April 25, 2018 7:56 pm A- A A+

মাতৃত্বকালীন ভাতায় ঘুষ আদায়!

অণ-লাইন ডেস্কঃ
বরগুনায় দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতায় ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতাভোগীরা অভিযোগ করেন মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করতে ইউপি সদস্যকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত হয় না। ইউপি সদস্যরা টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে টাকা দিতে হয় বিধায় ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছি।আমতলী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১ হাজার ৩২৪ জন দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতার নাম তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে ৯২৪ ও পৌরসভায় ৪০০ জন। প্রত্যেক প্রসুতি মা মাসে ৫’শ টাকা করে দু’বছরে ১২ হাজার টাকা ভাতা পান। বছরে দু ভাগে ছয় মাস পরপর এ ভাতা প্রদান করা হয়।
ভাতাভোগীরা অভিযোগ করেন, তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করতে ইউপি সদস্যকে ২০০০ হাজার ৩০০০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে ভাতার তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত হয় না। যারা টাকা দিতে পারে তারা মাতৃত্বকালীন ভাতা পায়। এতে প্রকৃত মাতৃত্ব ভাতাপ্রাপ্তরা বঞ্চিত হচ্ছে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে ঘুষ না দিলে ভাতা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ভাতাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিতে হচ্ছে। উপজেলার কুকুয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১৬০ জন ভাতাভোগীদের ভাতা প্রদানের কার্যক্রম চলছে।এ কার্যক্রমে সহযোগীতা করছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। ভাতা ভোগীরা জানান,ইউপি সদস্যকে ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য টাকা দিয়েছি, এখন আবার টাকা তুলে খরচ বাবদ ২ শ’ টাকা দিতে হবে। কুকুয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের শাহনাজ ও আয়শা বেগম সম্পা জানান, তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্তির সময়ে ইউপি সদস্য দেলোয়ার হাওলাদারকে ১ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছি। এদিকে কুকুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ দেলোয়ার হাওলাদার ঘুষ নেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করে নয়াদিগন্তকে বলেন,তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করতে হলে মহিলা বিষয়ক অফিসে টাকা দিতে হয়। ভাতার কাজ করতে বিভিন্ন খরচ বাবদ ১ হাজার টাকা নিয়েছি। হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান,মেয়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করার জন্য মহিলা ইউপি সদস্য মোসাঃ শাহানাজ বেগম পুস্পকে ১ হাজার ৫ শ’ টাকা দিয়েছি। ইউপি সদস্য মোঃ শাহানাজ বেগম পুস্প টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন,আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ সফিকুল ইসলাম টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্যরা আমাদের নাম বলে টাকা আদায় করার কথা শুনেছি। এবিষয়ে আমতলী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাঃ আফরোজা সুলতানা টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে নয়াদিগন্তকে বলেন,স্থানীয় ইউপি চেয়ারমান ও সদস্যরা আমাদের নাম বলে টাকা আদায় করছে একথা শুনেছি। তবে দরিদ্রদের ভাতা নিতে অফিসে কোনো টাকা দিতে হয় না।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 135 বার