May 28, 2018 5:04 pm A- A A+

সুদের ওপর ৫০ লাখ টাকা নিয়ে পালালো দম্পতি

বানী ডেস্ক:

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামে বাড়তি আয়ের প্রলোভন ও সুদের ওপর ৫০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে এক প্রতারক দম্পতি।তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে গ্রামের দুঃস্থ ও অসহায় ৩০-৩৫ জন নারী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন করে।নিজেদের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ওই দম্পতির হাতে তুলে দেয় ভুক্তভোগীরা।সোমবার সকালে প্রতারক দম্পতির পালানোর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতারিত নারী ও তাদের স্বজনরা ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে।এ সময় প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান,উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের রাসেল হাওলাদার ও তার স্ত্রী হাচিনা বেগম নিজ বাড়িতে গুরুর খামার ও কয়েকটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ এবং পান চাষ শুরু করে।ওই দম্পতি নিজবাড়িতে দোতল ভবন নির্মাণ করে।ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জমি কেনার কথা বলে একই গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ ৩০-৩৫ জন নারীকে সুদের প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই মাসে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।প্রতারিত ওই গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী নুর নাহার বেগম জানান,দেড় মাস আগে একদিন সকালে রাসেল ও তার স্ত্রী হাচিনা তার বাড়িতে আসে।মাদারীপুরে জমি কেনার কথা বলে এক লাখ টাকা সুদের ওপর চায় তারা।টাকা পাবো কোথায় বললে স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা দিতে বলে।সেই সঙ্গে সুদের প্রলোভন দেখায়।সরল বিশ্বাসে দুই ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে ৬০ হাজার টাকা তাদেরকে দিই।এর কয়েকদিন পর তিনটা সমিতি (এনজিও) থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ তুলে মোট ৩ লাখ টাকা দিই তাদের।খাঞ্জাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী শিপ্লী বেগম,দুলাল মৃধার স্ত্রী রেশমা বেগম,হারুন মৃধার স্ত্রী সেলিনা বেগমসহ অনেকে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ওই দম্পতির বিরুদ্ধে।খলিল হাওলাদারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,স্বামীকে না জানিয়ে রাসেল ও হাচিনা এনজিও’র কিস্তি ও সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়ার শর্তে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে দিই।দুই কিস্তি দেয়ার পর ওরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।স্বামী জানতে পেরে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে আমাকে।টাকা না দিতে পারলে তালাক দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হাচিনা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।তার স্বামীর ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আলম সেরনিয়াবাত বলেন,এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে লোকমুখে প্রতারণার বিষয়টি শুনেছি।গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির বলেন,এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 218 বার