June 2, 2018 6:24 pm A- A A+

অশান্ত মৌসুমেও বরিশালে চলছে অনিবন্ধনকৃত স্পীডবোট

বানী ডেস্কঃ

নৌ নিরাপত্তার তথ্য মতে প্রত্যেক বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া।এটি অশান্ত মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত।বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত মেরিন মার্কেন্টাইল ডিপার্টমেন্ট-চট্রগ্রাম ও নৌ পরিবহন অধিদফতর সার্ভে সনদ প্রদান করলেই নদী/সমুদ্রে চলাচল করতে পারবে নৌযান।কিন্তু তার কোন তোয়াক্কাই করছে না বরিশালের স্পীডবোট মালিকরা।স্থানীয় হলুদ সাংবাদিক,প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা ও ক্ষমতাশীনদের প্রভাবে বছরের পর বছর দিন-রাত চলছে স্পীডবোট।গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,বিগত বছরগুলোতে কমপক্ষে ১০জন করে লোক মারা গেছে স্পীডবোট দুর্ঘটনায়।ওদিকে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে চলাচলে।পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও বছরের পর বছর পার হলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।নৌ পরিবহন অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিদর্শক নূরুল করিম বলেন,আমার জানা মতে বরিশালের নৌরুটে ১৫টি স্পীডবোট চলাচলের লাইসেন্স রয়েছে।তিনি বলেন,কেউ লাইসেন্স করতে না আসলে তো আমি বাসায় বাসায় গিয়ে বলব না স্পীডবোটের লাইসেন্স করেন।বাকিরা কিভাবে চলে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,১৫টির বাইরে আর কোন স্পীডবোট চলে কিনা তা আমার জানা নাই।অথচ জানা গেছে,বরিশাল-ভোলা,লাহারহাট-ভোলা,বরিশাল-মেহেন্দীগঞ্জ এবং মীরগঞ্জে সব মিলিয়ে ২শতাধিক স্পীডবোট চলাচল করে।যারমধ্যে মাত্র ১৫টির সনদ রয়েছে।অর্থাৎ ১৮৫টি স্পীডবোটই চলছে অবৈধভাবে।বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন,নৌ পরিবহন অধিদফতরের দায়িত্ব পরিদর্শণ পূর্বক সার্ভে সনদ প্রদান করা।কিন্তু গাফিলতির কারনে সনদ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না।স্পীডবোট মালিক ও চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,সরকারি অফিসে জানিয়ে এবং মাসিক নির্ধারিত টাকা দিয়ে তারা স্পীডবোট চালান।চালকদের দেওয়া তথ্য মতে,দৈনিক একটি নির্ধারিত টাকাও দিয়ে থাকেন তারা।এর তালিকায় রয়েছে,সংশ্লিষ্ট নৌথানা,নৌ পরিবহন অধিদফতরের পরিদর্শক,মহানগর আ.লীগের কতিপয় নেতা,চারটি পত্রিকার মালিদের এই টাকা প্রদান করেন।অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও ধারণা করা হচ্ছে অশান্ত মৌসুমে দিন-রাতে চলাচল করায় বড় কোন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে স্পীডবোট।যদিও নৌ চলাচল বিধি ২০০১ এর বিধান মতে‘কোন অনিবন্ধিত জাহাজ বা নৌকা বিআইডব্লিউটিএ বা বিআইডব্লিউটিসির অবতরণ স্টেশন বা ১ কিলোমিটার চাইতে নিকটতম ঘাট হইতে যাত্রী লইতে কিংম্বা নামাতে পারবে না।’কিন্তু বরিশাল-ভোলা-লাহারহাট বিআইডব্লিউটিত্র ও বিআইডব্লিউটিসির নৌ টার্মিনালের (লঞ্চ অবতরণ স্টেশন) ১ কিলোমিটারের মধ্যে আইন উপেক্ষা করে অনিবন্ধিত ট্রলার ও স্পিড বোট চলাচল করছে।জানা গেছে,অবৈধ অথচ বেপরোয়া এই স্পিডবোট সার্ভিস রোগী অনা-নেয়া এবং জরুরী কাজে ব্যবহৃত হয়।এমন কারণ দেখিয়ে বরিশালের চারটি রুটে স্পীডবোট চলাচল করে থাকে।নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন,অবৈধ স্পিডবোট চলাচল বিআইডবি¬উটিএ কোন ভাবেই সমর্থন করে না।বন্ধের জন্য দফায় দফায় স্থানীয় প্রসাশনের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে।কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।মূলত এটি চলছে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।বরিশাল নদী বন্দর স্পিডবোট ঘাট (ডিসি ঘাট) থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে প্রায় ৫০টি স্পিডবোট ছেড়ে যায়।বিআইডব্লিউটিএর কোনো রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও এসব বোট বরিশাল-ভোলা,হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ,পাতারহাটসহ অভ্যন্তরীণ নদী পথের ৮ থেকে ১০টি রুটে চলাচল করে।পাশাপাশি দক্ষিণের সব রুটে যাত্রী নিয়ে পারাপার করছে।জরুরি প্রয়োজনের অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি স্পিডবোটে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে উত্তাল নদী পথ।চলাচল করা এসব বোটে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট রাখে না।বরিশাল স্পিডবোট মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য মতে,সমিতির আওতায় ২৬টি এবং ভোলা স্পিড বোট সমিতির আওতায় ২৬টি চলাচল করে।বরিশালের ২৬টির মধ্যে ২০টি রয়েছে অবৈধ স্পিড বোট।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 140 বার