June 10, 2018 6:19 pm A- A A+

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বরিশালে আ’লীগ-বিএনপির ত্যাগী নেতাদের প্রভাব পড়তে পারে

এইচ.এম হেলালঃ

আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।এ লক্ষ্যে ১৮ জুন মনোনয়নপত্র বিক্রির দিন ধার্য রাখা হয়েছে।এদিন দলীয়প্রার্থী হিসেবে কে মনোনয়নপত্র ক্রয় করবেন তা এখনো সুস্পষ্ট নয়।এদিকে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় আ’লীগ-বিএনপির দু’দলের ভিতরে বইছে নির্বাচনের আমেজ।তবে শাসক দলটির মধ্যে নির্বাচনের উৎসব দেখা মিললেও এখনো বিএনপি থেকে তেমনটি লক্ষ্য করা যায়নি।গত শুক্রবার বিসিসি নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে হাইকমান্ড থেকে ঘোষনা আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রকাশ্য হয়নি।এর ফলে নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে দলটিতে।এর আগে বিসিসি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গত মাসের শেষের দিকে দলীয় নানা বিষয় নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে সাংগঠনিক বৈঠক করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড:মুজিবর রহমান সরোয়ার।তিনি ঐ বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসন এর কারামুক্তি আন্দোলন চালিয়ে যাবার পাসাপাশি সিটি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা উল্লেখ করেন।সেক্ষেত্রে যেসব ওয়ার্ডে দূর্বল কমিটি রয়েছে তা ভেঙে নতুন কমিটি করা ও বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেনা নির্দেশ দেন।কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা না পাওয়ায় মুখ খুলছেনা কেউ।তবে দু’দলের অংশগ্রহণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই ভাবছে নগরবাসী।অপরদিকে সূত্রানযায়ী জানা গেছে,ক্ষমতাশীন দলের একাধিক নেতা দলীয় প্রতিক পেতে তদবির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছে।পাশাপাশি নিজেদেরকে স্ব-স্থানে নেতাকর্মীদের কাছে অবস্থান তুলে ধরতে দলীয় কর্মসূচিগুলোতে অংশ নিচ্ছেন।আবার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করে যাচ্ছেন কেউ কেউ।এর মধ্যে রয়েছেন,মহানগর আ’লীগের নেতাসহ-সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাদ সাদিক আবদুল্লাহু,আ’লীগ নেতা কর্নেল (অবসর প্রাপ্ত) মো:জাহিদ ফারুক শামীম,মাহমুদুল হক খান মামুন।তবে খান মামুন দলের পাশাপাশি জনসেবামুলক কাজে গত কয়েক বছর ধরেই করে আসছেন।তার পাশাপাশি জাহিদ ফারুক শামীমও সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর আদর্শ ধরেই হেঁটেছেন তিনি।হিরনের মৃত্যুর পর সাদিক বরিশালে এসে দূর্বল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক কর্মকান্ড গতিশীল করে তুলেন।এজন্য এখনকার মহানগর আওয়ামীলীগ ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাছে সাদিক আবদুল্লাহকে একক প্রার্থী হিসেবে দাবি করে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে।সেই সুবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিসিসি নির্বাচনে সাদিক দলীয়প্রার্থী দাবি করে আসছেন তারা।কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিসিসি নির্বাচনকে ঘিরে বরারই বলেছেন দলীয় প্রার্থী সিদ্ধান্ত একমাত্র দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিবেন,তিনি প্রার্থীর নাম ঘোষনা করবেন।তবে যাকে প্রার্থীতা দেয়া হবে নির্বাচনে দলীয়ভাবে তার সাথে কাজ করে যেতে হবে।এমতাবস্থায় হঠাৎ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত করে ঘোষনা দেন নির্বাচন কমিশনার।এতে নির্বাচনের আমেজ দ্রুত ছড়িয়ে পরে বরিশালে।নিজেদের জনসেবায় আরো বেগবান করে তুলতে মাঠপর্যায়ে নেমে পরেছেন শাসকদলের একাধিক প্রার্থী।এদিকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা যতটুকু তার চেয়ে উপরোক্ত দুই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্তির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।এ দন্দ্বে স্বদল থেকেই আজ ত্যাগী নেতারা অনেকেই দূরে সরে রয়েছেন।একসময় রাজপথে আনন্দোলনে স্বরুপে অংশ নেয়া উভয় দলের সেইসব নেতাদের এখন রাজনৈতিক ময়দানে দেখা মিলছেনা।কেউ বা ব্যবসা বানিজ্য কিংবা বাসায় পরিবার নিয়ে দিনযাপন করছেন।এদের শূন্যতায় বিসিসি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছুটা হলেও ক্ষতিসাধন হওয়ার সম্ভাবনার কারন হতে পারে বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।বিশ্লেষকদের মতে,এমন পরিস্থিতি থাকলে নির্বাচনের আগে উভয় দলেরই উচিত নীতিনির্ধারকদের নিয়ে বসে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া।তা না হলে নির্বাচনে এ সকল নেতাকর্মীর ওপর বিরুপ প্রভাব পরতে পারে।বাংলাদেশ বাণীর অনুসন্ধানে বয়োজেষ্ঠ সিনিয়র ও তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতার নাম বেরিয়ে এসেছে।যারা একসময় আ’লীগ এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন,দলীয় স্বার্থে রাজপথে জীবন বাজি রেখে দলকে শক্তিশালী করেছেন।কিন্তু দলের সুসময়ে নেই এসব নেতার অবস্থান।বর্তমান সময়ে দলীয় কর্মসূচিতে তাদের নেই অংশ গ্রহণ।এদের মধ্যে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি মনিরুল হাসান খান মনির তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর ত্যাগের মূল্যায়নে বরিশাল সদর আসন থেকে নৌকা প্রতিকের মনোনয়নও পেয়েছিলেন।দলের দূঃসময়ে তার ভূমিকাও ছিলো উল্লেখ করার মতো।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাকে আর আগের মতো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায় না।এছাড়া সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খান,জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ার খান আলতাফ হোসেন ভুলু,জেলা আ’লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ আনিচুর রহমান,সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু,বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা তারিক বিন ইসলাম,বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সাবেক প্যানেল মেয়র নিজামুল ইসলাম নিজাম,অপর যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন,শাহিন সিকদার,সাবেক ভিপি কোতয়ালি আ’লীগের আনোয়ার হোসেন,হালিম রেজা মোফাজ্জল,অধ্যক্ষ ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীর,সাবেক পৌর মেয়র মাহাবুব আলম,আইনজীবী নেতা এড,আনিস উদ্দিন আহমেদ সহিদ,লস্কর নরুল হক,বরিশাল মহানগর শ্রমিকলীগ সভাপতি আফতাব হোসেন,ছাত্র নেতা মঈন তুষার,যুবলীগ নেতা মুনজে এলাহী দুলাল,স্বেচ্ছাসেবক লীগের খান মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু,বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুয়াল মাসুদ মামুন,মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসিম দেওয়ান,নাহিদ সেরনিয়াবাতসহ তাদের অনেক অনুসারী এখন আর সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না।অপরদিকে এক সময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকা মাহামুদ গোলাম ছালেক,আজিজুল হক আক্কাস,এডঃ মজিবর রহমান নান্টু,এডঃনাজিমুদ্দিন আহম্মেদ পান্না,কাউন্সিলর (বর্তমান) হাবিবুর রহমান টিপু,আলতাফ মাহমুদ সিকদার,সেলিম হাওলাদার,জাকির হোসেন জেলাল,সাবেক কাউন্সিলর আ,ন,ম সাইফুল আহসান আজিম,রইফুর আলম নোমান মল্লিক,সাবেক ছাত্রনেতা মনোয়ার হোসেন জিপু,কৃষকদলের আলতাফ হোসেন তালুকদারসহ অনেক বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকমিরা আগের মতো দলীয় কর্মসূচিতে সরব নেই।উল্লেখিত নেতাকর্মীদের বাইরেও অনেক নেতাকর্মী এখন আর দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেয় না।দলের প্রতি অনুগত এসকল নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিক ভাবে দল ত্যাগ না করলেও তারা রাজনৈতিক সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকছেন।এ ক্ষেত্রে অনেকেরই বক্তব্য হচ্ছে,রাজনীতি যেহেতু নেশায় পরিনত হয়েছে,রক্তের সাথে মিশে আছে।দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেই না সেজন্য কি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে মাঠে থাকবো না তা কি হয়।অনেকে আবার কোন এক সময় মূল্যায়িত হতে পারেন এই আশায় বুক বেঁধে রেখে দলের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেননি।কেউ আবার বর্তমান সময়ে রাজনীতি করার মতো কোন পরিবেশ নেই উল্লেখ করে বলেন,বড় কোন দলেই রাজনীতি ও গনতন্ত্রের চর্চা হয়না।তাই দলের ক্রান্তি সময়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখলেও দল তেমন কোন মূল্যায়ন করেনা বলেই অনেকে দলীয় কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকেন।অভিযোগ উঠেছে এ সকল ত্যাগী নেতারা দল থেকে দূরে থাকলেও পবিত্র রমজান উপলক্ষে দুই দলেরই অনুষ্ঠিতব্য ইফতার ও দোয়া মোনাজাতে অংশগ্রহণ চোখে পড়েনি।অনেক নেতারা অভিযোগ করেন তাদের দাওয়াত পর্যন্ত দেয়া হয়নি।এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।সম্প্রতি মহানগর আ’লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে গুটি কয়েক মিডিয়া কর্মীদের দাওয়াত দিয়ে তাদের সাথে ইফতার পালন করতে দেখা গেছে।কিন্তু যারা সত্য প্রকাশে অনড় থাকেন সেসব পত্রিকাকে অবমূল্যায়ন করে দাওয়াত দেয়নি উক্ত অনুষ্ঠানে।এতে অনেকাংশে গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড: গোলাম আব্বাস চৌধূরী দুলাল বলেন দল থেকে কেউ অনুপস্থিত থাকলে এতে কোন প্রভাব পরবে বলে আমি মনে করি না।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমাদের মত একটি বিরাট সংগঠনের এতে বিরুপ প্রভাব পরবে না।এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন,নেতা কর্মীদের অনুপস্থিত থাকার প্রভাব পরাটাই স্বাভাবিক।তবে বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারের কারনে মামলা,হামলা থেকে রেহাই পেতে অনুপস্থিত থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 25 বার