June 5, 2018 7:20 pm A- A A+

রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি’র অনুমোদন পেল এমপি ইউনুস!

বানী ডেস্কঃ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর আরো দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রস্তাব আকারে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছিল।দু’টিরই অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।এর একটি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায় ও অন্যটি বরিশাল শহরে স্থাপনের কথা বলেছেন উদ্যোক্তারা।ঢাকায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি’।এটি স্থাপনের অনুমোদন চেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হুসাইন নামের একজন ব্যবসায়ী।তিনি ক্ষমতাসীন দলের ঘরানা বলে ব্যবসায়ী মহলে অতি পরিচিত।আর অন্যটির নাম হচ্ছে ‘ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি’।এটির অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন বরিশাল-২ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি তালুকদার মো: ইউনুস।রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়ার ঘটনা এবং স্কুল-কলেজের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনকে নজিরবিহীন এবং একের পর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানকে ‘সম্পূর্ণরুপে কান্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সলর অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।তিনি বলেন,আর্থ-সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থানগত দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫-৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন-অনুমতি দেয়া প্রয়োজন।এর বাইরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তো রয়েছেই। কিন্তু এখন ঢাকায়ই রয়েছে ৪৯টির মতো।নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা এবং উচ্চশিক্ষার মান বজায় না রেখে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া ‘অ্যাবসোলিউটলি ননসেন্স ডিসিশান’-‘সম্পূর্ণরুপে কান্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত ’।এর পেছনে কোনো না কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।এর ফলে উচ্চশিক্ষার মান এবং উচ্চশিক্ষাকে মাটির সাথে মিটিয়ে দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই ধারণা হচ্ছে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার বর্তমান নৈরাজ্যের চিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ ভিসি বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি বিভাগ খোলার জন্য একজন অধ্যাপক থাকার বিধান রয়েছে বর্তমান সরকারের আমলেই সংশোধন করা আইনে।কিন্তু এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিভাগ রয়েছে,তার মধ্যে ‘ফার্মাসি’ বিভাগ এবং বিজনেস ও ম্যানেজমেন্ট ফ্যাকাল্টিতে কতজন অধ্যাপক রয়েছেন।খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কী?শিক্ষার প্রতি ন্যূনতম দরদ থাকলে অবিলম্বে শিক্ষক বিহীন এ সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বলেন,না হয় এ কথাই প্রতীয়মান হবে যে,অসৎ উদ্দেশ্যে এসবের অনুমোদন-অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।সর্বশেষ উক্ত দু’টিসহ দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৩ টিতে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে,সর্বশেষ ওই দু’টিসহ গত ছয় মাসে (জানুয়ারি’১৮ থেকে জুন’১৮ সময়ের মধ্যে) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে মোট সাতটি।জানুয়ারিতে অনুমোদন পায় রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ‘জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস’।গত এপ্রিলে দুই দফায় (১৮ ও ২৬ এপ্রিল) মোট চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়।এগুলো হচ্ছে,খুলনায় খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ১০ দিনের ব্যবধানে (২৬ এপ্রিল) অনুমোদন পায় আরো দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।এ দু’টি হচ্ছে বান্দরবানে ‘বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং রাজশাহীতে ‘শাহ মাখদুম ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়’।গত ৩ মে অনুমোদন পেল আরো দু’টি।অন্য দিকে সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ৩৭টি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 32 বার