May 19, 2018 8:40 pm A- A A+

বরিশালে আমের নামে বিক্রি হচ্ছে বিষ!

বাণী ডেস্কঃ

ফলের রাজা আম।পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার ও সাহরিতে সুস্বাদু এ ফল তথা পাকা আমের কদর আগে থেকেই।তবে অপরিপক্ব ও আমে রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থের মিশ্রণ নিয়ে প্রতিবছরই প্রশ্ন ওঠে।জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু হতে না হতেই গ্রীষ্মের রসালো ফলে ছেয়ে গেছে বরিশালের আড়তগুলো।আম, লিচু ও কাঁঠাল মিলছে নগরীর অলিগলিতে।শনিবার (১৯ মে) বরিশালের বেশ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে,থরে থরে সাজানো রয়েছে আম,লিচু ও কাঁঠাল।অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন-গ্রীষ্মের ফল বাজারে পাওয়া গেলেও তা পরিপক্ক নয়।অপরিপক্ক ফল শরীরের জন্য ক্ষতিকর হবে। কিন্তু এখন এসব ফল হরদমে বিক্রি করছে বরিশালের ব্যবসায়িরা।তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান নয়।ফলে গ্রীষ্মের রসালো ফলে ছেয়ে গেছে গোটা নগরী।অপরিপক্ক ফল কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে বরিশাল ফলপট্টি এলাকার খুচরা ফল বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন,কি করমু ভাই,আমি যদি না বেচি পাশেরজন ঠিকই বেচব।পরে দেহা যাইবো বৌ-পুলাপাইন লইয়া আমারই না খাইয়া থাহা লাগব।সময়ের আগেই আম কী দিয়ে পাকানো হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে জাকির বলেন,ভাই,আমি জানমু কেমনে,এগুলো বড় ব্যবসায়ীরা জানে।নগরীর ফলপট্টি, পোর্টরোড এবং নতুন বাজার ঘুরে কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়।মৌসুমের আগেই বর্তমানে বাজারে আসা বেশিরভাগ ফলগুলো অপরিপক্ক স্বীকার করেছেন সবাই। কেউ আম খেতে পছন্দ করেন,কেউ লিচু আবার কেউবা কাঁঠাল।তিনটি রসালো ফলেরই বেশ কদর রয়েছে মানুষের কাছে।ফলগুলোর পুষ্টিগুণও অনেক।কিন্তু পছন্দের তালিকায় যার যেটাই হোক না কেন,রসনা তৃপ্ত করতে দাম দিয়ে কিনে যে ফলটা খাচ্ছে,সেটা নিরাপদ তো?সেই ফলের প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ঠিকমতো আছেতো?বর্তমানে বাজারে যে মৌসুমী ফল রয়েছে,সেটা এখনই না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে-সবজায়গায় যেসব মৌসুমী ফল দেখছেন এগুলো কৃত্রিকভাবে পাকানো হচ্ছে।এত তাড়াতাড়ি আম,লিচু ও কাঁঠাল খাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই,এই মৌসুমী ফলগুলো পরিপক্ক হয়ে বাজারে আসতে আরও ১০ থেকে ১২ দিনের মত লাগতে পারে।ধারণা নেওয়ার জন্য তারাও দুই একটি আম কিনে দেখেছেন।এগুলো সবগুলো ছিল আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম)ভাবে পাকানো এবং কম মিষ্টির।কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (বিজ্ঞানী) লুৎফর রহমান বলেন-কিছু ব্যবসায়ী সময়ের আগেই বাজার ধরার জন্য বেশি পয়সা পাওয়ার জন্য কিছু বুদ্ধিসুদ্ধি করে।আসলে দেখেতো বোঝার উপায় নেই কোনটাতে মেডিসিন দেওয়া আর কোনটাতে মেডিসিন দেওয়া না।তবে এখন না খাওয়াটাই শ্রেয়।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,আমে যে ধরনের পদার্থ(ফরমালিন)ব্যবহার করা হচ্ছে,তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।এতে মানুষের কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যায়।অথচ বাজারে এমন বিষেভরা আমে ছেয়ে গেছে।তারা বলেন,আমরা আসলে আম খাচ্ছি না। আমরা বিষ খাচ্ছি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 268 বার