May 24, 2018 9:44 pm A- A A+

মাদক বিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ার আতঙ্কে মাদক ব্যবসায়ীদের দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা!

অনলাইন ডেস্কঃ

দেশে চলছে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা মাদক ব্যবসায়ীদের জেলা ভিত্তিক টপটেন তালিকার সঙ্গে পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,কোস্টগার্ডের তালিকার সমন্বয়ে চলছে এই সর্বাত্মক অভিযান।এক সপ্তাহের মধ্যেই মারা পড়েছেন ৪০ জনের উপরে মাদক ব্যবসায়ী।হঠাৎ প্রশাসনের এমন হার্ডলাইন অবস্থা দেখে মাদকের সাথে জড়িতরা যারপরনাই “ইয়া নফসি ইয়া নফসি” করছেন।কেউ কেউ দেশ ছেড়ে পালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।আর যারা কড়াকড়ির কারণে দেশ ছাড়তে পারছেন না তারা করেছেন আত্মগোপন কিংবা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলে থাকতে চাইছেন।জামিনের কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবছেন না তারা।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ-র‌্যাব সূত্র জানায়,৪ঠা মে থেকে মাদকবিরোধী অভিযান জোরালো ভাবে শুরু করে র‌্যাব,পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের সঙ্গে শুরু হয় মোবাইল কোর্ট।কয়েক মাস আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা মাদক ব্যবসায়ীদের জেলাভিত্তিক টপটেন তালিকার সঙ্গে পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,কোস্টগার্ডের তালিকার সমন্বয়ে এই অভিযান চলছে।এই তালিকায় প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে শীর্ষ ১০ জন করে মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে।অল্প কয়েকটিতে অবশ্য ১০ জনের কম নাম এসেছে।সারা দেশে ওই টপটেন তালিকায় ৬৫০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে আসে।এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ,এলিট ফোর্স র‌্যাব,সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এর মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।মাদক নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুরোধে একই কাজ করে থাকে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা,আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে বিশেষ করে র‌্যাব ও পুলিশ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক বিরোধী ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করে।এতে বিভিন্ন জেলায় এলাকাভিত্তিক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হতে থাকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো:জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন,প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর মাদকবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান চলছে।এখন পুলিশ ও র‌্যাব আইন মেনে অভিযান পরিচালনা করলে অনেকক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে।তারাও জবাবে আত্মরক্ষার্থে আইন মেনে প্রতিরোধ করতে গিয়ে গুলি ছুড়ছে।এতে কিছু মাদক ব্যবসায়ী নিহত হচ্ছে।এই ভয়ে জড়িতরা গা-ঢাকা দিতে বা পালাতে পারে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন,বন্দুকযুদ্ধের ভয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের আস্তানা এবং বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করছেন না।মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বিপুল সংখ্যক আসামি স্বেচ্ছায় ধরা দিয়ে কারাভোগ করছেন।আইনজীবীরা জানিয়েছেন,পলাতক আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে চাইছেন।কয়েক দিন ধরে আসামিরা সরাসরি আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন।কিন্তু তারা জামিনের আবেদনও করছেন না।তারা জেলে থাকতে চান।অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থাটির সহকারী পরিচালক খোরশেদ বলেন,ওই চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালানো হয়।কিন্তু তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।আবার মাদকের আয়ে ব্যাপক বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়া ইশতিয়াক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।এছাড়া গত কয়েকদিনে সাতক্ষীরাসহ একাধিক সীমান্ত দিয়ে বহু মাদক বিক্রেতা ভারতে পালিয়েছে।সীমান্তের ভারতীয় দালালদের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে লিয়াজোঁ করে তারা সে দেশে আত্মগোপন করছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 143 বার