April 16, 2018 7:18 pm A- A A+

বরিশালে কোচিং সেন্টারের আড়ালে দেহব্যবসা: পরিচালকের স্ক্যান্ডেল ফাঁস!

অন-লাইন ডেস্কঃ

সরকারি বিধান উপেক্ষা করে নগরীতে চলছে কোচিং ব্যবসা।নানান অফার আর ভালো রেজাল্টের প্রলোভনের ফাঁদে দিশেহারা অবিভাবকরা।কোনটা ছেড়ে কোন কোচিংয়ে ভর্তি করাবেন তার শিশুটিকে সেটা নিয়েই ভাবনায় পার হয়ে যায় সারা মাস।কোচিংয়ে ভালো লেখাপড়া হোক বা না হোক ব্যানারে সফলতা দৃশ্যমান। বিভিন্ন সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময়ে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।সরকার থেকে জানানো হচ্ছে কোচিংয়ে শিক্ষা চেয়ে অপশিক্ষা বেশি হচ্ছে।এগুলো বন্ধ করারও চিন্তা করছে প্রশাসন।এরমধ্যে বরিশালে শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারের নারী পরিচালকের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে,বরিশাল নগরীতে কোচিং সেন্টারের কার্যকলাপ নিয়ে।যদিও ওই স্ক্যান্ডেলটি কোচিং সেন্টার পরিচালকের পরকীয়া প্রেমিকের সাথে বলে জানা গেছে।।কোচিং সেন্টারটির নাম‘তৃপ্তি কোচিং সেন্টার’।
অভিযোগ রয়েছে কোচিং ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন যাবত দেহব্যবসা চালানো হচ্ছে এখানে।আর এই আলোচনা এখন‘টক অব দ্য টাউন’।সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বিভিন্ন শ্রেনী পেশার পুরুষের মুঠোফোনে ভাইরাল হয়ে গেছে ভিডিওটি।এমনকি ওই কোচিং সেন্টটারের শিক্ষার্থীদের অবিভাকরাও জেনেছেন অনেকে। তারা তাদের শিশুদের কোচিং সেন্টারে যাওয়া থেকে বিরত রেখেছেন।এমন কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সচেতন মহল।এমন বাস্তবতায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধে দ্রুত জেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।জানা গেছে,হাসপাতাল রোড হ্যাপি নিবাস লাগোয়া ও বগুড়া রোড এলাকায় ‘তৃপ্তি কোচিং সেন্টার’ নামে দুটি শাখা পরিচালিত হয়ে আসছে।এর পূর্ব নাম ছিল‘অক্সফোর্ড কোচিং সেন্টার।’ মূলত কোচিং সেন্টারটির দুটি শাখাতেই সমানতালে দেহব্যবসা চালিয়ে আসছেন ওই নারী পরিচালক।অভিযোগ রয়েছে,কোচিং সেন্টার পরিচালক চল্লিশউর্ধ্ব নারী অন্যান্য শিক্ষকদেরও এই ব্যবসায় পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।সম্প্রতি কয়েকজন তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের কোচিং থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।কোচিং সেন্টারের অন্তরালে এই ব্যবসা করে তিনি অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।আর ওই ভিডিও চিত্রটি ফাঁস হওয়ার পরে কোচিং সেন্টারে দেহব্যবসার পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেল।১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে আপত্তিকর অবস্থায় কোচিং মালিকের সাথে এক যুবককে দেখা গেছে।ধারণা করা হচ্ছে, কোচিং সেন্টারটির ভেতরে বসে এক যুবকের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সময় কেউ জানালার পাশ থেকে পুরো বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে,অসামাজিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়া ওই যুবকের নাম সুবজ।তার বাড়ি শহরের নথুল্লাবাদ এলাকায়।তিনি প্রায়ই কোচিং সেন্টারটিতে এসে পরিচালকের সাথে সময় কাটিয়ে যান।সবুজ রাজশাহীতে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করেন।কোচিং সেন্টারটির দুটি শাখায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে,আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হওয়ার খবরে দুটি শাখার শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।অনেক অভিভাবক তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি করছেন।এমতাবস্থায় ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গোপন রাখতে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে অফিসে দেখা করতে বলেন।এদিকে অভিযুক্ত সবুজের মুঠোফোনে শতাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।বরিশাল জেলা প্রশাসক মো.হাবিবুর রহমান বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।পরবর্তীতে তদন্ত করে এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে কোচিং সেন্টারটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 1146 বার