May 21, 2018 7:47 pm A- A A+

নতুনবাজার ফিডার বিভাজন কাজে ধীরগতি,বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ গ্রাহক

এইচ এম হেলাল :

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোং ডিভিশন-২ এর নতুন বাজার ফিডার বিভাজন কাজে ধীরগতিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ প্রায় ৯ হাজার গ্রাহক।২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ফিডার বিভাজন কাজ শুরু হলেও এখনো সুফল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।যদিও কর্তৃপক্ষের দাবী বিভাজন কাজ শেষ।এদিকে ফিডার বিভাজন কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানা যায়।সূত্রে জানা যায়,ওজোপাডিকো ডিভিশন-২ এর আওতায় নগরীর নতুনবাজার ফিডারে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।এখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬ মেগাওয়াট,যার বরাদ্দও ৬ মেগাওয়াট।কিন্তু ব্রেকারের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট লোড হলেই ব্রেকার বন্ধ হয়ে যায়,শুরু হয় লোডসেডিং।দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকায় এ ফিডারের গ্রাহকদের মাঝে হতাশা শুরু হয়।তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো) নতুন বাজার ফিডারটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়।২০১৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয় ফিডার বিভাজন কাজ।বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ঘোষনা দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা সংযোগ বন্ধ রেখে বিভাজন কাজ শুরু করে।তখন গ্রাহকরা বিদ্যুৎ না পেলেও পরবর্তীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত পাবে এমন আশায় তা মেনে নেয়।তবে ছয় মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় এ ফিডারের প্রায় ৯ হাজার গ্রাহক অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।জানা গেছে,ফিডার বিভাজনের নতুন করে ৭৫টি পুল স্থাপন করা হয়েছে।পুলগুলোতে তার টানা শেষ হলেও ১১ কেভি ইন্সুলেটর দিয়ে সংযোগ দেয়া হয়।তবে ওই ইন্সুলেটরগুলো নিম্নমানের হওয়ায় সংযোগ চালু করার সাথে সাথেই তা কেটে যায়।যা পুনরায় চালু করতে বা পাল্টাতে কমপক্ষে আধাঘন্টা সময় লাগে এমনটি জানিয়েছেন দায়িত্বরতরা।যার প্রমানও পাওয়া গেছে রমজান শুরুর আগের দিন।ওইদিন সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে প্রথম বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।সকাল ৯টা নাগাদ পুনরায় সংযোগ চালু হলেও মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে আবারো সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।ওই দিন বিকাল ৩টার মধ্যে এভাবে কমপক্ষে ৮বার বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু হতে থাকে।বিকাল ৩টা নাগাদ সর্বোচ্চ ৪৯ মিনিট সংযোগ চালু ছিল।জানা গেছে,৫০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ১০/১২ জন শ্রমিক ফিডার বিভাজন কাজ করেছে।ফলে এই ধীরগতি।আর রমজান শুরু হওয়ার পরও বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রোজাদাররা।এ ব্যাপারে ওজোপাডিকো ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার বলেন,ফিডার বিভাজনের কাজ শেষ।কাজটি যেদিন বুঝিয়ে দেয়া হবে সেদিন তারা কাজ বুঝে রাখবেন।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ফিডার বিভাজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তাকে যা বলেন তিনি তা সাংবাদিকদের জানান।এ সময় তিনি ওই কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন,ফিডার বিভাজন কাজ শেষ হয়েছে।এখন টেস্ট করা হচ্ছে।আগামী ৭ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলেন তিনি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী তো আর মাঠে পড়ে থাকবেন না।সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার,ইঞ্জিনিয়ার এবং বিদ্যুত বিভাগের লোকজন সেখানে রয়েছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 60 বার