April 30, 2018 10:29 pm A- A A+

শাওনের জ্বালানী ও চালকবিহীন ফোর হুইলার প্রাইভেটকার

বানী ডেস্কঃ

জ্বালানি ও চালকবিহীন পরিবেশ বান্ধব প্রাইভেটকার আকৃতির ফোর হুইলার গাড়ি আবিষ্কার করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কলেজ ছাত্র মাহবুবুর রহমান শাওন।সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে গাড়িটি। একই সঙ্গে গাড়িটি স্বযংক্রিয়ভাবে নিজে থেকে অন্যকে সতর্ক করে দুর্ঘটনা এড়িয়ে সড়কে চলতে পারবে বলে দাবি করেছেন গাড়িটির নির্মাতা শাওন। গাড়িটি আট মিটার দূর থেকেই অন্য যানবাহন ও প্রাণীকে ফলো করে দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হবে।বাংলাদেশ প্লানেটর কলেজের রোবোটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাওন প্রায় ১ মাসের কঠোর শ্রমে সোলার সিস্টেমে জ্বালানি বিহীন এবং নিজ থেকেই র্দুঘটনা প্রতিরোধ সক্ষম এই গাড়ি তৈরি করেন। সফলভারে গাড়িটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কে।প্লাষ্টিক বোর্ড, লোহার এঙ্গেল, প্লাষ্টিকের গ্লাস, থাই গ্লাাস, পুরোনো অটো রিক্সার চাকা, সোলার প্যানেল, ব্যাটারী ছাড়াও কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটি তৈরী করা হয়েছে। কম্পিউটার প্রোগাম সেট করে চালকবিহীন চালনায় উপযোগী করা হয়েছে গাড়ীটিকে।শাওন জানান, সাধারণ ব্যাটারি দিয়ে চালনা করার গতি সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটারের বেশি ওঠেনি। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী হলে এর গতিবেগ আরো বাড়বে।পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের শাওন এলাকায় ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসাবে বেশ পরিচিত। ২০১৫ সালে সি-প্লেন তৈরি করে পরীক্ষামূলক আকাশে উড়িয়ে ও নদীতে ভাসিয়ে সবাইকে চমকে দেন। এছাড়া শাওন আবিষ্কার করেছেন সিকিউরিটি অ্যালার্ম, মোবাইলের ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, সেন্সর লাইট, স্মার্ট সুইস, মোবাইল সুইস, ড্রন বিমান ও মোবাইলের মাধ্যমে সুইস অন-অফ করার যন্ত্র ইত্যাদি।শাওনের মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে তার আবিষ্কৃত গাড়ি ও ইলেকট্রিকাল যন্ত্রপাতি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করে আধুনিক বিশ্বকে আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এ প্রযুক্তি বানিজ্যিকভাবে বাজারজাতের মাধ্যমে জ্বালানী সাশ্রয়সহ দেশও লাভবান হবে।শাওন জানান, ছোট বেলা থেকেই তার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ। লেখাপড়ার পাশাপাশি তার আবিষ্কারের প্রতি ছিল তার বিশেষ আগ্রহ। এ পর্যন্ত পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা ও বন্ধুদের উৎসাহ ছাড়া তার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। তার বাবা-মা সবসময় তাকে।নানাভাবে সহযোগিতা এবং উৎসাহ দেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমার আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি আধুনিকভাবে বাজারে সরবারাহ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবো। দেশ লাভবান হবে।শাওনের বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, শাওন ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার চেয়ে নানা যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করতো। তার খেলাধুলার অংশই ছিল আবিষ্কার। ছেলের এমন আগ্রহ দেখে তাকে বাঁধা না দিয়ে যখন যা চেয়েছে কিনে দিয়েছি। এখনও দিচ্ছি। তার এই কাজে সরকার এগিয়ে আসলে অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারবে শাওন।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 56 বার