June 7, 2018 8:34 pm A- A A+

বরিশালে যানজটে দুর্ভোগ চরমে

বানী ডেস্কঃ

অনুমোদনের চেয়েও তিনগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় বরিশাল নগরীতে যানজট লেগেই রয়েছে।বৈধ যানবাহনের পাশাপাশি বেপরোয়াগতিতে চলাচল করছে আলফা-মাহিন্দ্র,গ্যাসচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইক। অনুনমোদিত এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।ট্রাফিক বিভাগ যানজটরোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সুফল পাচ্ছেনা নগরবাসী।অপরদিকে সম্প্রতি মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীতে অবৈধ মোটরসাইকেল ঠেকাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।এরমধ্যে মোটরসাইকেলে চালকসহ দুইজন ও হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এ সুযোগটিকে পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেনীর মাদক ব্যবসায়ীরা।চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা হেলমেট দিয়ে মুখমন্ডল ঢেকে রেখে দিন-রাত রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলে ঘুরে মাদক বিক্রি করছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে,মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে বরিশাল নগরীসহ আশপাশের এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পরেছে।তারা নিজ নিজ এলাকায় পূর্বে প্রকাশ্যে যেভাবে মাদক বিক্রি করতো বর্তমানে তা সম্ভব হচ্ছেনা।তাই সেবনকারীদের কাছে মাদক পৌঁছে দিতে তারা নানা তৎপরতা চালাচ্ছে।নগরীর কাউনিয়া,টেক্সটাইল মোড়,আলেকান্দা,নথুল্লাবাদ,কাশিপুর,নাজিরমহল্লা,ভাটিখানা,কাউনিয়া প্রথম গলিসহ নগরীর আশপাশের এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা হেলমেট দিয়ে মুখমন্ডল ঢেকে অনায়াসে সেবনকারীদের কাছে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে।এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান,যারা হেলমেট পরে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান জানান,মেট্রোপলিটন এলাকায় যানবাহন চলাচলে সিটি কর্পোরেশনের পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের কথা থাকলেও আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি তা মানছে না।দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে পরিবেশবান্ধব ইজিবাইক চলাচল করলেও বরিশালে এর ব্যতিক্রম চলছে।সিটি এলাকার ২ হাজার ৬১০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।কিন্তু সিটি কর্পোরেশনকে পাশ কাটিয়ে বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগ ইচ্ছেমাফিক গণপরিবহন সীমিত সংখ্যক সড়কে পরিচালিত করায় নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে,একজন শ্রমিক নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহিন্দ্রা মালিক সমিতির সভাপতি হয়ে ক্ষমতাসীন দলের মহানগরীর প্রভাবশালী এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নগরীসহ জেলার সর্বত্র সড়ক এবং মহাসড়কে প্রায় সহস্রাধীক অবৈধ মাহিন্দ্রা পরিচালনা করছে।নগরীর নতুন বাজার এলাকায় সমিতির আওতাভূক্ত ওইসব মাহিন্দ্রা চালকের কাছ থেকে লাইনম্যান রেখে প্রতিদিন সমিতির নামে আদায় করা হচ্ছে চাঁদার টাকা।ফলে প্রতিনিয়ত শ্রমিকের ঘামে ভেজা অর্থে বেশ কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।অননুমোদিত এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই রয়েছে।এ কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 152 বার