April 27, 2018 8:38 pm A- A A+

ধনী-গরিবের বৈষম্য চরমভাবে বাড়ছে

অনলাইন ডেস্কঃ

দেশে বিদ্যমান বাজার অর্থনীতিতে ধনী-গরীবের বৈষম্য চরমভাবে বাড়ছে। কিন্তু বৈষম্য নিয়ে কোনো আলোচনা নেই।মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির তত্ত্ব থেকে বের হয়ে সমাজে সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন দরকার।রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে শুক্রবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় আলোচকেরা এসব কথা বলেন।সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের চালচিত্র’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা আয়োজন করে।সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন,ব্যক্তি মালিকানাধীন বাজার অর্থনীতিতে বৈষম্য থাকবেই।কিন্তু সেখানে একচেটিয়া শিল্প-ব্যাংক মালিক গড়ে উঠলে, রাষ্ট্রক্ষমতায় অসৎ আমলা-ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদের বন্ধন তৈরি হলে,রাষ্ট্রযন্ত্র দুর্নীতিগ্রস্ত হলে বৈষম্য তৈরি হবেই।সে বৈষম্য হবে চরম বৈষম্য।সর্বশ্রেষ্ঠ বৈষম্যের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি।গরিবের কাছে যাচ্ছে মোট জাতীয় আয়ের স্বল্প থেকে স্বল্পতর অংশ এবং ধনীদের কাছে যাচ্ছে অধিক থেকে অধিকতর অংশ।শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়ছে না।
এম এম আকাশ আরও বলেন,‘প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যদি শ্রমবান্ধব না হয়, তাহলে কপালে দুঃখ আছে। মুক্তবাজার ও চুইয়ে পড়া প্রবৃদ্ধির তত্ত্ব থেকে বের হয়ে আসতে ‘সমতাপূর্ণ প্রবৃদ্ধির’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রবৃদ্ধিকে এমন চরিত্রের হতে হবে, যাতে আগামী দিনগুলোতে ধনীদের আয় যে হারে বৃদ্ধি পাবে, তার চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি পাবে দরিদ্রদের।কিন্তু নতুন এই অর্জনের জন্য চাই ক্ষমতাবিন্যাস।নতুন ধরনের কোয়ালিশন এবং রাজনীতি।’সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেক বলেন,দেশে প্রচণ্ডভাবে বৈষম্য বেড়েছে।দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু গড় আয়টা কার? কারও আয় হাজার হাজার ডলার, কারও আবার দশ ডলার। এই গড়ের ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশ।শিক্ষাবিদ ও সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন,বাংলাদেশ যতটুকু এগিয়েছে,তাতে সরকারি নীতির কোনো দিগদর্শন কাজ করেনি। যেটা কাজ করেছে দেশের কৃষক-শ্রমিকের প্রাণান্ত পরিশ্রম,মাঠঘাট দেখলেই বোঝা যায়।শুধু তাজউদ্দীন আহমদের আমলের বাজেট ছাড়া আর কোনো বাজেটে দেশের আদর্শ উপযোগী কোনো কর্মকাণ্ড তিনি লক্ষ করেননি। এরপর যা হয়েছে, তা আমলাতান্ত্রিক বাজেট।
পুঁজিবাদী আর বাজার অর্থনীতিতে বৈষম্য হবেই উল্লেখ করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি আজও পর্যন্ত উন্নয়ন দেখিনি,প্রবৃদ্ধি দেখেছি। প্রবৃদ্ধি আর উন্নয়ন তো এক নয়।সমাজে সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন দরকার।’ তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি তো অর্থনীতিবিদদের হাতে নেই,আছে আমলাদের হাতে।অর্থমন্ত্রী কি অর্থনীতির মানুষ? তিনি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। তিনি কোনো দিনই অর্থনীতি পড়েননি। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। এখন শেখ হাসিনার আমলে অর্থমন্ত্রী।কাজেই বুঝতে তো পারছেন, অর্থনীতি যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁদের আদর্শটা কোথায়?রাষ্ট্রপতি সংসদে বলেছেন,সংসদে ৮৪ ভাগ সদস্যই ব্যবসায়ী।তাহলে রাজনীতি তো রাজনীতিবিদদের হাতে নেই।তো দেশটা চলছে কীভাবে?সরকার কি দেশ শাসন করে?সরকার ক্ষমতায় থাকে,শাসন করে না,শাসন করে সরকারের ভেতরে সরকার আছে, যারা দেশটাকে ছারখার করে।অর্থনীতিবিদ রমণী মোহন দেবনাথ বলেন, দেশে শুধু উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চারদিকে উন্নয়ন ছাড়া কিছু নেই। কিন্তু বৈষম্য নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ব্যাপক বৈষম্য হচ্ছে।তবে এর বিচার নেই।উচ্চবিত্তদের আলোচনায় বৈষম্য নিয়ে কোনো কথা নেই।তবে বাজার অর্থনীতির যুগে এর বেশি কিছু আশা করা যাবে না।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে যে জনসংখ্যাভিত্তিক মুনাফা(ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড)তা কাজে লাগাতে হবে।এটা তো চিরকাল থাকবে না,এরা বয়স্ক হয়ে যাবে একটা সময়।আবার দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে—এটাও কমাতে হবে।জনসংখ্যাভিত্তিক মুনাফার পুরোটা কাজে লাগাতে হলে কর্মসংস্থান করতে হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 262 বার