July 8, 2018 9:07 pm A- A A+

সাদিক-সরোয়ারের দৌড়ঝাঁপ

বানী ডেস্কঃ

বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ ৯ জুলাই।ফলে ছোটদলগুলোর প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার ও সমর্থন আদায়ে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। বরিশাল আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়,বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের মনোনয়ন প্রত্যাহার ও আওয়ামী লীগের নৌকার পক্ষে সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।সমর্থন পেতে শুধু স্থানীয় পর্যায়ের নেতাই নয়,জাপার কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।এছাড়া নৌকার পক্ষে সমর্থন পেতে ছোট-বড় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দল ও বরিশালের ২৭টি সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ।মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দলের মেয়র প্রার্থীর মুখপাত্র অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল জানান, বরিশাল সিটি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সমর্থন আদায়ে জাপার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।জাপার মহাসচিব বলেছেন বিষয়টি দেখবেন।বরিশালে জাপার সমর্থন পেলে বিজয়টা অনেক সহজ হবে। তাই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।তবে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুল বলেন,জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবছেন না।দল থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার বা অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।কেউ নির্বাচন করুক আর না করুক জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঐক্য প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে নেই বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। বিরোধী দল ও ছোট খাট বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থন আদায়ে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সরোয়ার। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সিলেটের মতো বরিশালেও বেঁকে বসেছিল জামায়াতের নেতারা। দুই মাস আগে জামায়াত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করাসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করলেও শেষ পর্যন্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা গেছে। ফলে বরিশালে মেয়র পদে প্রার্থিতা না করার সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। একইভাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক একেএম মাহবুব আলমকে বিসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দেন একেএম মাহবুব আলম। এরপর খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। কয়েক দফা বৈঠক শেষে সমঝোতার প্রেক্ষিতে শনিবার মেয়র পদ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন খেলাফত মজলিসের মেয়র প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম। বরিশাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জানান,বরিশালে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট এবং সমমনা দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। এদিকে, রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও বরিশাল সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র প্রার্থী নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। সিটি নির্বাচনে দল দুটি মেয়র পদে পৃথক প্রার্থী দেয়। তবে প্রার্থিতা নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে দফায় দফায় বৈঠক চলছে দল দুটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। দুই দলের মেয়র প্রার্থীই আশা করছেন, দ্বন্দ্ব নিরসন করে তারা একক প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে সমঝোতার পথেই হাঁটছেন। তবে দুজনের মধ্যে কে প্রার্থী থাকছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সিপিবির মেয়র প্রার্থী ও দলটির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, সমঝোতার জন্য আলোচনা চলছে।তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমি মেয়র প্রার্থী হওয়ার কথা বলেছি। ডা. মনীষা চক্রবর্তীর এখনও অনেক সময় রয়েছে। এছাড়া রংপুর আর সিলেটে আমাদের প্রার্থীরা বাসদের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। সে হিসেবে বরিশালে বাসদের ছাড় দেয়া উচিত। তার পরেও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। বাসদের মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন,ঐক্যের চেষ্টা চলছে। সিপিবিকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সিটি নির্বাচনে বাসদের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে। সমর্থন দিলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এখানে সিপিবির প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বাসদ। আশা করি, সিপিবি বিষয়টি মেনে নেবে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব অন্য ইসলামী দল ও আলেম সমাজকে নির্বাচনে পাশে পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি হেফাজতে ইসলাম আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে হুজুরের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি নির্বাচন করার জন্য অনুমতির পাশাপাশি দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই সব আলেম-ওলামাকে নিয়ে নগরীর জামেয়া ইসলামিয়া মাহামুদিয়া মাদরাসায় বৈঠক করেছি। এ নির্বাচনে বরিশালের আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ হবে।
প্রসঙ্গত, ৯ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীরা সশরীরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। ওইদিন বিকেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরদিন ১০ জুলাই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 54 বার