January 23, 2018 7:44 pm A- A A+

বরিশালে ফুটপাত ভাড়া মিশনে লাখ টাকায় দফারফা

এইচ এম হকঃ
বরিশাল নগরীর লঞ্চ ঘাট এলাকার মহসীন মার্কেটের পিছনের সড়ক বন্ধ করে লাখ টাকায় ভাড়া জমিয়েছে ব্যবসায়ীরা।বিসিসির কতিপয় অসাধু কর্মচারী রাজনৈতিক নেতা সহ সংশ্লিষ্ঠদের অদৃশ্য এ সড়ক ভাড়া বিক্রি মিশন চলে আসলেও ব্যবস্থা গ্রহনে নেই কোন পদক্ষেপ। নানী বুড়ী মাজার সংলগ্ন হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেট সড়ক বরিশাল নগরীর গুরুত্ব পূর্ণ একটি সড়ক। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার যাত্রী যাতায়েত করে। সংকীর্ন এই সড়কটি সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন প্রসস্থ্য করেন। সড়কটিতে ভ্রাম্যমান ব্যাবসায়ীরা সব সময় দখলে রাখেন। এমনি তারা পজেশন বিক্রি করেন লাখ লাখ টাকায়। যারা ক্রয় করেন তাদের কোন কাগজপত্র কিংবা দলিলপত্র দেয়া হয় না। শুধু মৌখিকভাবে তারা দখল বুঝে ব্যবসা চালিয়ে যান। তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় স্টীমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ি নিচ্ছেন না কোন ব্যবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে সড়কটির দুইপাশে ৩০ থেকে ৩৫টি ভাসমান বেল্ট এবং শীতবস্ত্রের দোকান। সূত্র জানিয়েছে, আর আই জাহাঙ্গীর ওমাসুদ নামের এক ব্যবসায়ী প্রথম স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেলের কাছে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে রাস্তার পাঁচ হাত জায়গা। এরপরে স্থানীয় চা বিক্রেতা তালই’র পুত্র নবীনের কাছ থেকে চার হাত জায়গা ৪০ হাজার টাকায় ক্রয় করে রাসেল। এভাবে চা এর খোকনের চায়ের দোকান ১৭ হাজার টাকায় ক্রয় করেন রাকিব। পরে রাকিব ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন আমজাদের কাছে। আমজাদ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন আমিরের কাছে। রাজিব এক লাখ টাকায় রাসেলের কাছে বিক্রি করেন তার দোকান। গত সোমবার ৪০ হাজার টাকায় ইব্রাহিম নামের এক দোকানি রাসেলের কাছে ৩ হাত জায়গা বিক্রি করেন। এভাবে চলতে শুকু করে রাস্তা বিক্রির খেলা। রাস্তা ক্রয়ের মহানায়ক হলেন রাসেল। এর মধ্যস্থায় রয়েছে আর আই জাহাঙ্গীর হোসেন,তিনিই প্রথম লাখ টাকায় রাস্তা ক্রয়ের অফার দেন রাজিবকে। এরপর থেকেই ক্রয় বিক্রয়ের প্রথা চালু হয় ওই রাস্তায়। জেলা প্রশাসক বারবার রাস্তাটি পরিস্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি তারা। এ ব্যাপারে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হর্কাস মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস বলেন, রাস্তাটি পরিস্কারের জন্য জেলা প্রশাসক তাদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তখন তারা সিটি কর্পোরেশনকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। তাদের কোন শেল্টারে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাস্তা পরিস্কারের বিষয়টি হচ্ছে একান্ত সিটি কর্পোরেমনের ব্যাপার। রাস্তাটি পরিস্কার হোক সেটা তারাও চান। এ ব্যাপারে স্টীমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিএসআই মনির হোসেন বলেন, রাস্তা পরিস্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। আপনাদের ছত্রছায়ায় চলছে রাস্তা বিক্রি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি মিথ্যা। যদি এ রকম কোন বিষয় হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালিত হয়। এরপরে হয়ত বসছে তারা। রাস্তা পরিস্কারের জন্য পুনরায় অভিযান চালানো হবে। রাস্তা বিক্রির বিষয়টি তার জানা নেই।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 303 বার