April 25, 2018 6:03 pm A- A A+

দল-মতের উর্ধ্বে থেকে পুলিশকে পুলিশ হিসাবেই মনে করেন বিএমপি কমিশনার এস.এম রুহুল আমিন

অণ-লাইন ডেস্কঃ

মঈন তুষারঃ
সেই আমলের কোতোয়াল থেকে কোতোয়ালী থানা। কোতোয়াল অপরাধীদের কতল করতেন।সেই কোতোয়াল নামের আতঙ্ক কাটাতে অন্যতমভাবে বলা হয় পুলিশ জনগনের বন্ধু।কিন্তু কাজীর গরুতো কেতাবে থাকলে চলবে না,গোয়ালেও থাকতে হবে।সারদেশে যে ক’জন পুলিশ কর্মকর্তারা নিরলস অনুশীলনের মাধ্যমে,সততা এবং সাহসিকতার দ্বারা কর্তব্য পালন করে অনুকরনীয় ভূমিকায় অবতীর্ন তার মধ্যে বিভাগীয় শহর বরিশাল মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনকে শীর্ষ সারির একজন বললে বেশী বলা হবেনা।পুলিশ থাকতে অপরাধ হয় কিভাবে?এটা মূর্খের প্রশ্ন।যে কোন অপরাধ হয় সমাজবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের আওতায়। পুলিশের কাজ অপরাধবিজ্ঞানের আওতায় তদন্তপূর্বক অপরাধীকে আদালতে সোপর্দ করা।পুলিশ বিভাগ মানে শাসন বিভাগ,আদালত মানে বিচার বিভাগ।বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিকতায় এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করেছেন বিদায়ী পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন।তিনি দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর আসামী গ্রেপ্তার,থানা থেকে আদালতে কথিত অসামীকে আদালতে প্রেরন,জামিন না হলে তাকে কারাগারে প্রেরন এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে পালন করতে তিনি শুধু নিরলসই থাকেননি বরং ইভটিচিং,মাদক নিয়ন্ত্রন, বাল্যবিবাহ, অবৈধঅস্ত্র, সন্ত্রাসী দৌড়াত্ম্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে তিনি তার পুরো ডিপার্টমেন্টসহ ছিলেন জিরো টলারেনেস॥ তার কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়েছে অপরাধ দমনে কি ধরনের বাধাঁর সম্মুখীন হচ্ছে ডিপার্টমেন্ট।জবাবে তিনি একটু কষ্ট এবং অসহায়ের হাসি দিয়ে বললেন, কম হলে পাহড়সম বেশী হলে পর্বতের চেয়েও।অসামী ধরতে গেলে পুলিশের উপর সশস্ত্র হামলা হয়,খুন জখমের ঘটনাও ঘটে। অথচ একজন সিভিলিয়ান চাইলেই ধার করা অস্ত্র দিয়ে হলেও আঘাত করতেই পারে কিন্তু চাইলেই কি কোন পুলিশ সদস্য তার কাছে রক্ষিত বৈধ হাতিয়ার ব্যবহার করতে পারে? পারেনা।এই না পারাটা অবশ্যই মানবতার ভাষা।অথচ এই মানবতা দেখাতে গিয়ে কত পুলিশ সদস্য অফিসারগন যে নিহত,পঙ্গু সেসব কথা কোথায় কে লিখে বলুন। তারপর ধরুন বাল্যবিবাহ, যৌতুক এসব ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক জন-সচেতনতামূলক প্রচারের,প্রসারের উপরই আমরা জোর দেই।অথচ মেয়ের বাবা যেচে যৌতুকে উৎসাহী হয়,লুকিয়ে অভিভাকরা বাল্য বিয়ে দিচ্ছে। আমরা সবকিছু প্রতিরোধ,ঠেকানোর কথা বলিনা। সেটা কোন সমাধান নয়। যার জন্য কমিউনিটিং পুলিশী সিস্টেমের উপর জোর দিয়েছি।এবং এর সুফলও জনগন পাচ্ছে বলে আমাদের বিবেচনা।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এক্সেপশন ইজ নট এক্সামপ্ল। ব্যতিক্রম কখনোই সার্বজনীন উদাহরন হতে পারেনা। দুজন বা ধরুন চারজনই পুলিশ তারা যে পদমর্যাদারই হোক না কেন দূনীর্তি করলে তার দায়ভার গোটা পুলিশ বিভাগ নিবে জবাবদিহীতার নৈতিকতার দ্বায়বদ্ধতার দরুন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ডির্পাটমেন্ট এর সাথে জড়িত। পুলিশ বিভাগ আবরোহী আরোহী কোন যুক্তিবিদ্যায় চলেনা যে,ছাগলে ঘাষ খায় আমরা ছাগল খাই অতএব আমরাও ঘাষ খাই। ডিপার্টমেন্ট চলে নৈতিকতা এবং আইনগত বৈধতায়।অভিজ্ঞমহলের মতে, এস এম রুহুল আমিনের মত একজন পুলিশ অফিসার যদি সমস্ত বিভাগে থাকতো তবে অপরাধে এবং অপরাধীদের সংখ্যা খুব সম্ভব আঙ্গুলের কড়ে গোনা যেতো।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 131 বার