January 19, 2018 7:30 pm A- A A+

অক্সফোর্ড খ্যাত বিদ্যাপীঠ বিএম কলেজে অবাধে মাদক সেবন : ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

বাণী ডেস্কঃ

মাইদুল হাসানঃ
ঐতিহ্যবাহী ও দক্ষিন বঙ্গের অক্সফোর্ড খ্যাত বিদ্যাপীঠ সরকারী বিএম কলেজ।কলেজকে ঘিরে জড়িয়ে আছে নানান ইতিহাস এবং ঐতিহ্য। বিএম কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি’র নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র নেতারা আজ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিই এখন মাদক সেবীদের অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে।সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে এবং ছাত্রাবাসের মধ্যে ছাত্র সহ বহিরাগতদের নিয়ে গ্রুপে গ্রুপে বসে মাদকসেবীদের আসর বসে। কলেজ প্রশাসন উদাসীন। এমনকি তাদের নীরবতার পাশাপাশি নিস্ক্রিয় ভুমিকায় রয়েছে পুলিশ প্রশাসনও। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। দুর দুরান্ত থেকে লেখা-পড়া করতে এসে মাদক সেবীদের কবলে পড়ে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিএম কলেজের অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস (ডিগ্রী হোষ্টেল) এর ছাদে দিনভর চলে মাদকের আড্ডা। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হলের ছাদে বসে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য গ্রহন করে উচ্চশব্দে গান বাজায় বহিরাগত এবং কতিপয় মাদকাসক্ত ছাত্র। এর ফলে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় বিজ্ঞ ঘটছে। সেই সঙ্গে হলের আশে পাশে ফেন্সিডিল’র খালি বোতলের স্তুপ তৈরী হচ্ছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বহিরাগত এবং এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কারনে বিএম কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ হারাতে বসেছে। এরা প্রকাশ্য দিবালকে ক্যাম্পাসের মধ্যে মাদকের আসর বসাচ্ছে। গাঁজা এবং ইয়াবার গন্ধে ক্যাম্পাসে পথ চলতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বহিরাগত এবং এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কারনে বিএম কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ হারাতে বসেছে। এরা প্রকাশ্য দিবালকে ক্যাম্পাসের মধ্যে মাদকের আসর বসাচ্ছে। গাঁজা এবং ইয়াবার গন্ধে ক্যাম্পাসে পথ চলতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।কিন্তু এতো কিছুর পরেও কলেজ কিংবা হল প্রশাসন বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের মারধর সহ হুমকি-ধামকির শিকার হতে হচ্ছে। তাই ছাত্রাবাস এবং ক্যাম্পাস মাদক মুক্ত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা এর আগেও পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বিষয়টি আমাদের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। যারা এ ধরনের কাজ করে আমরা তাদের বুঝাবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথার গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই পুলিশি তৎপরতার প্রয়োজন রয়েছে। টহল পুলিশ একবার এসে কোন রকম টহল দিয়ে চলে যাচ্ছে। এর পর আর তারা খোঁজ নেয় না। ক্যাম্পাসে পুলিশের টহল ব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।এ প্রসঙ্গে বিএম কলেজের ডিগ্রি হলের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলম বলেন, আমরা প্রতি সপ্তাহে তিনদিন হল পরিদর্শন করে থাকি। তাছাড়া যে সময়ে হল পরিদর্শনে যাই। তখন বাহিরাগত কিংবা মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকেই পাচ্ছি না। ওরা সুযোগ বুঝে হল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তবে এই সমস্যা সমাধানে পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার বলা হয়েছে। তারা তৎপর হলেই ক্যাম্পাস মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 200 বার