July 23, 2018 7:31 pm A- A A+

দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোতয়ালী থানার এসআই ক্লোজড,চাঁদাবাজির অভিযোগে ঝালকাঠির দুই এএসআই বরখাস্ত

বানী ডেস্কঃ

দায়িত্বে অবহেলার কারণে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আকরামুলকে বদলী করা হয়েছে।সোমবার বিকালে তাকে বদলী করে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দর থানায় সংযুক্ত করা হয়েছে।একটি সূত্রে জানা গেছে,সোমবার বিকালে বরিশাল নগরীর সদর রোডে মোবাইল ডিউটিতে ছিলেন এসআই আকরামুল ও তার টিম।এসময় নির্বাচনের আচারণবিধী লঙ্ঘন করে প্রাচার-প্রচারণা চালাচ্ছিল প্রার্থীরা।তিনি বাধা না দেয়া ও দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মূখপাত্র এসি নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন,দায়িত্বে অবহেলার কারণে এসআই আকরামুল হককে বন্দর থানায় বদলী করা হয়েছে।দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে এসি নাসির উদ্দিন মল্লিক ও কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলতে রাজি হননি।এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আকরামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তবে কি কারনে হঠাৎ বদলী করা হল সে বিষয়ে তিনি জানেন না।অপরদিকে
নিরাপরাধ এক ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগটির প্রমাণ মিলেছে ঝালকাঠি সদর থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিঠুন দাস ও সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিন্টু লালের বিরুদ্ধে।এই ঘটনায় তাদের দুইজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সোমবার (২৩ জুলাই) রাতে নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়েদুর রহমান।এর আগে
গত ২ জুলাই সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিঠুন দাসকে থানা থেকে ক্লোজড করা হয়েছিল।একই সাথে পুরো বিষয়টির তদন্তভার দেওয়া হয় ঝালকাঠি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম মাহমুদ হাসানকে।এই কর্মকর্তার তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (২২ জুলাই) রাতে তাদেরকে এসপির নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।প্রসঙ্গত,গত ১৪ জুন শহরের চামটা ব্রিজের পাশ থেকে পৌরসভার কর্মচারী ইয়াছিনকে এক সোর্সের মাধ্যমে ইয়াবা দিয়ে ধরে নিয়ে যান এএসআই মিঠুন দাস ও মিন্টু লাল।পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে পার্শ্ববর্তী একটি ইটের ভাটায় আটকে মারধর করে ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি দেখান দুই পুলিশ কর্মকর্তা।একপর্যায়ে বিষয়টি জনৈক এক কাউন্সিলরের মধ্যস্ততায় এক লাখ টাকায় সমঝোতা হলে কর্মচারী ইয়াছিন নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বন্ধক রেখে ওইদিন রাতেই টাকা পৌছে দেন মিঠুনে হাতে।এই বিষয়ে গত ৩০ জুন ভুক্তোভোগী ইয়াছিন মিডিয়ার কাছে মুখ খোলেন।পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ভিডিও সংবলিত ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এএসআইয়ের লাখ টাকা চাঁদাবাজি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে’।এতে শুরু হয় ঝালকাঠি পুলিশে তোলপাড়।যদিও বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার জোবায়দুর রহমান বলে আসছিলেন অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকলেন তিনি।’ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমানের ভাষ্য হচ্ছে-অপরাধ বা অপরাধীর সাথে আপোষ করার কোন সুযোগ নেই।অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট 75 বার