের। পরবর্তী মেয়রগন সেসব রক্ষা করেছেন, নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থেকেছেন। এমনকি বারবার জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসা নারায়নগঞ্জ পৌরসভার অনেক কিছু আলি আহমেদ চুনকা সাহেবের অবদান।কিন্তু বরিশালের বিষয়টা ভিন্ন। রাজনৈতিক প্রধান জেলা হিসাবে কি পৌরসভা , কি সিটি কর্পোরেশন সবখানেই নগর উন্নয়নের চেয়ে রাজনীতি, তৎদ্বারা ক্ষমতার চর্চাটাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। মেয়র নির্বাচিত হয়ে শওকত হোসেন হিরন বলা যায় একাই বুক দিয়ে ঠেলে বরিশালকে করেছেন দৃষ্টিনন্দন তিলোত্তমা নগরে। কোন সমালোচনার ধার তিনি ধারেননি। বরং সমাআলোচনাকে তিনি বরাবরই স্বাগতঃ জানিয়েছেন। যার জন্য তার আমলে দল,মত নির্বিশেষ সকল স্তরের মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন,নগর উন্নয়নে তারা এগিয়ে এসেছে। এমনকি যোগ্যতার পুরষ্কার স্বরুপ আওয়ামী লীগকে নগর ভবন পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। কিন্তু আজ তা ইতিহাস। নগর আওয়ামী লীগের দৈন্যতা , তারা শওকত হোসেন হিরণ যে নিছক কোন ব্যক্তি নয় একটি প্রতিষ্ঠান, এক মহীরুহ যা দেশপ্রেমের জমিনে গ্রোথিত এটা ভুলে যায়, মনে থাকেনা। যার জন্য সকাল গড়িয়ে দুপুরও চলে যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় সংশ্লিষ্ট অংশটা হামা ছেড়ে সিধে হতে পারছেনা।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 606 বার