June 1, 2018 8:54 pm A- A A+

কলাপাড়ায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে মাদকের ‘গডফাদার’ শঙ্কিত শিক্ষার্থীর অভিভাবক

বানী ডেস্ক:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে মাদক সেবন ও সরবরাহকারী গ্রেফতার হলেও ধরা পড়েনি কোন গডফাদার।ফলে সাগরপাড়ের জনপদ মাদকের ভয়াল আগ্রাসনে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা শঙ্কিত রয়েছেন।ইয়াবা-গাঁজার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া শহর কিংবা গ্রাম,এমন কোন জনপদ নেই যেখানে মাদকের ছোবল হানা দেয়নি।পুলিশ-র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযানে ইতোপূর্বে অর্ধশত বিক্রেতাসহ সেবনকারী গ্রেফতার হয়।কিন্তু এর নিয়ন্ত্রক গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদকের ছোবল থামছে না।জানা গেছে,মাদকের ভয়াল গ্রাস রোধে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন।সড়কের পাশাপাশি বর্তমানে ইয়াবাসহ মাদকের নতুন রুট হচ্ছে সাগরপথ।আলীপুর-মহীপুরে মাছ ধরার ট্রলারে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার একটি সংঘবদ্ধচক্র স্থানীয় গডফাদারদের প্রত্যক্ষ শেল্টারে ইয়াবার ব্যবসা চলছে।মাদক নির্মূলে পেশাদার চোলাইমদ উৎপাদনকারী রাখাইনচক্রের মহিলাসহ চারজনকেও পুলিশ গ্রেফতার করে বিপুল পরিমান মদ জব্দ করে।পূর্ণ সফলতা না আসলেও এই অভিযানে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।সম্প্রতি কলাপাড়া পৌরশহরের মুসলিমপাড়া মহল্লায় গোয়েন্দা ও কলাপাড়া থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ফিরোজ হাওলাদার নামে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।এসময় ২৩০৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।ফিরোজের সহযোগী মোহাম্মদ আলী,আপেল বড়ুয়া,দিলদার মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।এদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে।এছাড়া আলীপুর বন্দর থেকে ৩৯৫০ পিস ইয়াবাসহ ফাতেমা আক্তার সানজিদাকে (২৭) পুলিশ গ্রেফতার করার পরে এ তথ্য বেরিয়ে আসছে।ফাতেমার দেয়া তথ্যমতে ইয়াবা পাচারের হোতা চিটাগংএর এক ট্রলার মাঝি আবুল হোসেন।আবুল হোসেন ও ফাতেমার বাড়ি কক্সবাজার হলেও তারা দীর্ঘদিন আলীপুর বন্দরে বসবাস করে আসছে।ফাতেমার স্বামী সৈয়দ হোসেন একজন জেলে।তারা আলীপুরের ব্যবসায়ী পান্না মোল্লার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছে।স্থানীয় এসব ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী কিংবা বিক্রেতাদের সঙ্গে উখিয়া টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।সূত্র জানায়,বেশ কিছু বহিরাগত স্থানীয় গডফাদারদের শেল্টারে কলাপাড়ায় ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে।গত বছর ১৫ আগস্ট সকালে আলীপুরে শেখ রাসেল সেতুর টোলঘরের সামনে থেকে পুলিশ আলমগীর ওরফে জামাই আলমগীরকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে।ভাড়াটে হোন্ডা চালক হিসেবে পরিচিত আলমগীরের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।আমখোলাপাড়ায় খানাবাদ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বিয়ে করে ইয়াবার ব্যবসা চালাচ্ছে।কলাপাড়া ও মহিপুর থানার তথ্যমতে প্রতিমাসে দুই থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৪/১৫টি মামলা হয়।গ্রেফতার হয় গড়ে অন্তত ৩০ জন।নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়,কলাপাড়া সদর মহিপুর-আলীপুর,কুয়াকাটা,বালিয়াতলী,বানাতিপাড়া,ডালবুগঞ্জ, বাবলাতলা,চাপলী,লক্ষ্মীর বাজার,পাটুয়া,দেবপুর,পায়রা পোর্ট এলাকা,রজপাড়া,নাচনাপাড়া,চৈয়াপাড়া চৌরাস্তা,শেখ কামাল সেতুর সংযোগ সড়ক এলাকা,পাখিমারা বাজার,হাজীপুর স্ট্যান্ড,ছোট বালিয়াতলীসহ অসংখ্য স্পটে ইয়াবা-গাঁজাসহ মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলছে।পুলিশ-র্যাবের খাতায় তাদের রয়েছে তালিকা।তবে নতুন নদী পথের এ রুট বন্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মানুষ।কলাপাড়া থানার ওসি মো:জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,মাদক নির্মুলে তাদের চলছে নিত্য অভিযান।যে কোন মূল্যে মাদক ব্যবসা নির্মূল করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 72 বার