June 8, 2018 7:09 pm A- A A+

বরিশালে ক্ষমতার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ সংযোগ॥বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বানী ডেস্ক:

নগরীর পুরনো জরাজীর্ণ ট্রান্সফরমারগুলোর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।ইতোমধ্যে নিয়মিত ক্যাবলসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি বিকল হচ্ছে।ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এখানকার পাঁচ লক্ষাধিক গ্রাহক।এরমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে জনবল,যানবাহন ও বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের সরঞ্জামাদির চরম সংকট থাকলেও তা সমাধানের নেই কোন উদ্যোগ।সূত্রমতে,জোড়াতালি দিয়ে চালানো দীর্ঘদিনের পুরনো ট্রান্সফরমারে নিয়মিত যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে প্রচন্ড গরমেও নগরবাসীকে দীর্ঘসময় বিদ্যুবিহীন অবস্থায় থাকতে হয়।সামান্য ঝড় কিংবা বৃষ্টি হলেই ভেঙে পরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা।সূত্রে আরও জানা গেছে,গত কয়েকদিনে এখানকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির আশপাশে অবস্থান করছে।এ অবস্থায় কখনো কখনো ঘন্টায় ৪/৫ বার লোডশেডিং চলছে।বিদ্যুৎ বিভাগের বরিশাল সদর ফিডারের ইনচার্জ প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম জানান,এখানকার বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত এসি ব্যবহারের কারণে ট্রান্সফরমারসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি বিকল হচ্ছে।তিনি আরও জানান,বিতরণ ট্রান্সফরমার সংকটের কারণে ধারণ ক্ষমতার অধিক বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ার কারণেও এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় ডিভিশন-১ ও ২ জোনের অধীনে প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রান্সফরমার রয়েছে।এগুলোর অধীনে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ এর ট্রান্সফরমার রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার।তাদের গ্রাহক সংখ্যা চার লাখ ৩৬ হাজার।বিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী,১০০ কেভিএ’র ট্রান্সফরমার দিয়ে সর্বোচ্চ ৭০ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।২০০ কেভিএ’র ট্রান্সফরমারে ১৪০ জন।সেই হিসেবে নগরীতে বিদ্যুৎ বিতরণ বিক্রয়ের দু’টি জোনে যে ট্রান্সফরমার রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া সম্ভব।অথচ বর্তমানে দু’টি ডিভিশনের অধীনে গ্রাহক ৯০ হাজার।গত তিন মাসে এ দুই ডিভিশনে চার হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি করা হয়েছে।এসব কারণে ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ লাইনে ক্রুটি দেখা দেয়ার পর পুরোটা লাইন অনুসন্ধান করে ক্রুটিমুক্ত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দীর্ঘক্ষন লেগে যায়।এসব সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি চালাচালি করেও অদ্যবধি কোন সুফল মেলেনি।যে কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই গ্রাহক সেবা দিতে হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী লাইনম্যানদের।ফলে নগর-গ্রাম উভয় শ্রেনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 47 বার