June 8, 2018 7:29 pm A- A A+

লঞ্চের টিকিট:নির্দেশনা মানা হচ্ছে না,৩৪ কাউন্টারের মাত্র একটি খোলা

বানী ডেস্ক:

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে লঞ্চগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ডেকের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশ মানছেন না লঞ্চ মালিকেরা।আজ শুক্রবার থেকে ৩৪ কাউন্টারে এসব টিকিট ছাড়ার কথা থাকলেও মাত্র একটি কাউন্টার বাদে সব কটিই বন্ধ দেখা যায়।এই ঈদে উন্নত ও নিরাপদ যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর আয়োজনে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের নতুন ভবনে ৫ জুন প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় আজ শুক্রবার ৩৪ টি কাউন্টার থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।তবে আজ বেলা ১১টার দিকে সদরঘাট টার্মিনালের গিয়ে দেখা যায়,লঞ্চের টিকিট বিক্রির ৩৪টি কাউন্টারের মধ্যে ডলার শিপিং কোম্পানির ৭ নম্বর টিকিট কাউন্টারটি শুধু খোলা আছে।বাকি কাউন্টারগুলো বন্ধ।বেশ কিছু কাউন্টারের সামনে যুবক-তরুণদের আড্ডা লক্ষ করা যায়।আর অগ্রিম টিকিট কাটতে আসা যাত্রীরা জানালেন বিভিন্ন অভিযোগ।ডলার শিপিং কোম্পানির এমভি বাগেরহাট-২ লঞ্চের কর্মচারী মো:কবির বলেন,‘সরকারের নির্দেশ ছিল,আজ শুক্রবার থেকে টার্মিনালের টিকিট কাউন্টার থেকে লঞ্চের ডেকের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করার।এ জন্য সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমাদের কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়।আমাদের লঞ্চের দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের পাঁচটি আর ডেকের তিনটি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।’ধানমন্ডি ৭ নম্বর এলাকা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক হারুন হাওলাদার বলেন,‘সরকার তিন দিন আগে ঘোষণা দিয়েছিল টার্মিনালের টিকিট কাউন্টার থেকে কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে।সেই অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় এসে দেখি টিকিট কাউন্টারে লোকজন নেই।অগ্রদূত প্লাস লঞ্চে গিয়ে টিকিট পাইনি।’তিনি বলেন,‘লঞ্চ মালিকদের ইচ্ছেমতো টিকিট বিক্রি করলে আমরা কীভাবে অগ্রিম টিকিট পাব।বাধ্য হয়ে তাই ভাবছি ১৪ জুন বাসে চলে যাব।এভাবে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করা ঠিক হচ্ছে না।’অগ্রদূত প্লাস লঞ্চের মাস্টার বিল্লাল হোসেন বলেন,‘১৩ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিন গত সপ্তাহে বুকিং হয়ে গেছে।কেবিন খালি না থাকলে আমরা কীভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করব?তা ছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের টিকিট লঞ্চের মালিক নিজেদের কাছে রেখে দেন।’হাতিয়াগামী লঞ্চের যাত্রী পোশাকশ্রমিক ইসমত আরা বেগম বলেন,‘ঈদ উপলক্ষে ১৫ জুন বাড়ি যাব।লঞ্চের ডেকের অগ্রিম টিকিট কেনার জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টার্মিনালে এসেছি।এসে দেখি একটিমাত্র টিকিট কাউন্টার খোলা আছে।সেটাও আবার অন্য রুটের।ভোলা রুটের দু-তিনটি লঞ্চে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি।কিন্তু টিকিট পেলাম না।’ তিনি বলেন,‘লঞ্চের কর্মচারীরা আমাকে জানিয়েছেন,১৫ জুন ডেকের টিকিট সেদিন লঞ্চে এসে নিতে হবে।আগে বিক্রি করার অনুমতি নেই।’হাতিয়াগামী তাসরিফ ২ লঞ্চের কেবিন ইনচার্জ ফজলুল হক বলেন,‘ঈদের আগে তিনটি ট্রিপ আছে।আমাদের লঞ্চের ১০৪টি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের সব কটি কেবিন ঈদের ১৫ দিন আগে বুকিং হয়ে গেছে।তাই আমরা টার্মিনালে টিকিট কাউন্টারে বসছি না।’লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও পারাবত লঞ্চের মালিক শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,যেসব কোম্পানি লঞ্চের অগ্রিম টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে না,সেই লঞ্চ মালিকদের বিরুদ্ধে সমিতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন,সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে যেসব লঞ্চের টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে না,সেসব লঞ্চ কোম্পানির তালিকা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতাদের জানানো হয়েছে।সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী লঞ্চ কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 16 বার