May 6, 2018 10:28 pm A- A A+

সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখলে

অনলাইন ডেস্ক :

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সরকারি সুবিদখালীর মালিবাড়ি ও নয়াগাঙ্গলী খাল দু’টি অবৈধভাবে ভরাট করে বাঁশ,খুঁটি,পিলার দিয়ে কাঠের ঘর,চায়ের স্টল, এমনকি পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।খালগুলো ভরাটের কারণে এলাকায় বর্ষা মৌসুমে যেমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় তেমনি শুকনো মৌসুমে কৃষি জমি সেচের অভাবে অনাবাদি থাকছে।দখলদারদের কবলে পরে উপজেলার মানচিত্র থেকে খাল দু’টির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দখলদাররা পানি চলাচলের জন্য ৬-৭ ফুট করে খালের চিহ্ন রেখে বাকি খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করছে।এলাকাবাসী ও স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,প্রতিবছরই শুকনো মৌসুমে খাল দুটি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ফিতা দিয়ে মেপে চিহ্ন (লাল নিশান) দিয়ে গেলেও তা কয়েক দিনে মধ্যে অজ্ঞাত কারণে থেমে যায়।সম্প্রতি খাল দুইটি দখল মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসারের নিদের্শ মতে খাল দু’টি মেপে লাল নিশান দেওয়া হয়েছে।অথচ খাল দেখা যাচ্ছে দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসন বরাবরই নিরবতা পালন করে আসছে এবং খলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়,খালটি উপজেলার বেড়েরধন নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের উপর দিয়ে উপজেলা পরিষদের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশ দিয়ে সুবিদখালী আর,কে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাশদিয়ে শ্রীমন্ত নদীতে গিয়ে মিশেছে।এতে ২ কি.মি দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থ্য (স্থান ভেদে কম-বেশি) এ মালি বাড়ির খাল দিয়ে এক সময়ে নৌকা চলত। ব্যবসায়ীরা বড় বড় নৌকায় পণ্য আনা নেয়া করত।এর পানি সেচকাজে ব্যবহার করে কয়েক হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হত এ কথাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে এখন রুপকথার গল্প।সরেজমিনে দেখা যায়,সুবিদখালী আরকে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে এ খালটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে খালের কোন অস্তিত্ব নেই।যে যার মতো করে ভরাট করে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের দক্ষিণ পূর্বাংশে খালের অধিকাংশ জায়গা ভরাট করে সুবিদখালী হিযবুল্লাহ লাইব্রেরীর মালিক আব্দুস সালাম হাওলাদার,মো. হাবিবুর রহমান,মো. গফ্ফার মিয়া,মো. মাসুম পুলিশ,মো. শহিদ মৃধা পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন।এছাড়াও ওই বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে দেখা যায়,খালের জায়গা ভরাট করা হয়ে গেছে।সেখানে খালের জায়গা জুড়ে রয়েছে পাকা বসতঘর,সীমানা প্রাচীর,পাকা টয়লেট ও সেফটি ট্যাংক।এমনকি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (বর্তমানে পটুয়াখালী ভূমি অফিসে কর্মরত) মো. ফোরকান তহশিলদারও খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।এর মধ্যে দখলদার ব্যাংকার মোঃ আনোয়ার হোসেন তালুকদার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তির মধ্যে কিছুটা খালের অংশ থাকতে পারে।তবে সরকারি জমিতে আমার ঘর পড়ে থাকলে খাল দখলমুক্ত করার সময়ে আমি তা সরিয়ে নেবো।এ ব্যাপারে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন,খালদুটো অবৈধ দখলদাররা অনেকাংশ ভরাট করে ভোগদখল করছে।এ কারণে খালটি দিয়ে ন্যূনতম একটি সরু ড্রেনের পানিও নিষ্কাশন করতে পারে না।ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হয়।তাই খাল দুটো উদ্ধার করে স্থানীয় কৃষকদের বাচাঁনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. বেলায়েত হোসেন খালটির বেশির ভাগ জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন,খাল উদ্ধারে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কি করার আছে।উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহ্ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,কয়েকদিন আগে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার খালগুলো মেপে লাল নিশান দিয়েছে।অতিশীঘ্রই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল দু’টির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 41 বার